অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেছেন, ‘পুঁজিবাজারের প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুনজর দিতে হবে। ঘটনা ঘটার পরে নয় বরং আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করলে পুঁজিবাজারের জন্য তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশন আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে পুঁজিবাজারকে স্থায়ী, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে করণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বাজারে ভালো কোম্পানি আসা উচিৎ। পুঁজিবাজার যে অবস্থায় থাকুক না কেন সাপ্লাই বাড়াতে হবে। এতে কয়েকটি কোম্পানিকে ঘিরে যে কারসাজি হচ্ছে তা থাকবে না।’
মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। এ কারণে এক সপ্তাহে পুঁজিবাজারের সূচক বেড়েছে পাঁচ শতাংশ।’
বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর জন্য আয়োজকদের উত্থাপিত দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘দাবিগুলো নিয়ে আরো আগে আলাপ-আলোচনা করার দরকার ছিল। এখন কোনো ফল হবে বলে আমার মনে হয় না।’
রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এমন কোনো বক্তব্য দেবেন না, যাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়। নীতিনির্ধারকদেরও সংযত বক্তব্য দিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘অনেকেই মনে করে শেয়ারবাজার এতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। অথচ এক থেকে দেড় কোটি লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শেয়ারবাজারের সঙ্গে জড়িত। তাই শেয়ারবাজারকে খাটো করে দেখা উচিৎ নয়। দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে এটা ভূমিকা রাখতে পারে।’
আলোচনায় ডিএসইর সাবেক সভাপতি মো. রকিবুর রহমান বলেন, ‘পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানিতে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ এক্সপোজার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যা ঠিক নয়। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে বিনিয়োগকেই ব্যাংকের পুঁজিবাজার এক্সপোজার হিসেবে বিবেচনা করা উচিৎ। এতে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বাড়বে। বাজারে তারল্য ঘাটতি থাকবে না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ বলেন, ‘কিছুদিন আগে একটি কসমেটিকস কোম্পানির ২০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড স্টকে রূপান্তর করা হয়েছে। অথচ এ কোম্পানির রেকর্ড ডেট ক্যাশ ডিভিডেন্ডের ওপর নির্ধারিত ছিল। এটা সম্পূর্ণ বেআইনী কাজ। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নিরব ভূমিকা পালন করছে। যা কাম্য নয়। স্টক ডিভিডেন্ড প্রদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির লকইন নির্ধারণ করা উচিৎ। অন্যান্য দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শেয়ারবাজারের ওপর নির্ভর করে। আমাদের দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে শেয়ারবাজারের ওপর নজর দিতে হবে।’
সিএসইর চেয়ারম্যান ড. এমএ মজিদ বলেন, ‘পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতায় আমরা আসন্ন বাজেটে বেশকিছু প্রস্তাব দিয়েছি। বাজারের স্বার্থে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশের বেশি লভ্যাংশ প্রদানের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ আয়কর রেয়াত বহাল রাখা জরুরি।’
ঢাবি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এমন আইন প্রণয়ন করা উচিৎ যেখানে বিনিয়োগকারীদের পুঁজির নিরাপত্তা বজায় থাকে। ব্যাংকে লুটপাট হলে গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজারে লুটপাট হচ্ছে সেদিকে কারো ভ্রুক্ষেপ নেই। শেয়ারবাজারে বর্তমানে সাপ্লাই আছে ডিমান্ড নাই। তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার দর অনেক নিচে নেমে যাচ্ছে।’ এ অবস্থায় ঘন ঘন নতুন কোম্পানির অনুমোদন দেয়ার দরকার নেই বলে মনে করেন তিনি।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি রুহুল আমিন আকন্দের সভাপতিত্বে বৈঠকে ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী, আইসিবির সিইও মনোরঞ্জন চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

