ঢাকাThursday , 20 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আইনি দুর্বলতায় অরক্ষিত জিআই পণ্য

Link Copied!

GIঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : আইনি দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের ভৌগলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের মালিকানা বিদেশিরা হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ভৌগলিক সীমায় উৎপাদিত জিআই পণ্য বিশ্বময় করতে ধনী দেশেগুলোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাই এ অবস্থায় বাংলাদেশের জিআই আইনের অসম্পূর্ণতা ও জটিলতা দূর করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মতিঝিলে ঢাকা চেম্বারের অডিটোরিয়ামে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ও বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই) আয়োজিত ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য পণ্য (জিআই) শীর্ষক সেমিনারে বক্তরা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য সুরক্ষার আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায়  জিআই পণ্যের অর্থনৈতিক সুবিধা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হয়েছে। আইনি দুর্বলতার সুযোগে বেশ কয়েকটি জিআই পণ্যের পেটেন্ট অন্যরা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, ভৌগলিক নির্দেশক পণ্যের মালিকানা সুরক্ষায় ভৌগলিক নির্দেশক আইন (জিআই ‘ল’) ২০১৩ পাস হয়েছে।
দেশে পণ্য উৎপাদিত হলেও বিশ্ববাজারে এগুলোকে নিজের পণ্য হিসেবে দাবি করতে পারছে না বাংলাদেশ। যার কারণে উৎপাদকরা পণ্যের প্রাপ্য ন্যায্যতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে মনে করছেন বক্তারা।
উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, বাংলাদেশের জামদানি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, ফজলি আমসহ প্রায় ৬০টি জিআই পণ্য প্রতিবেশি দেশ ভারত তাদের নিজেদের পণ্য হিসেবে বিশ্ববাজারে পরিচিত করার চেষ্টা করছে।
সেমিনারে গবেষকরা বলেন, জিআই পণ্যের মালিকানা সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট এলাকার উৎপাদক ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সচেতন করতে সরকার ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশকে এখন ব্র্যান্ডিং করতে হবে। এর ফলে সুনামের পাশাপশি পণ্যের মূল্যও বাড়বে। এজন্য আমাদের কিছু পণ্য জিআইভুক্ত করতে হবে। প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি পণ্য চিহ্নিত করে জিআইভুক্ত করে এগিয়ে যেতে হবে।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি হোসাইন খালেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন- বিএফটিআই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আহমেদ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফটিআই সিনিয়র ফেলো ড. মোহাম্মাদ আবু ইউসুফ ও রিসার্স অ্যাসোসিয়েট শেখ রুখসানা বোরহান।
মূল প্রবন্ধে ড. মোহাম্মাদ আবু ইউসুফ বলেন, ‘পদ্মার ইলিশ, কুমিল্লার রসমালাই, দিনাজপুরের লিচু ও চাল, রাজশাহীর সিল্ক, নরসিংদীর লুঙ্গি, মিরপুরের কাতান, বগুড়ার দই, বরিশালের আমড়া ও পান, নাটোরের রসগোল্লা, ভোলার মহিষের দুধ, সুন্দরবনের মধু। এ ছাড়া নকশীকাঁথা, কাটারীভোগ চাল, কালিজিরা, ফজলী, ল্যাংড়া, হিমসাগর, চমচমসহ অসংখ্য পণ্য আছে যা ঐতিহ্য বহন করে আসছে।’
আলোচনায় অংশ নেয় পেটার্নস ডিজাইন ও ট্রেডমার্ক বিভাগের ডেপুটি রেজিস্টার্ড ইলিয়াস হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল ইসলাম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) রিসার্স অ্যাসোসিয়েট উম্মে শেফা রেজবানা প্রমুখ।
সেমিনারে ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘প্রাকৃতিক, কৃষিজাত ও শিল্পপণ্যও জিআই হতে পারে। জিআইতে এলাকা ভিত্তিক পণ্যের নাম আসা উচিত। এ পণ্যের মালিকানা থাকতে পারে না। সরকার সরাসরি যেখানে জড়িত না থাকবে সেখানে অথরাইজ ইউজার হিসেবে স্থানীয় নাম ব্যবহার হতে পারে।’
উল্ল্যেখ, ১৮৮৩ সালের ২০ মার্চ প্যারিস কনভেনশনে শিল্পোন্নত দেশেগুলো ট্রেড রিলেটেড অ্যাসপেক্টস অব ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি রাইটস (টিআরআইপিএস) চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছে। বাংলাদেশ ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার টিআরআইপিএস চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এ চুক্তির ২২ নম্বর আর্টিক্যাল অনুযায়ী স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর জন্য ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য নিবন্ধন ও সুরক্ষাকল্পে জিআই আইন প্রণয়ন বাধ্যতামূলক।