ঢাকাFriday , 22 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পর্যটন মন্ত্রণালয় করার দাবি এটিজেএফবি

Link Copied!

atjfbঅর্থনৈতিক প্রতিবেদক : রুগ্ন প্রায় পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে আলাদা মন্ত্রণালয় করার দাবি জানিয়েছে দেশের পর্যটন শিল্প নিয়ে কাজ করা সংগঠন অ্যাভিয়েশন ট্যুরিজম জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি)। এসময় তারা আগামী বাজেটে এ খাতের জন্য বেশি বরাদ্দ প্রদান ও সরকারের পক্ষ থেকে কিছু প্রণোদনা দেয়ারও দাবি জানান।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর একটি হোটেলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাত নিয়ে প্রাক বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে সেন্টার ফর পলেসি ডায়লগের অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন মূল প্রবন্ধে এ দাবি জানান।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান মো. ফারুক খান উপস্থিত ছিলেন।
মূল প্রবন্ধ পাঠের সময় গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘গত তিন মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটন শিল্প খাতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। তাই দেশের এই সম্ভাবনাময় খাত এখন রুগ্ন প্রায়। এই খাতকে এগিয়ে নিতে ব্যাপকভিত্তিতে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা দরকার। এজন্য বর্তমান যে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আছে, তা থেকে আলাদা করে শুধু পর্যটন মন্ত্রণালয় করার দাবি জানাচ্ছি। ভারত ও থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশে এই মন্ত্রণালয় আছে। কারণ পর্যটন খাতের সঙ্গে আরও অনেক খাত জড়িত। বাংলাদেশে যে পরিমাণ পর্যটক আসে তা হঠাৎ করে আসে না। পর্যটকদের থাকে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা থেকেই এটি করা উচিৎ।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালকে পর্যটন বছর ঘোষণা করেছেন। তবে এখন পর্যন্তু এ বর্ষ পালন নিয়ে নির্দিষ্ট প্রস্তুতি আছে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই জন্য আগামী বাজেটে নির্দিষ্ট বরাদ্দ ও তার বাস্তবায়ন থাকতে হবে। চলতি অর্থ বছরের বাজেটে এ খাতের জন্য ২০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও এখন পর্যন্তু তা বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৪৮ শতাংশ। বেসরকারি খাত এই শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তাই তাদের সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা করা দরকার।’
এজন্য সরকারের প্রণোদনাসহ শুল্কমুক্ত ট্যুরিস্ট গাড়ি আমদানি ও ট্যুর অপারেটরদের নগদ সহয়তার দাবি জানান তিনি।
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আগামী বাজেটে এই খাতে অনেক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ২০১৬ সালকে পর্যটন বছর হিসেবে কেন্দ্র করে তার প্রস্তুতি হাতে নেয়া হচ্ছে। এর প্রস্তুতির জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দের চাইতে আরও ৮ কোটি টাকা বেশি নেয়া হয়েছে। এছাড়া এই বর্ষকে নিয়ে আগামী অক্টোবর-নভেম্বর মাসে একটি আঞ্চলিক সম্মেলন করা হবে। সেখানে ৯টি দেশ অংশগ্রহণ করবে। এজন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিদেশি ট্যুরিস্টের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ট্যুরিস্টের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে। দেশে মোট পর্যটকের মধ্যে ৯০ শতাংশ হচ্ছে দেশিয় পর্যটক। মানুষ এখন ছুটি পেলেই ঘুরতে চলে যায়। বাসায় বসে থাকে না। তাই এদের দিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের অবদান সবচাইতে বেশি। তাই বেসরকারি ট্যুর অপারেটরদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত অর্থমন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’
মন্ত্রণালয় করার ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে পর্যটন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ হাতে নিয়েছি। সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে আমরা খান জাহান আলী বিমানবন্দর করতে যাচ্ছি। সেই সঙ্গে ট্যুরিস্ট গাড়ি আমাদানিতে ট্যাক্স যেন কমানো হয় সে ব্যাপারে অর্মন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তবে আলাদা মন্ত্রণালয় করার ব্যাপারে প্রথমে আলোচনা ও নীতিগত সিদ্ধান্তসহ প্রধানমন্ত্রীর মত দরকার। তাই এই বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
তবে আগের চাইতে বাংলাদেশে পর্যটন খাত অনেক এগিয়ে গেছে এবং এই খাতের সম্ভাবনা বাড়ছে। বিদেশিরা এই দেশে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করছে। এই জন্য আজকে বাংলাদেশ বিশ্বের ১০টি প্রধান ট্যুরিজম নির্ভর দেশের মধ্যে একটি বলেও জানান তিনি।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনের সাবেক মন্ত্রী বর্তমান সাংসদ মো. ফারুক খান বলেন, ‘ট্যুর অপারেটরদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরো দেয়া হবে। এই বিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ে আলোচনা করতে হবে। এব্যাপারে অর্থমন্ত্রণালয়ে আমার একটি পলিসি গাইডলাইন দেয়া আছে। ট্যুর অপারেটর এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য এয়ারপোর্টে টাকার বিনিময়ে ভিআইপি সার্ভিসটি চালু করা দরকার।’
মো. ফারুক খান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা আন্তর্জাতিক মানের ট্যুর অঞ্চল করতে চাই। এজন্য গাড়ি আমদানি শুল্ক ফ্রিসহ সরকারের পক্ষ থেকে সকল প্রণোদনা দিতে হবে। সেই সঙ্গে রিজার্ভ হোটেলগুলোতে এই সুযোগ দিতে হবে। আবার আগামী বাজেটেও বিশেষ লক্ষ্য রাখা হয় সেজন্য অর্মন্ত্রীকে সংসদীয় পক্ষ থেকে জানানো হবে।’
প্রাক বাজেট আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রফিকুজ্জামান, পর্যটন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান খান কবির, ক্যাবের চেয়ারম্যান এম সানাউল হক, ট্যুরিজম করপোরেশনের পরিচালক ড. নাসির উদ্দীন, তোয়াবের পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুল ইসলাম বুলু এবং বেঙ্গল গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মাসুদ হোসেন প্রমুখ।