স্পোর্টস ডেস্ক : ট্রেন্টব্রিজে চরমভাবে বিধ্বস্ত হওয়ার পর একটা ঝড়ই বয়ে গিয়েছিল মাইকেল ক্লার্কের জীবনের ওপর দিয়ে। বাধ্য হয়ে দিয়েছেন, অবসরের ঘোষণা। অ্যাশেজের চতুর্থ টেস্টের পর থেকে তাই তাকে প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা গেছে। আবেগরুদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন সেদিন; কিন্তু সপ্তাহ দেড়েক পর ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টে নামার আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে ক্লার্কের গলায় আবেগের ছিঁটেফোটাও নেই। মনেই হবে না ক্যারিয়ারের এই ১১৫তম টেস্টটাই তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
ক্রিকেট ছাড়া জীবন কাটানো কতটা কঠিন? উত্তর এল, ‘আর তর সইছে না। মনে হয় ভালই কাটবে।’ তাই বলে শেষ টেস্টের প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রেখেছেন ভাবলে ভুল হবে। গত সপ্তাহটা দল থেকে দূরে পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে কাটিয়েছেন ক্লার্ক। সেই সময় নর্দাম্পটনে বাকি অজি দল প্রস্তুতি ম্যাচে ব্যস্ত ছিল। তবে ক্লার্ক বলেছেন, ‘লন্ডনে থাকার সময় আমি শেষ টেস্টের প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রত্যেক দিন প্র্যাকটিস করেছি। সেটা ফিটনেস নিয়েই হোক বা অন্যকিছু।’
ক্রিস রজার্সও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি ওভাল টেস্টের পর ক্লার্কের মতোই অবসর নেবেন। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে এই শূন্যস্থান কী ভাবে পূরণ হবে? ২০০৬-০৭-এ শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা, ড্যামিয়েন মার্টিন, জাস্টিন ল্যাঙ্গার অবসর নেওয়ার পর থেকে অজি ক্রিকেটে যেটা দেখা যায়নি। ক্লার্ক বলেছেন, ‘একটা বড় পরিবর্তন হবে। তবে ব্যাপারটা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের জন্য কিন্তু বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। আগেই বলেছি, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে প্রতিভার অভাব নেই। সুযোগ পেলে সেটা কাজে লাগাতে মুখিয়ে রয়েছে অনেকেই।’
বিদায়বেলায় অ্যাশেজ হারের লজ্জাটা শেষ ম্যাচে কিছুটা হলেও কাটাতে মরিয়া ক্লার্ক। সিরিজটা ১-৪ হতে না দিয়ে ২-৩ করতে। সতীর্থদের তাই পাল্টা লড়াইয়ে উদ্বুদ্ধ করার কাজটা চলছেই। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু ওভাল টেস্টে নামার আগে সেটা স্পষ্ট ক্লার্কের কথায়। ‘সিরিজটা জিততে পারব না এটা ঠিক। কিন্তু আগামী চার বছরে অনেকেই তো খেলতে আসবে এখানে। তাদের জন্য আমাদের এই টেস্টে জয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই মরিয়া লড়াই করতে হবে আমাদের।’
সঙ্গে আরও যোগ করেন, ‘অনেক সময়ই তো কঠিন একটা পর্ব কাটানোর পরই সাফল্য আসে। সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে এক জন তরুণ প্লেয়ারকে সেটা কিন্তু ভীষণ অনুপ্রেরণা দেয়। সে দিক থেকেও আমাদের একটা দায়িত্ব থেকে যায় সর্বস্ব উজাড় করে এই টেস্ট ম্যাচটা জেতার চেষ্টা করার।’

