স্পোর্টস ডেস্ক : কুমার সাঙ্গাকারা এখন অতীত। ক্রিকেট পরিসংখ্যানবিদদের আর মাথা নষ্ট করতে হবে না, কার রেকর্ড ভাঙবেন, কী রেকর্ড গড়বেন এমনটা ভেবে। সাঙ্গাকারের অবসরের কারণে অনেক আগেই বিশ্বমায়া ছেড়ে চলে যাওয়া স্যার ডন ব্র্যাডম্যানও নিজের রেকর্ড নিয়ে কবরে শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন।
সাঙ্গার বিদায়ে আর কারো সঙ্গেই বা তুলনায় উচ্চারিত হবে তার নাম। সত্যিকারের এক বীর সেনানীর মতো মাথা উঁচু করেই ২২ গজের উইকেটকে বিদায় করে দিলেন। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে ২২ গজে শাসন করেছেন ক্রিকেট বিশ্ব, ব্যাট হাতে যিনি লিখেছেন দারুণ সব মহাকাব্য, রচিত হয়েছে শ্রীলঙ্কার অনেক জয়ের গল্প। সাঙ্গাকারার জীবনটাই এক অদ্ভুত রকমের বিচিত্রময়। দারুণ এক ভদ্রলোক, জীবন্ত অলরাউন্ডার।
শুধু ঠান্ডা মাথার অশান্ত সেই ব্যাটিংশৈল্য আর দেখা হবে না তাবদ ক্রিকেটপ্রেমিদের। তবে গৌরবদীপ্ত এক ক্যারিয়ারের শেষটা অনেকে বিবর্ণ বলতেই পারেন- বড় ইনিংস না খেলতে পারার সুবাদে। শেষ টেস্টে দুটি ইনিংসে তার রান ৩২ ও ১৮। কিন্তু বর্ণিল ক্যারিয়ার তাতে ম্লান হচ্ছে না একটুও।
সাঙ্গার ক্যারিয়ারটা যে রংধনুর রঙে সাজানো তা শুরুটা দেখলেই বোঝা যায়। ১৯৭৭ সালে শ্রীলঙ্কার মাতালে জন্ম সাঙ্গার, মা কুমারী সুরঙ্গনা ও বাবা স্বর্ণকুমারা সাঙ্গাকারা। তার দুই বোন ও এক ভাই। আদরের সাঙ্গাকারা ছোট বেলা থেকেই ছিলেন অলরাউন্ডার। মাতালে জন্ম হলেও বেড়ে ওঠা অবশ্য ক্যান্ডিতে। স্কুল থেকেই ব্যাডমিন্টন, টেনিস, সাঁতার, টেবিল টেনিস ও ক্রিকেটের চৌকস এক খেলোয়াড়। ওই সময়েই ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিসে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ছোট্ট কুমার। বিদায় বেলায় সাঙ্গার কাকে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ছে এটা হয়তো তিনিই বলতে পারবেন। কিন্তু ত্রাইনীতি কলেজের অধ্যক্ষ লিওনার্দ ডি অ্যালউইসকে বিদায় বেলার বেলায় ভুলে থাকতে পেরেছেন?
এই লোকটাই তো সাঙ্গাকারার মাকে ডেকে বলেছিলেন ক্রিকেটেই মনোনিবেশ করলে সে ভালো করবে। শ্রীলঙ্কার স্কুল যে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেট শিক্ষালয়া সেটা অবশ্য কাউকে ভেঙে বোঝানোর প্রয়োজন হবে না। সেখান থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলীয় সাঙ্গার মজ্জে মিশে গেছে। উপানন্দ জয়াসুন্দরের অধীনে অনূর্ধ্ব-১৩ দলের হয়ে প্রথমবার স্কুল ক্রিকেটে নেতৃত্ব দেন তিনি। এরপর একে একে অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯-এ সাঙ্গাকার কোচ ছিলেন বার্টি বিজেসিংহে। ব্যাটিং ও উইকেটে কিপিংয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পুরস্কার স্বরূপ সব থেকে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ত্রিনীতি লায়ন পান এই বাঁ-হাতি। পেয়েছেন সর্বোচ্চ সম্মান বর্ষসেরা কলেজ অলরাউন্ডার হিসেবে রাইড গোল্ড মেডেল পুরস্কার।
১৯৯৮-৯৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সফরে সর্বপ্রথম শ্রীলঙ্কার ‘এ’ দলে সুযোগ পেয়ে যান। বাবার পথেই হাঁটছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করেই ‘এ’ দলের সফরের জন্য আইনজীবীর ডিগ্রিটা না শেষ না করেই যেতে হলো তাকে।
দুর্দান্ত অলরাউন্ডার থাকার পরও সাঙ্গার অভিষেক হয়েছে ২২ বছর বয়সে। ২০০০ সালে ১৫ জুলাই পাকিস্তানের বিপক্ষে গলে, ২০ জুলাই একই মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট ক্যাপ মাথায় দেন। টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৩ রান করে স্পিনার নিকি বোয়ের এলবিডাব্লুর শিকার হন তিনি। আর ওয়ানডে অভিষেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে করেন ৩৫। অসম্ভব প্রতিভা নিয়েই যে তিনি জাতীয় দলের ঢুকেছিলেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ত্রীদেশীয় সিরিজে ৮৫ রান করে সেটা দেখিয়ে দেন। শুরু হয় ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ হওয়ার গণনা। শুরুটা হয়েছিল গলে ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হলো পিসারা ওভালে। তিনি দেখিছেন আবেগটা যে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য। বাইরে দেখানোর নয়। শেষদিকে ব্যাটিংয়ে মন দিতে গ্লাভসও খুলে ফেলেছিলেন তিনি।
ক্রিকেট ক্যারিয়ারে সাঙ্গার সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দিনগুলো হয়তো বন্ধু মাহেলা জয়াবর্ধনেকে ঘিরেই। বন্ধু তুমি যুগে যুগে-কথাটার বাস্তব প্রতিফলন দেখিয়েছেন সাঙ্গাই। ছোট বেলা স্কুল থেকেই প্রিয় বন্ধু জয়াবর্ধনের সঙ্গে সব কিছুই শেয়ার করেছেন। মাঠ ও মাঠের বাইরেও যে তারা শ্রেষ্ঠ মানিক জোড়। এই তো গতবছরই মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে হারিয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাট থেকে দুই বন্ধু এক সঙ্গেই বিদায় নিলেন। ওয়ানডের বিদায়টাও হলো দুই বন্ধুর এক সঙ্গে বিপশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হেরে। ভারত ও বাংলাদেশ তাকে মনে রাখার বেশি উপলক্ষ এনে দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি সাফল্য বাংলাদেশের বিপক্ষে। আর প্রথম সেঞ্চুরি এবং টেস্ট ও টি টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে বিদায় নিয়েছেন ভারতের বিপক্ষে খেলেই। তবে টেস্টে ক্যারিয়ারে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি ও ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির সাক্ষী পাকিস্তান। এই জয়াবর্ধনের সঙ্গেই তো দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৬২৪ রানের জুটি গড়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। অধিনায়ক হিসেবেও দুজন একে ওপরের উপর নির্ভরশীল ছিলেন।
টেস্ট ক্রিকেটে সাঙ্গাকার বড় প্রাপ্তি ২০০৭ সালে। সর্বোচ্চ ৯৩৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সেরা টেস্ট ব্যাটসম্যান হন তিনি। ব্যাটে রানের ফোয়াড়া ছড়ানো ওই উর্ধ্বগতি গ্রাফটা যেন কিছুতেই আর কমতে চাইনি। সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে ৮০০০, ৯০০০, ১০০০০, ১১০০০ ও ১২০০০ রানের মাইলফলক পার করেছেন। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে সাঙ্গা মোট ৮১ ম্যাচে লঙ্কান ক্রিকেটকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাতে জয় ৪৩টি, হার ২৬টিতে। অধিনায়ক হিসেবে ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলেছেন সাঙ্গা। তবে এরপরই তিনি ঘোষণা দেন সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে তিনি আর অধিনায়কত্ব করবেন না। একই বছরে আইসিসির সেরা ক্রিকেটার ও পরের বছর উইজডেন সেরা ক্রিকেটার হওয়া সাঙ্গার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় ব্যাক্তিগতপ্রাপ্তি। তবে সারাজীবনই যে রানের ফোয়াড়া ছুয়েছেন কিন্তু ব্যর্থতার মুখ দেখেননি তা কিন্তু নয়। আর সেটা না হলে তো তাকে ঈশ্বরই হতে হবে। ২০১৪ সালে মিরপুর ম্যাচ সেরা হয়ে লঙ্কাকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতিয়েই অবসরে গেছেন। আশা ছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপেও বড় সাফল্য নিয়ে তিনি বিদায় জানাবেন। তবে দল কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়েই থেমে যায় লঙ্কা। তার আগেই সবাইকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে যেন আমৃত্যু এক কীর্তি গড়ে যান। বিশ্বকাপে গড়েন টানা চার সেঞ্চুরির রেকর্ড।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্লাব ক্রিকেটেও মাতিয়েছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। সময়ের সবেচেয়ে দামি ক্লাব টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে (আইপিএল) ডেকান চার্জার্স, কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ও সান রাইজার্স হায়দ্রবাদের হয়ে খেলেছেন। শ্রীলঙ্কান প্রিমিয়ার লীগে কান্দুরতা ওয়ারিয়র্সে, কান্দুরতা ম্যারুন্স, ক্যারিবীয়ন প্রিমিয়ার লীগে জ্যামাইকা তাল্লাওয়াস, কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম, সারে, ওয়ারউইকশায়ার, মেলবোর্ন ক্রিকেটে ক্লাব, ননডেসক্রিপ্টস ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। এছাড়া এশিয়া একাদশ, সেন্ট্রাল প্রভিন্সি, কলম্বো ডিস্ট্রিক ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন ও আইসিসি একাদশের হয়ে মাঠে নেমেছেন।
ক্রিকেট জীবনের বাইরে সাঙ্গাকারা দারুণ একজন ভালো স্বামী ও পিতা। সাঙ্গা ও ইয়েয়ালি দম্পত্তির একটা ছেলে ও একটি মেয়ে (জমজ)। ক্যারিয়ারে বিভিন্ন সামাজিক উন্নায়ণমূলক কাজে তার অংশীদারিত্ব অস্বীকার্য।
শেষ টেস্ট : বাস্তবতাতেই একদিন তৈরি হয় নতুন ইতিহাস। সেই ইতিহাস নিয়ে টানাটানি হয় আরও বহু বছর ধরে। শেষ বেলাতেও ক্রিকেট পরিসংখ্যানবিদরা ডন ব্র্যাডম্যানের সঙ্গে সাঙ্গাকে মেলানোর আপ্রাণ চেষ্টায় ছিল। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আসলেই যে তিনি শ্রীলঙ্কার ব্র্যাডম্যান। বিশ্বের সর্বকালের সেরা ব্র্যাডমান এশিয়ার যে একমাত্র মাঠে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়েছিলেন, সাঙ্গাকারারও ক্যারিয়ারের সাঙ্গ হয়েছে সেই পিসারা ওভালে। অপেক্ষা ছিল আর একটা ডাবল সেঞ্চুরির। শেষ ম্যাচে যদি একটি ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারতেন তিনি, তাহলে ব্র্যাডম্যানের সর্বোচ্চ ১২ ডাবল সেঞ্চুরির ভাগীদার হয়ে যেতেন। রয় ডায়েস থেকে শুরু করে বিশ্বের তারকা ক্রিকেটাররাও পিসারা ওভালে সাঙ্গাকারার ঐশ্বরিক কীর্তি গড়ার দিকেই তাকিয়ে ছিলেন।
খেলোয়াড়রা বিদায় নিতে চেয়েছেন, কিন্তু তাকে আকড়ে ধরার চেষ্টা হয়নি- এমন ঘটনা বিরল। তেমনই হয়েছিল এই সাঙ্গাকারার সঙ্গেও। শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রীর অনুরোধে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ পর্যন্ত খেলেছেন কুমার। কিন্তু তিন ম্যাচের সিরিজ শেষ না করেই তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন দুটি টেস্ট খেলবেন। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ শেষ না করেই কেন দুটি টেস্ট খেলবেন সাঙ্গাকারা সে ব্যাপারে তিনি কিছু স্পষ্ট করে বলেননি। ব্র্যাডমানের মাঠে শেষ করার ইচ্ছা ছিল তার নাকি এটা প্রকৃতিই এই মেলবন্ধন তৈরি করেছে। শ্রীলঙ্কার পি সারা ওভাল, সৌন্দর্য বিচারে লন্ডনের ওভালের মতোই। বহিরাঙ্গের রূপ ক্যারিয়ারে কমই দেখিয়েছেন সাঙ্গা। মাঠের কার্যের পরিচয়কেই বেশি ভালো লাগে তার। পি সারা ওভালের মধ্যে নাকি ঐতিহ্যের গন্ধ আছে। তাকে বিদায় জানাতে মাঠের অঙ্গসজ্জা বাড়ানোর হয়েছে এমনটা নয়। পুরনো ঐতিহ্য যে তা বেশি পছন্দেরই। তাই হাক ডাকে মোটেও রাজি নন তিনি।
শচীন টেন্ডুলকারের বিদায় বেলায় ভারতে একই সঙ্গে দুটি জিনিস হয়েছিল-ভারতের বৃহৎ উৎসব যেখানে সবাই তার বিদায়ে সাক্ষী হয়েছে, অবার ক্রিকেট ঈশ্বরের বিদায়ে তৈরি হয়েছি বেদনার কাব্য। শচীন তাকে ঘিরে বিদায় বেলার সমাদারটা সাগ্রহে আকড়েছেন। কেউ কেউ বাড়াবাড়ি করলেও মনে করছেন হোক না, এটাই তো শেষ। ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করতে যাচ্ছেন-তার মনের অবস্থা তো হওয়ার কথা উত্থান-পাতাল আবেগে ভরা। সাঙ্গাকারা যেন এর পুরোই বিপরীত। তার বিদায়ের মাতামাতি নিয়ে দলের মধ্যে আসল লক্ষ্যে যেন বিচ্যূতি না ঘটে। চাইছিলেন ভারতের বিপক্ষে আরেকটি সিরিজ জয়ের সাক্ষী হিসেবে থাকতে। কিন্তু সেই অপূর্ণতটা রয়েই গেল তার।
রবিচন্দ্রন অশ্বিন সাঙ্গাকে আউট করে হয়ে রইলেন বিরল সাক্ষী। তিনি ছেড়ে গেলেও রেকর্ড তার পিছু ছাড়েনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮ রান করে শচীন টেন্ডুলকারের পর বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ২৮০০০ রানের মাইলফলক পার করেছেন। শেষবার আউট হওয়ার পর দ্রুতই সবার সঙ্গে হাত মেলানো কাজটা সেরেছেন। প্যাভিলিয়নে তখন স্ত্রী ইয়েহালি রোদ চশমার আড়ালে চোখ মুছছেন। কিন্তু একি দ্রুত মাঠ ছাড়ার জন্য ব্যতি-ব্যস্ত তখন সাঙ্গা। প্রিয় প্রাঙ্গণ থেকে বিদায়ের ঘোষণা তিনি যখন দিয়েই দিয়েছেন তখন অতিপ্রিয় প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে যাওয়াই যুক্তিযুক্ত। ১৫ বছর পথচলা যেন শেষেও একই গতি। পি সারা তখন থমকে, বিষন্নতায় মোড়া। তখনও বিশ্বজয়ের ভুবন ভোলানো হাসিতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠ সন্তান।

