আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন বা ইউএনএইচসিআর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমের শেষ দিকে নতুন করে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে যাওয়ার জন্য বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা মুসলমান এবং বাংলাদেশি মানুষের ঢল নামতে পারে।
জেনেভায় শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র মেসিলা ফ্লেমিং এ হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
মেসিলা ফ্লেমিং বলেন, নতুন করে নৌকায় করে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেয়ার চেষ্টায় হন্যে হয়ে উঠবে রোহিঙ্গা মুসলমানরা। বর্ষা মওসুম শেষ হওয়ার আগেই দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া দরকার ।
জাতিগত সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গা মুসলমানরা বৌদ্ধ চরমপন্থীদের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে গত কয়েক বছর ধরে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশের দরিদ্র তরুণরা। মূলত উন্নত জীবন ও চাকরির প্রত্যাশায় তারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করতো। তবে মানবপাচারকারীরা এসব রোহিঙ্গা মুসলমান ও বাংলাদেশিদের থাইল্যান্ডের জঙ্গলে আটক রেখে স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করতো। চলতি বছরের শুরুর দিকে থাইল্যান্ডের একটি জঙ্গলে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপরই মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া। অভিযানে সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় কয়েক হাজার রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিকে। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া এসব হতভাগ্য শিশু-নারী-পুরুষদের আশ্রয় না দিয়ে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করলে এক ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মেসিলা ফ্লেমিং বলেন, জাতিসংঘ আশংকা করছে এক মাসের মধ্যে আবারো এ রকম পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। এ জাতীয় পরিস্থিতি এড়ানোর লক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আঞ্চলিক সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ইউএনএইচসিআরের হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৩১ হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান এবং বাংলাদেশি মানুষ নৌকায় বঙ্গোপসাগর পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করেছে। ২০১৪ সালের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৩৪ শতাংশ বেড়েছে । ২০১৪ সাল থেকে মোট ৯৪ হাজার ভাগ্যান্বেষী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর অতিক্রম করে অন্য দেশে পাড়ি জমানোর চেষ্টা করেছে। আর এ কাজ করতে যেয়ে এক হাজার একশর বেশি হতভাগ্য মানুষ সাগরে ডুবে মারা গেছে।

