ঢাকাSaturday , 23 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মানবপাচার রোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে

Link Copied!

manনিজস্ব প্রতিবেদক : জনগণকে মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার দায়িত্ব সরকারের। এজন্য তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। পাশাপাশি যেসব মানুষ পাচার হয়ে ফিরে আসছেন তাদের নিরাপত্তার দায়িত্বও সরকার এড়িয়ে যেতে পারে না। ভারতের সরকার তাদের দেশের গরুপাচার রোধে যতটা সিরিয়াস আমাদের দেশের সরকার কি মানুষপাচার রোধে ততটা সিরিয়াস হতে পেরেছে?
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ও দৈনিক ভোরের কাগজ আয়োজিত এক গোল টেবিল বৈঠকে বক্তরা এসব কথা বলেন।
‘মানবপাচাররোধে করণীয়’ শীর্ষক বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘সমুদ্র ও স্থল পথে যাতে কেউ বিদেশ যেতে না পারে তার জন্য সরকার ইতোমধ্যে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যাতে চোরাই পথে না যেতে পারে তার জন্য ব্যবস্থা করা উচিৎ। মানবপাচার রোধের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। চাই সবার সহযোগিতা ও সচেতনতা।’
তিনি আরো বলেন, ‘শুধু সরকারকে দোষ দিলেই চলবে না। এজন্য আপনাদেরও কাজ করতে হবে।’
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘এ বিষয়টিকে জাতিগত বা গোষ্ঠীগত না দেখে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তাদের নিরাপত্তা দেয়া। যারা বিদেশ যেতে গিয়ে বিপর্যস্ত তাদের মধ্যে একজনও যদি বাঙালি থাকে তারও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা সরকারের দায়িত্ব।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভারতের সরকার তাদের দেশের গরুপাচার রোধে যতটা সিরিয়াস আমাদের দেশের সরকার কি মানুষপাচার রোধে ততটা সিরিয়াস হতে পেরেছে? পাশাপাশি এ ঘটনায় বিশ্ব সম্প্রদায় যেসব কথা বলছেন তাতে তারা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন।’
সেলিম বলেন, ‘আমরা যদি এখুনি এটা বন্ধ করতে না পারি তবে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানুষ এই দালাল চক্রের হাতে পড়ে আরও গরীব হবে। তখন কিন্তু আমরা শান্তিতে থাকতে পারবো না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিশ্ব সম্প্রদায় এ বিষয়টিকে নিয়ে চরম নির্লিপ্ততা দেখিয়েছে। তারা এর কোনো সঠিক সমাধান দিতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘যেসব লোক সেসব দেশে যাচ্ছেন তারা কতটা নিরাপদে যাচ্ছেন সে বিষয়টি নিশ্চিত করার দায়িত্ব কিন্তু সেই রাষ্ট্রের এবং সরকারের। এটা একটি বৈশ্বিক বিষয় এবং আঞ্চলিক সমস্যা।’
মানবাধিকার কর্মী সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘সরকার ব্যবস্থা নিলেই এটা রোধ করা সম্ভব। তবে শুধু সরকারই নয় পাশাপাশি সবাইকে এটা রোধে সোচ্চার হতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘একটি চক্র দেশের মানুষকে জিম্মি করে দেশকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এসব করে থাকে। শুধু দালালই নয়, এর সঙ্গে যেসব রাঘোব-বোয়াল জড়িত তাদের খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’
গবেষক ড. দেলোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, ‘এখন যে অভিযান চলছে তা অব্যাহত রাখতে হবে। শুধু এখন চলবে আর পরে বন্ধ তা করা যাবে না। এটা নিয়মিত করতে হবে যাতে কোনো মানুষই আর পাচার হতে না পারে।’
অভিবাসন প্রক্রিয়ার চেয়ারম্যান শাখেরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারকে অভিবাসন নিয়ে কঠিনভাবে ভাবতে হবে। যারা এসব মানুষকে পাচার করছেন তাদের ধরে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি সেইসব রুটে আর যাতে কেউ পাচার না হতে পারে তার জন্য নজরদারি বাড়াতে হবে।’
ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মূল প্রবন্ধ পড়েন সংগঠনের চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।