কক্সবাজার প্রতিনিধি : সাগরে ভাসমান অবস্থায় মিয়ানমারের জলসীমা থেকে উদ্ধার হওয়া অভিবাসি প্রত্যাশীদের মধ্যে পঞ্চম দফায় আজ আরো ১২৫ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বাংলাদেশের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে ১২৫ জনকে ফেরত আনেন।
ফেরত আনা ১২৫ জনকে সীমান্তের বাংলাদেশ অভ্যন্তরে এনে কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর তাদেরকে ৪টি বাসে করে নিয়ে আসা হয় কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে।
এর আগে বিজিবি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের ঢেঁকিবনিয়ায় যান। বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ও মিয়ানমার ইমিগ্রেশন বিভাগের মধ্যে সীমান্তের ঘুমধুম জিরো পয়েন্টের বিপরীতে মিয়ানমারের তমব্রু টাউন অ্যাডমিনিস্ট্রিশন অফিসে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক শেষে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত হওয়া ১২৫ জনকে ফেরত দেয়া হয়।
বাংলাদেশের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কক্সবাজার সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এম এম আনিসুর রহমান।
মিয়ানমারের ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মিয়ানমার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনাল রেজিস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট পরিচালক ইউ স নাইং।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের বাংলাদেশের ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার আসিফ মুনির জানান, ফেরত আনা ১২৫ জনের মধ্যে ১৪ জেলার বাসিন্দা রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার জেলার রয়েছে ৮৬ জন। এ ছাড়াও অপ্রাপ্ত বয়স্ক রয়েছে ২৭ জন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আইওএম এবং রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে সব রকমের সহযোগিতা দিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হবে।
বিজিবির কক্সবাজার সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল এম আনিসুর রহমান জানান, ফেরত আনা ১২৫ জনকে কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেলা পুলিশের অধিনে তাদেরকে রাখা হবে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে। ওখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ২৭ জনকে আদালতে হাজির করে অভিভাবকের কাছে পৌঁছানো এবং অন্যান্যদের নিজ জিম্মায় বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও) ও রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমদ জানান, ফেরত আনা ১২৫ জনকে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জড়িত দালালদের পরিচয় শনাক্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এরপর আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে অপ্রাপ্তদে অভিভাবকের কাছে অন্যদের নিজ জিম্মায় বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ্য, এরআগে ৮ ও ১৯ জুন, ২২ জুলাই ও ১০ আগস্ট ৪ দফায় শনাক্ত হওয়া ৫০১ জন বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হয়েছে। গত ২১ মে ২০৮ জন ও ২৯ মে ৭২৭ জন অভিবাসি প্রত্যাশীকে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে উদ্ধার করেছিল সেদেশের নৌ-বাহিনী। এরপর বাংলাদেশি হিসেবে দাবি করা তালিকা নিয়ে উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ওই তালিকায় শনাক্ত হওয়া বাংলাদেশিদের পর্যায়ক্রমে ফেরত আনা হচ্ছে। মিয়ানমারের জলসীমা থেকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত হওয়া পঞ্চমবারের মতো আজ ১২৫ জনসহ ৬২৬ জনকে ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে ফেরত আনা হল।

