ঢাকাSunday , 24 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার পাচ্ছে দুর্নীতিবাজরা

Link Copied!

Dudokনিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যামিরেটাস অধ্যাপক একে আজাদ চৌধুরী বলেন, দুর্নীতিবাজরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের দুর্নীতির প্রধান কারণ দুর্নীতিবাজদের নিয়ে রাজনীতি করা। অনেক রাজনৈতিক দল তাদেরকে এমনভাবে সার্টিফাইড করে যেন তারা ধোয়া তুলশিপাতা। এমন একটা ভাব, যেন তারা দুর্নীতি করতেই পারে না। এ ধরনের মনোভাব পরিবর্তন করতে পারলেই কেবল দুর্নীতি দমন সম্ভব।
রোববার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমীতে দুর্নীতি দমন কমিশন আয়োজিত দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, দুদক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, কমিশনার মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ ও সচিব মাকসুদুর রহমান খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) ড. সামছুল আরেফিন।
একে আাজাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা জাতি হিসেবে অনেক গর্বিত। ৩০ লাখ জীবনের বিনিময়ে এই দেশ পেয়েছি। যদি মূল্যবান জীবন দিয়ে দেশ গড়তে পারি তাহলে সেই দেশ থেকে দুর্নীতি দমনও করতেও পারবো। যুক্তরাষ্ট্রে আমি দেখেছি অনেক দুর্নীতিবাজ আত্মহনন করে মারা গেছেন, আমাদের দেশেও এই প্রথা অচিরেই চালু হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই ভিসি বলেন, ‘কিছু কিছু লোক যাদের দেশের চেয়ে টাকার প্রতি লোভ বেশি, তাদের কারণে আমরা চার বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। তাদের মতো কিছু লোকের কারণেই এই জাতিকে বিশ্বের কাছে অপমানিত হতে হয়েছে। প্রথমে মনে রাখতে হবে এরা কোন রাজনৈতিক দলের হতে পারে না। এরা যে স্তরেরই হোক, চিহ্নিত করে কোন সহানুভূতি ছাড়াই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা অনেকেই মনে করি দুদক আগের সেই ব্যুরোর মতই কাজ করছে। এটা আসলে ভুল। দুদক এখন আগের চাইতে অনেক সাহসী ভূমিকা পালন করছে। অনেক ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে দুদক। অনেক বড় বড় রাজনীতিকদেরও আইনের আওতায় এনেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাই দুদকের এসব কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানাই।’
বিতর্কে বিজয়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমরা যারা পুরস্কার পেয়েছো তারা মনে করবে এটা জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধের ৪৫ বছরের মধ্যে অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা এখন ১১টি উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে অন্যতম দেশ। কিন্তু কিছু কুচক্রির জন্য আমরা এগিয়ে যেতে পারছি না। তাদের দমন করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আর একটা কথা মনে রাখবে। দুর্নীতিবাজরা কোর্টের বেড়াজাল থেকে বের হলেও আইনের অন্তরের দগ্ধতা থেকে রক্ষা পাবে না। তাদের অন্তরে একটা ক্ষত দাগ থাকবেই।’
দুদক চেয়ার‍্যান মো. বদিউজ্জামান বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনও অর্থনৈতিক মুক্তি পাইনি। দুর্নীতি একেবারে নির্মূল করা সম্ভব না, তা সহনীয় পর্যায়ে আসলেই আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনেক আগে করতাম। কিন্তু আমরা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে করতে পারিনি। তাই এখন করছি। আমাদের দুর্নীতি প্রতিরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই আয়োজন। আশা করি, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে আমরা দুর্নীতি নির্মূল করতে পারবো।’
দুদক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, ‘আমাদের এই অনুষ্ঠান আরো আগে আয়োজন করার কথা ছিলো। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতায় এক অশুভ শক্তির মহাপ্রলয়ে আমরা এ আয়োজন করতে পারিনি। তবে আজকে সেই অনুষ্ঠান করতে পেরে আমরা খুব আনন্দিত। আজ এর মাধ্যমে যারা আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দেবে তাদের মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঘৃণা সৃষ্টি হবে।’
অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিজয়ী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের বিজয়ী ও রানার্সআপ চারটি দলে মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।