ঢাকাMonday , 24 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রূপসা রেল সেতু বাস্তবায়নে চুক্তি স্বাক্ষর

Link Copied!

RAILনিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনা-মংলা রেল লাইন প্রকল্পের আওতায় রূপসা রেল সেতু তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে রেল বিভাগ। ডুয়েল গেজ বিশিষ্ট ১.৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সেতু প্রকল্প ১ হাজার ৭৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যায়ে ভারতীয় ক্রেডিট লাইনের (এলওসি) আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে।
আজ সোমবার বিকেলে রেল ভবনে আড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টারবো লিমিটেড ও রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ সম্পর্কিত চুক্তিপত্র সই হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষে রেলওয়ের জিএম ( প্রকল্প) মো. মজিবুর রহমান ও লারসেন অ্যান্ড টারবো লিমিটেডের পক্ষে বিজনেস ইউনিটের ভাইস-প্রেসিডেন্ট পি নিরাঞ্জন চুক্তিপত্রে সই করেন।
রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হকের সভাপতিত্বে এ সময় রেলওয়ের সচিব ফিরোজ সালাউদ্দিন, ভারতীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা দ্বীবাঞ্জন রায়, রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) খলিলুর রহমানসহ রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রেলপথমন্ত্রী বলেন, ‘রেল একটি আরামদায়ক এবং সাশ্রয়ী বাহন। ভারতীয় এলওসির আওতায় আমরা অনেক প্রকল্প হাতে নিয়েছি। তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছি। সারাদেশের জরাজীর্ণ সব রেললাইন সংস্কার করার জন্য আমরা প্রকল্প হাতে নিয়েছি তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘যাত্রীদের সেবা দেয়ার জন্যই আমরা আগামী জানুয়ারি মাস থেকে ১৫০টি কোচ আমদানি করবো। এছাড়া ৪৬ টি ইঞ্জিনও আমরা এনেছি। আগামীতে আরো ১৭টি ইঞ্জিন আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।’
মন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজারের রামু পর্যন্ত এডিবির অর্থায়নে রেললাইন করার প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। এছাড়া যমুনা ব্রিজে রেল চলাচলের জন্য প্যারালাল আরেকটি ব্রিজ তৈরি করা হবে বলেও মন্ত্রী জানান।’
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে খুলনা-মংলা রেল সেকশনে ৬৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার ডুয়েল গেজ রেললাইন এবং অন্যান্য অবকাঠামো পুনর্বাসন, যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেনের দ্রুত ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিতকরণ এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ স্থাপনসহ ৫ লাখ মানুষের যাতায়াতের সুবিধা হবে।
প্রস্তাবিত খুলনা-মংলা রেল লাইনটি খুলনা ফুলতলা উপজেলা থেকে খুলনা বাইপাস সড়কের পশ্চিম পাশ দিয়ে রূপসা সেতুর দক্ষিণ পাশে হয়ে কাটাখালি এবং সেখান থেকে মংলা পর্যন্ত যাবে। এজন্য নক্সা তৈরির কাজ  ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ হলে জমি অধিগ্রহণ এবং চলতি অর্থ বছরের মধ্যেই রেললাইন নির্মাণ কাজ শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে এই রেললাইন নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৮শ ১ কোটি  টাকা।
রেল সূত্রে জানা গেছে, ফুলতলা থেকে মংলা পর্যন্ত এই রেললাইনের দূরত্ব হবে ৬৪ কিলোমিটার। রূপসা সেতুর দক্ষিণ পাশ দিয়ে রেললাইনটি নির্মাণ করার জন্যই রূপসা রেল সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। এ কাজে অধিগ্রহণ করা হয়েছে ১ হাজার ৫ শ ২৫ একর জমি।
অন্যদিকে রূপসা দিঘলিয়া উপজেলা হয়ে খুলনা-মংলা রেলপথ নির্মাণ করতে হলে ভৈরব, আত্রাই ও আঠার বেকি নদীর উপর নির্মাণ করতে হবে আরো ৩ টি সেতু। এক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে ২ হাজার একরেরও বেশি।
উল্লেখ্য যে, ২০১০ সালের ২১ শে ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনীতি পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) সভায় খুলনা-মংলা রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে রেলপথে সহজেই মংলা বন্দর থেকে খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পণ্য পরিবহন করা খুব সহজ হবে এবং সাশ্রয়ীও  হবে। এছাড়া নেপাল, ভুটান ও ভারতকেও ট্রানজিট দেয়ার ক্ষেত্রেও রেললাইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। এতে মংলা বন্দরের গতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পাওয়াসহ মংলা বন্দরের রাজস্ব আয়ও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। এতে খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।