ঢাকাFriday , 22 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিখোঁজের তালিকায় চকরিয়ারও শতাধিক মানুষ

Link Copied!

manকক্সবাজার প্রতিনিধি : পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ায় যেতে মানবপাচারকারী ও দালালদের খপ্পরে পড়ে সাগর পাড়ি দেয়া চকরিয়ার শতাধিক মানুষের কোনো সন্ধান মিলছে না। নিখোঁজের ওই তালিকা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। এ তালিকায় রয়েছে যুবক থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষও। দীর্ঘদিন ধরে তাদের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
সূত্রমতে, পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ২০১২ সালের নভেম্বরে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের গর্জনতলী গ্রাম থেকে অন্তত দশজন, দক্ষিণ মেধাকচ্ছপিয়া স্কুলপাড়ার বেশ কয়েকজন, উত্তর মেধাকচ্ছপিয়ার অন্তত ১১ জন, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ইসলামনগর গ্রামের অন্তত চারজন, এছাড়া কোনাখালী, বিএমচর, পুর্ববড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, সাহারবিল ইউনিয়ন ও চকরিয়া পৌরসভা এলাকা থেকে আরো বহু মানুষ প্রস্তুতি নেয়। তারা সবাই মানবপাচারকারী ও দালালচক্রের খপ্পড়ে পড়ে অবশেষে সাগরপথে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড চলে যান।
তবে বিদেশ পাড়ি দেয়ার পর থেকেই তারা নিখোঁজ রয়েছে। কোনোভাবেই তাদের সন্ধান পচ্ছে না তাদের স্ব স্ব পরিবার। প্রায় তিন বছর ধরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবারের সদস্যরা আজানা আশঙ্কায় শোককাতর হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি থাইল্যান্ডে গণকবরের সন্ধান পাওয়ার অনেক পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
স্থানীয়দের মতে, সাগরপথে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাড়ি দেয়া হতভাগ্যদের মধ্যে রয়েছে চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের গর্জনতলী গ্রামের মৃত আবদুস ছালামের ছেলে নুরুল আজিম, মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে নুরুল আবছার, হাসান আলীর ছেলে ছৈয়দ আলম, নবী হোছাইনের ছেলে নুরুল ইসলাম, সিরাজুল হকের ছেলে মনছুর আলম, সোনা মিয়ার ছেলে মো. শাহাজালাল, মৃত আমির হোছাইনের ছেলে দিল মোহাম্মদ, আবদু শুক্কুরের ছেলে সিরাজুল ইসলাম, মাহতাব উদ্দিনের ছেলে মো. সেলিম, আবদুল মোনাফের ছেলে ওয়াজউদ্দিন, দক্ষিণ মেধাকচ্ছপিয়া স্কুল পাড়ার আইয়ুব আলীর ছেলে জসিম উদ্দিনসহ অনেকে। উত্তর মেধাকচ্ছপিয়া এলাকার ফজল করিমের ছেলে আক্তার মিয়া, মৃত সোলেমানের ছেলে নুরুল আবছার, মৃত সোলতান আহমদের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন প্রকাশ মাছন, মো. আবদুর ছেলে আবদুল মালেক, মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে হেলাল উদ্দিন, খলিল আহমদের ছেলে মোহাম্মদ কালু, জনু মিয়ার ছেলে ফজল করিম, জয় গুনের ছেলে সালাহ উদ্দিন, রফিক উদ্দিনের ছেলে শাহাজাহান, একই এলাকার হাকিম আলী ও ইসমাইল। এছাড়া কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ইসলামনগর গ্রামের আবদুছ ছালামের ছেলে জসিম উদ্দিন রনি, মোক্তার আহমদের ছেলে মনির আহমদ, আনোয়ার হোছাইনের ছেলে মোবারক হোসেন, বাহাদুর আলমের ছেলে মো. ছুট্টো।
একই সঙ্গে কোনাখালী, বিএমচর, পূর্ববড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, সাহারবিল ইউনিয়ন ও চকরিয়া পৌরসভা এলাকা থেকে অর্ধশতাধিক মানুষ দালালচক্রের মাধ্যমে সাগরপথে চলে গেছে মালয়েশিয়ায়। বর্তমানে এদের সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। ঘরছেড়ে চলে যাওয়া এসব মানুষ কোথায় আছে কেউ জানে না।
অভিযোগ উঠেছে, যারা অবৈধ পন্থায় মালয়েশিয়ায় মানুষ পাঠিয়েছেন তাদের মধ্যে বেশির ভাগ পাচারকারী এখনও প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে। এদের মধ্যে খুটাখালী ছড়িবিল এলাকার বর্মাইয়া হাসু, বদরখালী এলাকার সাহাবউদ্দিন বাহাদুর, কোরালখালী এলাকার জোবাইর, ঈদমনি এলাকার আবদুল মালেক, আহমদ হোসেন, চকরিয়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের জেলেপাড়ার জসিম উদ্দিন কিশোর, মাহবুল আলম, কোনাখালী এলাকার শফিউল আলম, মোজাম্মেল, আবদুর রহিম, নুরুজ্জামান, ইসমাইল, বকুল ও সুরাজপুর ভিলেজারপাড়ার শফিউল্লাহ বহাল তবিয়তে আছেন।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, ‘কঠোর নাজদারি ও ক্রসফায়ারের ভয়ে অনেক মানবপাচারকারী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তারা ইতোমধ্যে চলে গেছে আত্মগোপনে। এরপরও তাদের ধরতে চেষ্টা চলছে।’
ওসি প্রভাষ চন্দ্র জানান, ঘটনায় জড়িত মানব পাচারকারীকে ধরতে পুলিশ সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে মানবপাচার আইনে ৮টি মামলায় ২৮জনকে আসামি করা হয়েছে।