অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : ‘দারিদ্র্য বিমোচনে টাকার অভাব নয়, অস্থার অভাবই বড়’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। সম্মিলিত প্রয়াসে, অংশীদারিত্বের মাধ্যমে কাজ করলে ‘দারিদ্র্যের ভূত’ অবশ্যই বিতারিত হবে বলেও আশা করেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘Engaging with Corporate Social Responsibility (CSR) Activity’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘চর পল্লির জীবনমান উন্নয়নে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার, এনজিও, ব্যাংকিংখাত সবাই একযোগে কাজ করে বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে দিতে হবে।’
গর্ভনর জানান, চর জীবিকায়ন কর্মসূচি বা সিএলপির কার্যক্রমে অতিদরিদ্র মানুষের উপযোগী কিছু কৌশল অবলম্বন করছে। তারা সুনির্দিষ্ট সূচক ব্যবহার করে চরের অতিদরিদ্র পরিবার চিহ্নিত করছে। এরপর সম্পদ স্থানান্তর, সাপ্তাহিক ভাতা প্রদান, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও নিবিড় তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে তাদের জীবিকার উন্নয়নে কাজ করছে। জীবিকা উন্নয়নের পথে অন্যতম বড় বাধা স্বাস্থ্য সমস্যা। তাই সিএলপি স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে অনেক দূর এগিয়েছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দিক থেকে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে ‘রোল মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের পরিচয় পেয়ে গেছি। এখন দ্রুত এগোচ্ছি উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার পথে। এ জন্য আমাদের দারিদ্র্যের হার আরো কমাতে হবে। মাথাপিছু আয় আরো বাড়াতে হবে।
চর, হাওড়, পার্বত্য এলাকা ও উপকূলীয় এলাকাসহ অবহেলিত জনপদের অতিদারিদ্র্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দূর করলে মাথাপিছু আয়ও দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক নওশাদ আলী চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সওয়েল স্টাম্প, অস্ট্রেলিয়ান এইড, ইউকেএইড, সিএলপি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

