নিজস্ব প্রতিবেদক : ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন চায় না একটি স্বার্থান্বেষী মহল। আধুনিকায়ন হয়ে গেলে দুর্নীতির জায়গা অনেক কমে যাবে বলে তারা এটা চায় না বলে জানিয়েছেন টিআইবি।
রোববার দুপুরে ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা ও সেবা কার্যক্রম : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন টিআইবির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. ওয়াহিদ আলম।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এখানে তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক জটিলতা রয়েছে। আর এই জটিলতাকে পুঁজি করে সংগঠিত হয় অনিয়ম দুনীর্তি। যেখানে জড়িত রয়েছে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারী ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। বিশেষভাবে রাজনিতকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।’
তিনি আরো বলেন, ‘দুর্নীতির সাথে সংশ্লিষ্টরা একটি চক্র হিসেবে কাজ করে। তারা চায় না ভূমি সংক্রান্ত কাযক্রমের আধুনিকায়ন হোক। কারণ, আধুনিকায়ন হলে তাদের দুর্নীতির জায়গা কমে যাবে। দুর্নীতিবাজ চক্ররা যত ক্ষমতাশালী হোকনা কেন তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব। এদেরকে আইনের আওতায় না আনলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।’
ভূমি সংক্রান্ত প্রায় ১৮ লাখ মামলা ঝুলে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব মামলার অধিকাংশই ঝুলে থাকার পেছনে রয়েছে সরকার পক্ষের আইনজীবিদের সহায়তা। তারা আসামি পক্ষের কাছ থেকে টাকা খেয়ে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা বাড়ায়।’
এ সব বিষয়ে থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তিনি সরকারের সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। গবেষণা প্রতিবেদনে ঘুষ আদান প্রদানের একটি চিত্র তুলে ধরে বলা হয়েছে, খতিয়ান প্রতি নামজারীর ক্ষেত্রে ৩ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পযর্ন্ত ঘুষ নেয়া হয়। একইভাবে রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে ১ হাজার থেকে ৫০ হাজার, খতিয়ান ও নকশার নকল কপি উত্তোলণে ২শ থেকে ১ হাজার , হাট-বাজার ইজারার ক্ষেত্রে ১০ হাজার থেকে ২০ লাখ টাকা, হাট-বাজারের অতিরিক্ত শুল্ক গ্রহণের বিরুদ্ধে যে কোনো তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিহত করতে ১০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পযর্ন্ত ঘুষ আদান-প্রদান করা হয়।’
ভূমি অফিসের বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তারা ভূমি সংক্রান্ত করদাতাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে করের পরিমাণও কমিয়ে দেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- টিআইবির পোগ্রাম ম্যানেজার নিহার রঞ্জন রায়, সহকারী পোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনা প্রমুখ।

