ঢাকাMonday , 24 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে করমুক্ত সুবিধা

Link Copied!

NBRঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনেই পোলট্রি ও মৎস্য খামারিদের অর্জিত আয়ে করমুক্ত সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
নতুন নির্দেশনায় হাঁস-মুরগির খামার (বৃহৎ শিল্প) হতে অর্জিত আয়ের প্রথম ২০ লাখ টাকা ও পোলট্রি-মৎস্য চাষে হতে অর্জিত আয়ের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এনবিআরের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।
চলতি সপ্তাহে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত আদেশপত্রে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যা চলতি গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে।
চলতি সপ্তাহে জারি করা নতুন এসআরও (নং ২৫৪-আইন/আয়কর/২০১৫) অনুসারে হাঁস-মুরগির খামার হতে অর্জিত আয়ের প্রথম ২০ লাখ টাকা আয় করমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে পরবর্তী ১০ লাখ টাকা আয়ের ওপর ৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ১০ শতাংশ কর দিতে হবে।
ইস্যু করা অপর এক প্রজ্ঞাপনে (এসআরও নং-২৫৫) সরকার হাঁস-মুরগি, চিংড়ি, মাছের হ্যাচারি ও মৎস্য চাষ হতে অর্জিত আয়ের প্রথম ১০ লাখ টাকা আয় করমুক্ত। এর পরবর্তী ১০ লাখ টাকা আয়ের ওপর ৫ শতাংশ ও অবশিষ্ট আয়ের ওপর ১০ শতাংশ আয়কর দিতে হবে। আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ৪৪ ধারার ৪ উপধারার (বি) এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে ওই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
পোলট্রিশিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো এত দিন করমুক্ত সুবিধা ভোগ করে আসছিল। তবে মৎস্য চাষে ৫ শতাংশ হার আয়কর অব্যাহত ছিল। তবে এবারে করসুবিধা দিয়ে তিন স্তরবিশিষ্ট কর আরোপ করা হলো।
চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত পোলট্রি ও মৎস্য জাতীয় সব শিল্পে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় থেকে ৩ শতাংশ, ১০ থেকে ২০ লাখ টাকায় ১০ শতাংশ এবং ২০ লাখ টাকার ওপরের আয় থেকে ১৫ শতাংশ হারে করারোপ করার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের ২৯ জুন বাজেট সমাপনী বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পোলট্রি ও মৎস্যশিল্পের সঙ্গে জড়িতদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী এই শিল্পগুলোর আয় থেকে কর কাটার প্রস্তাব করেছেন। কিন্তু এই শিল্পগুলো দেশে আমিষের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই আমি অনুরোধ করব, এ শিল্পগুলোর সঙ্গে জড়িতের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়কে করমুক্ত রাখা হয়।’
এরপর ২০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫ শতাংশ এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়ের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ করার অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কিন্তু ওই নির্দেশ অমান্য করেই চলতি বছরের ১ জুলাই পোলট্রি ফিড উৎপাদন, গবাদি পশু, চিংড়ি ও মাছ, দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের খামার, বীজ উপাদন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বীজ বিপণন, ব্যাঙ উৎপাদন খামার, উদ্যান খামার প্রকল্প, মৌমাছির চাষ প্রকল্প, রেশম গুটি পোকা পালনের খামার, ছত্রাক উৎপাদন খামার এবং ফুল ও লতাপাতার চাষ থেকে অর্জিত আয়ের ওপর তিন স্তরে কর নির্ধারণ করে। প্রথম স্তরে ১০ লাখ টাকার আয়ের ওপর ওপর ৩ শতাংশ, দ্বিতীয় স্তরে পরবর্তী ২০ লাখ টাকা আয়ের ওপর ১০ শতাংশ এবং তৃতীয় স্তরে ২০ লাখ টাকার বেশি আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে করারোপ করে এসআরও ইস্যু করা হয়।
তবে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে হাঁস-মুরগির খামারিদের অর্জিত আয়, চিংড়ি, মাছের হ্যাচারি ও মৎস্য চাষ থেকে অর্জিত আয়ের ওপর করমুক্ত সুবিধা দেওয়া হলো।