অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : এফবিসিসিআই নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঘরে ঘরে চাকরি দেব। কিন্তু আমি বলি, ঘরে ঘরে ব্যবসা দেব। ব্যবসা দিলে সেখানে অনেক চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হবে। সেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনেকে চাকরি করতে পারবেন।’
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে উন্নয়ন পরিষদ প্যানেলের পূর্ব ঘোষিত ইশতেহারের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
মাতলুব আহমাদ বলেন, ‘ঘরে ঘরে ব্যবসা দেয়ার জন্য নির্বাচনী ইশতোহারে প্রতিটি জেলায় শিল্প নগরী গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করেছি। সারা দেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে ইশতেহার ঘোষণা করেছি। এরপরও ইশতেহারের অনেক বিষয় ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন মনে করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সঙ্গে কথা বলে তাদের মনের দুঃখ উপলব্ধি করতে পেরেছি। যা হলো- ব্যাংক সুদের হার কমানো। আমি নির্বাচিত হলে ব্যাংক সুদের হার কমিয়ে ৯ শতাংশে নিয়ে আসা হবে আমার প্রথম কাজ। আর তাই ইশতেহারের প্রথম পরিকল্পনাতে রয়েছে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নিয়ে আসা।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে ব্যাংক সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনবো।’
মাতলুব বলেন, ‘আমি ঘুরে ঘুরে দেখেছি দেশের জেলা চেম্বারগুলো শক্তিশালী নয়। জেলা চেম্বার দুর্বল হলে সেখান থেকে উদ্যোক্তা কম তৈরি হবে। জেলা চেম্বারগুলোর নিজস্ব ভবন প্রতিষ্ঠা ও পুরাতন ভবন সংস্কার এবং আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিসম্পন্ন করে গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে জেলায় চেম্বারের অধীনে ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের ক্ষমতা দেয়া হবে। যাতে উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসা বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদদের সমন্বয়ে একটি গবেষণা সেল প্রতিষ্ঠা করা হবে। এতে ফেডারেশন সচিবালয়ের দক্ষতা বাড়বে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পোশাক শিল্পে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগুচ্ছে সরকার। দায়িত্ব পেলে রপ্তানি ক্ষেত্রে বৈচিত্র আনা হবে।’
ভ্যাট আইনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভ্যাট আইন আরো সহজ করতে হবে। আমরা নিজেরাই নিজেদের ভ্যাট দেব।’
ফেডারেশনে সরাসরি নির্বাচন ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়ে অভিমত জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০০২ সালে সরাসরি ভোটের জন্য আমি এফবিসিসিআই ভবনে একদিন অনশন করেছিলাম। কিন্তু তা হয়নি। আসলে সরকার যে পলিসি দেবে, এ বিষয়ে সেই পলিসি মেনেই এগোতে হবে বলে।’
মাতলুব বলেন, ‘নির্বাচিত হলে এফবিসিসিআই ভবনে একটি মিডিয়া সেন্টার করা হবে। যেখানে গণমাধ্যমের কাছে এফবিসিসিআইয়ের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানানো হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই নির্বাচনে চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে অংশগ্রহনকারী ‘উন্নয়ন পরিষদ’ প্যানেলের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

