আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সিরিয়ার প্রাচীণ নগরী পালমিরা দখল করে নিয়েছে ইসলামিক স্টেট। স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী এবং বিদেশি পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউমেন রাইটস’ গোষ্ঠী জানিয়েছে, সিরিয় সেনাবাহিনীকে পরজিত করে সিরিয়ার পালমিরা শহরটি দখল করে নিয়েছে ইসলামিক স্টেট বা আইএস যোদ্ধারা। এর আগে বুধবার সকালে ওই গোষ্ঠীটি জানিয়েছিল, আইএস পালমিরার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
হোমস প্রদেশের কেন্দ্রস্থলে থাকা এ নগরীটি রাজধানী দোমেস্ক থেকে ২১০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব প্রান্তের মরুভূমিতে অবস্থিত। এই নগরী দখল করার ফলে আইএসের পক্ষে সিরিয়া সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা দামেস্ক এবং হোমসের দিকে অগ্রসর হওয়ার দরজা খুলে গেল।
বুধবার রাতে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আইএস যোদ্ধাদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। জিহাদিদের রুখতে সেনারা পালমিরার বাইরে থেকে প্রচুর রকেট নিক্ষেপ করেছিল বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। কিন্তু এরপরও তাদের গতি রোধ করা সম্ভব হয়নি।
গত সপ্তাহে শহরটিতে প্রথমবারের মতহ হামলা চালিয়েছিল আইএস। ওই হামলায় প্রচুর হতাহতের ঘটনা ঘটে। তখন তারা দুটি গ্যাসক্ষেত্র দখলে নিতে সমর্থ হয়েছিল। ।
এদিকে আলমিরা থেকে আব মুয়াজ নামের এক কর্মী প্রাচীণ ওই শহরটি আইএসের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘দু ঘণ্টা আগে সিরিয় সেনারা শহর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। গোটা শহরে ঘুরে বেড়াচ্ছে আইএস যোদ্ধারা। আমরা কোনো সংঘর্ষের শব্দ পাচ্ছি না।’ জিহাদিরা শহরটি দখল করে নেয়ার পর এখানকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে শুরু করেছে। এটি তাদমুর নামেও পরিচিত।
পালমিরায় প্রাচীণ সভ্যতার বেশ কিছু ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। এর মূল্যবান স্থাপত্যের কারণে এটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকায় স্থান পেয়েছে। মূল্যবান প্রাচীণ নিদর্শণের কারণে একে ‘মরুভূমির মুক্তা’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়ে থাকে।
এদিকে সিরিয়ার অ্যান্টিক বিভাগের প্রধান মামুন আবদুল করিম পালমিরা রক্ষায় সিরিয়ার সরকার, সেনাবাহিনী, বিরোধী দল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

