স্পোর্টস ডেস্ক : ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা। ভদ্রতাই ক্রিকেটের একটি বড় অলংকার। এক্ষেত্রে সিনিয়র-জুনিয়র বলে কথা নেই। এই যেমন ধরুন- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৬৪ ম্যাচ খেলা ভারতীয় অধিনায়কের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার অনেক সমৃদ্ধ। দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন। জিতেছেন সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের টি২০ বিশ্বকাপও। ভারতকে তুলেছেন ওয়ানডে এবং টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষে। ঠাণ্ডা মাথায় এত এত অর্জন যে, তার নামই হয়ে গিয়েছিল ‘ক্যাপ্টেন কুল।’
অথচ সেই ধোনিই কি না এমন অভদ্র! এত বড় বিষয়টা তার মধ্যে যে খুব ঘাটতি রয়েছে- সেটা ছিল এতদিন অজানা। বাংলাদেশ সফরে এসে সেই অজানা বিষয়টাকেই জানান দিয়ে গেলেন ভারত অধিনায়ক। সৌজন্যতাবোধ বলতে তার কিছু আছে কি না তাতেও সন্দেহ রয়েছে খুব।
বাংলাদেশ-ভারত ওয়ানডে সিরিজের ১ম ওয়ানডেতে দলের নিশ্চিত পরাজয় দেখে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন ক্যাপ্টেন কুল। অভিষিক্ত বাম হাতি পেসার মুস্তাফিজের স্লোয়ার আর কার্টারে বিভ্রান্ত হয়ে দিগভ্রান্ত হয়ে যান ধোনি। এ কারণেই সম্ভবত কনুই দিয়ে মুস্তাফিজকে ওভাবে ধাক্কা মারেন তিনি। যাতে মুস্তাফিজ আর খেলতে না পারেন। সাময়িকভাবে হলোও তাই। ওভারের অবশিষ্ট বল বাকি রেখেই মাঠ ত্যাগ করেন তিনি। টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে, ধোনি ইচ্ছা করেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
কিন্তু নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে ধোনি ম্যাচ শেষে রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের শুনানিতে বলেছেন, ‘ইচ্ছা করে তিনি এমন কাজ করেননি। মুস্তাফিজই ডেঞ্জার জোনে চলে এসেছিলেন। তিনি তাকে দেখেননি।’ আবার পরে বলেছেন, ‘মুস্তাফিজকে বাঁচিয়ে ঘুরে দৌড়াতে গেলে তিনি হয়তো রানআউট হতেন। কিংবা অন্যপাশে গেলে তার ব্যাটসম্যানের সঙ্গে ধাক্কা খেতেন।’ অথ্যাৎ মুস্তাফিজকেই দোষি করতে চাইলেন, ডেঞ্জার জোনে চলে এসেছে বলে।
অথচ একই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে তামিম ইকবাল যখন ব্যাটিংয়ে ছিলেন তখন ভারতীয় বোলার মোহিত শর্মাও তার দৌড়ের জায়গা ডেঞ্জার জোনে চলে আসেন। উইকেটের ওপর তামিমের রান-আপের সোজাসুজি অবস্থানে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তখন মোহিত শর্মা সরে না গেলেও তামিম তার গতি পরিবর্তন করে রান পূর্ণ করেন এবং ধাক্কা লাগা থেকে মোহিতকে বাঁচিয়ে দেন।
তামিম ইচ্ছা করলে মোহিতকে ধাক্কা মারতে পারতেন। বলতে পারতেন, সেই তো ইচ্ছা করে ডেঞ্জার জোনে চলে এসেছে। মূলতঃ ভদ্রলোক বলেই সংঘর্ষ এড়িয়েছেন তামিম।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ বরাবরই ক্রিকেটীয় ভদ্রতা দেখিয়েছে। ২০০৩ সালে মুলতান টেস্টের কথা যদি কারো মনে থাকে তাহলে নিশ্চয়ই মনে পড়বে মোহাম্মদ রফিকের কথা। ওই ম্যাচে পাকিস্তান অধিনায়ক রশিদ লতিফের কথাও ভুলে যাবার নয়।
ওই ম্যাচে দারুন ফর্মে থাকা অলক কপালিকে চলনার আশ্রয় নিয়ে মিথ্যা ক্যাচের আবেদনে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সাজঘরে। ম্যাচের শেষ দিকে যখন বাংলাদেশ প্রায় জিতে যাচ্ছিল, কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন উমর গুল, তখন সুযোগ পেয়েও তাকে রান আউট করেননি মোহাম্মদ রফিক।
অথচ ক্রিকেটীয় দিক থেকে ওই সময় রফিক স্ট্যাম্প ভাঙলে আম্পায়ার আউটই দিতেন। বাংলাদেশও পেয়ে যেতো পাকিস্তানের মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়। কিন্তু খেলার স্পিরিট আর বিবেকবোধ সম্পন্ন রফিক সুযোগ পেয়েও তা করলেন। সুযোগ দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানকে উইকেটে আসতে।
তাই তো এখন মানুষ বলে ‘তুমি লতিফ তাই বলেই আমি রফিক হব না!’ সংজ্ঞাটি এবার আপডেট হয়ে আসলো আরেক বাংলাদেশির কাছ থেকে। এবার মানুষ বলতেই ‘তুমি ধোনি তাই বলেই আমি তামিম হব না!’

