ঢাকাFriday , 22 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মানবপাচারে জড়িত পুরো থাই গ্রাম

Link Copied!

manআন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলতি মাসের শুরুর দিকে থাইল্যান্ডের সঙ্খলা প্রদেশের দুটি জঙ্গল থেকে অভিবাসীদের ৩২টি কবরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। এসব অভিবাসীরা সবাই রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিক। এ খবরটি প্রকাশের পরই আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে সমালোচনা ঝড় ওঠে। কারণ মানবপাচারে থাইল্যান্ডের মাটি ব্যবহৃত হলেও দেশটি বরাবরই নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করে এসেছে।
বিবিসির সাংবাদিক জনাথন হেডের অনুসন্ধানে থাইল্যান্ডে মানবপাচারের ভয়ঙ্কর রূপ বেরিয়ে এসেছে। অনুসন্ধানে নেমে এই সাংবাদিক দেখেছেন, কিভাবে একটি পুরো গ্রাম শুধুমাত্র টাকার জন্য পাচারকারীদের সাহায্য করছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে কিছু থাই স্বেচ্ছাসেবীর সঙ্গে দেশটির জঙ্গল চষে বেড়িয়েছেন এ সাংবাদিক। দেখেছেন জঙ্গলে অভিবাসীদের ওপর চালানো নৃশংস নির্যাতনের চিহৃ। শুনেছেন কিভাবে গ্রামবাসী মানবপাচারীদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করে আসছে।
সাগর পথে নৌকায় করেই পাচার করা হয় রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অভিবাসীদের। তিনশজনকে বহনের জন্য নৌকার মালিক পান ২০ হাজার ডলার। এরপর অভিবাসীদের নিয়ে আসা হয় থাইল্যান্ডের জঙ্গলে। এখানে তাদের রেখে স্বজনদের কাছ থেকে আদায় করা হয় মুক্তিপণ। সাধারণত জনপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার ডলার মুক্তিপণ আদায় করে থাকে পাচারকারীরা। মানবপাচার মধ্যম পর্যায়ে জড়িত আছে গ্রামবাসী। যেখানে অভিবাসীদের রাখা হয় সেখানকার পুরো গ্রামবাসীই পাচারকারীদের সঙ্গে সংযুক্ত। অভিবাসীদের বন্দী করে রাখা হতো এমন একটি গ্রামের কথা উল্লেখ করে জোনাথান বলেন, এ হাত ইয়াই শহর থেকে এই গ্রামে পৌছতে গাড়িতে সময় লাগে ৩০ মিনিট।
গ্রামের বাসিন্দা এক থাই মুসলমান তরুণ জানান, ‘কয়েক বছর আগে জঙ্গলে আম জঙ্গলে পাখি শিকার করতে গিয়েছিলাম। এক পর্যায়ে আমি একটি অভিবাসী শিবিরের কাছে চলে যাই। সেখানে ক্যাম্পগুলোতে নারী, পুরুষ ও শিশুদের উপর নির্যাতনের দৃশ্য দেখি আমি। তখন থেকেই আমরা পালিয়ে আসা অভিবাসীদেরকে আশ্রয় দিতে শুরু করি।’
তিনি বলেন, `পুরো গ্রাম এতে জড়িত। কারণ কেবলই টাকা। পাচারকারীরা গ্রামের প্রত্যেককে ভাড়া করে। তারা শিবিরে নজরদারির জন্য, রোহিঙ্গাদের জন্য খাবার আনতে লোক ভাড়া করে। এই লোক ভাড়া করতে তারা গ্রামের প্রত্যেকের ঘরে যায়। এখানকার প্রধান শস্য রাবার বিক্রির টাকার সঙ্গে এটা একটা বাড়তি আয়।’
তাই শিবিরে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি অভিবাসীদের আটকে রাখতে কোন কাঁটাতারের বেড়ার প্রয়োজন পড়ে না পাচারকারীদের। কারণ পুরো গ্রামই এই বেড়া হিসেবে কাজ করে। কোন অভিবাসী ক্যাম্প থেকে পালিয়ে গেলে শিবিরের প্রহরীরা তাকে ধরে এনে বেদম মারপিট করে।
ভয়ঙ্কর এই মানবপাচারের সঙ্গে থাই কর্তৃপক্ষও জড়িত। কারণ কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ছাড়া এত বিশাল পরিসরে মানবপাচার সম্ভব নয়। তবে উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষ জড়িত আছে এখানে, তা এখনো পরিস্কার নয়। তবে এটা যে অনেক উচ্চ পর্যায়ের তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
গত বছরের শেষ দিকে মানবপাচারের বিষয়ে প্রচুর তথ্য জানেন এমন এক থাই পুলিশ কর্মকর্তা জোনাথানকে জানান, মালেয়শিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় কমপক্ষে একটি বিশাল বন্দী শিবির রয়েছে, যেখানে কমপক্ষে এক হাজার লোককে রাখা সম্ভব। এটি কেন বন্ধ করা হচ্ছে না জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা হেসে জবাব দেন, ‘সীমান্ত আসলে সেনাবাহিনীর এলাকা। আর পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সেখানে সেনাবাহিনীর অনুমতি ছাড়া আমি কিছুই করতে পারি না।’
ওই কর্মকর্তা কখনোই অনুমতি পাননি। তবে তিনি কেন দেশটির সরকার প্রধান জেনারেল প্রায়ুথ চ্যান ওচার কাছে যাচ্ছেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি যদি এটা করার চেষ্টা করি, তাহলে মানবপাচারকারীরা জেনারেলের সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই সেই তথ্য পেয়ে যাবে। এরপর তারা দ্রুত শিবির অন্য কোথাও সরিয়ে নেবে।’
তাই তিনি জানান, তার পক্ষে সর্বোচ্চ যা করা সম্ভব, তা হচ্ছে কেবল দেখে যাওয়া।