ঢাকাSunday , 23 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বখাটেদের হাত থেকে ওরা বাঁচতে চায়

Link Copied!

evetezingগাইবান্ধা প্রতিনিধি : উর্মি, মিথী, রুবি, মৃত্তিকা, ফারিয়া, লুৎফি, নাবিলা আর পৃমা এরা সবাই মেধাবী ছাত্রী। নিয়মিত স্কুলে আসে। সহপাঠিদের কাছে প্রিয় বন্ধবী। শিক্ষকদের কাছে ওরা গর্বের। ওরা সবাই গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীতে পড়ে। কিন্তু তাদের কোনো স্বস্তি নেই। বখাটে সন্ত্রাসীদের কারণে ওরা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। স্কুলে আসা যাওয়ার পথে থাকতে হয় ভয়ে আর আতঙ্কে। কোনো কোনো দিন হয়তো স্কুলেই আসা হয় না।
গত ৭ আগস্ট আমিনা নামে তাদের এক বান্ধবী বখাটেদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনো কাজ না হওয়ায় অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
বান্ধবীর মৃত্যুর পর আরো বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ছাত্রীরা। উপায়ান্তর না পেয়ে ওই ছাত্রীরাসহ দশম শ্রেণির ১০ জন ছাত্রী নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন জানিয়েছে প্রধান শিক্ষকের কাছে।
এর আগে গাইবান্ধায় বখাটেদের কারণে স্কুলছাত্রী তৃষাকে জীবন দিতে হয়েছে। যা নিয়ে সারাদেশে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। একেই কারণে বোনারপাড়ার কলেজছাত্রী মিমকেও আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছিল। মাঝখানে বখাটেদের নিয়ে আর কোনো আলোচনা হয়নি। এ ফাঁকে গাইবান্ধায় আবারো শুরু হয়েছে বখাটেপনা।
গাইবান্ধায় পুলিশ বখাটেদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই পুলিশ প্রশাসনের ওপর নির্ভর করতে পারছে না অভিভাবকরা। এতে দিন দিন সাহস বেড়েই চলছে বখাটেদের। সে কারণে একটার পর এক ছাত্রীকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হচ্ছে।
গত ৭ আগস্ট বখাটেদের ছোবল থেকে মুক্তি পেতে রশিতে ঝুলিয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী আমিনার আত্মহত্যার পর পুলিশ এক বখাটেকে গ্রেপ্তার করে। তবে তাতে আতঙ্ক কমেনি। আমিনার মৃত্যুর আগে ২ আগস্ট আমিনার বাবন্ধীসহ ১০ ছাত্রী নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছিলো প্রধান শিক্ষকের কাছে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক সহায়তা চেয়েছিলেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের কাছে। কিন্তু ফলাফল শূন্য।
পুলিশ নীরব থাকার কারণেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে আমিনাকে। তবে আমিনার মৃত্যুর পর পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসলেও কোনোভাবেই আইনের আওতায় আনা যাচ্ছে না বখাটেদের। তারা নতুন করে আখড়া গেড়ে বসেছে শহরের বেশ কিছু পয়েন্টে। বিশেষ করে শহরের স্টেশন রোড, গোরস্থান মোড়, মহিলা কলেজের সামনে, শনিমন্দির সড়ক, মধ্যপাড়া সড়ক, মাস্টাপাড়া মোড়, বলাইবাড়ি মোড়, মুন্সিপাড়া মোড়, খন্দকার মোড়, কালিবাড়ি সড়ক, বাংলাবাজার, ব্রিজ রোড, পুর্বপাড়া মোড়ে বখাটেদের উৎপাত মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
জেলা শহরের অন্তত ২০টি পয়েন্ট এখন বখাটেদের কব্জায়। সংঘবদ্ধ বখাটেরা স্কুল ও কলেজগামী মেয়েদের উত্যক্ত করে ক্ষান্ত হয় না। তারা মেয়েদের কটূক্তি করা ছাড়াও অশোভন আচরণ করে। প্রেমের প্রস্তাব দেয়, কখনও ওড়না টেনে নিয়ে যায়। তাদের প্রস্তাবে রাজি না হলে বিপদ। শুধুমাত্র বখাটেদের কারণে শহরে মেয়েদের নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয় অভিভাবকদের। তারা মেয়েদের সঙ্গে করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারে গিয়ে সার্বক্ষণিক প্রহরায় থাকেন।
ইভটিজিং আর বখাটে সমস্যা সমাধানে গাইবান্ধায় অনেক সেমিনার, সভা, আলোচনা সভা আর সমাবেশ হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পুলিশ প্রশাসন বখাটে ধরতে অভিযান না চালিয়ে বর্তমানে তারা স্কুলের গেটে নিরাপত্তা দিতে তৎপরতা দেখাচ্ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আসাদুজ্জামান উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কোচিং সেন্টার, আহম্মদ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মহিলা কলেজসহ শহরের কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। শত শত ছাত্রী এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করছে। দীর্ঘদিন ধরে বখাটেদের অত্যাচারে অনেকেই ছেড়ে দিয়েছে পড়ালেখা। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিশেষত গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় আর কোচিং সেন্টারগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বখাটে সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের কারণে গাইবান্ধা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী নিশাত তাসনিম মৃত্তিকা, নবম শ্রেণির ছাত্রী ইসরাত জাহান কল্পনা, জিনিয়া জারমিন উর্মি, সুমাইয়া আকতার মিথি,অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ফেরদৌস আরা নিলমনী, আরফিদা আকতার রুবি, সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে নাবিলা মাহবুব, জান্নাতুর নেছা প্রিমা, ফারিহা লিনসা, ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ওয়াসিমা আকতার লুৎফিসহ ১০ ছাত্রী বখাটেদের হাত থেকে বাঁচতে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন জানিয়েছে।
অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অভিযোগ পেলে বখাটেদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায়। কিন্তু পুরো শহরে রাস্তাঘাটে যে হারে ইভটিজিং হচ্ছে তা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই তাদের।
অভিভাবকরা মনে করেন, শহরের বিশেষ কিছু স্থানে পুলিশি টহল ব্যবস্থা নিয়মিত থাকলে এ ঘটনা ঘটতো না। মরতে হতো না তৃষা, মীম ও অমিনার মতো মেধাবী ছাত্রীকে।
এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিউর রহমান জানান, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হয়। ইতোমধ্যে অনেক বখাটেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়া হয়েছে।