নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির দিকনির্দেশক। সরকার এ খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ২০২০ সালের মধ্যে এ খাতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ ভাগে উন্নীত করা হবে।’
শনিবার খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স, ট্রেড অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএসটিটি) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মেধাবী অসচ্ছল শিক্ষার্থীর মধ্যে ৫০০ ল্যাপটপ বিতরণ করা হয় এবং ছাত্রজীবন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরাসরি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৫০টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জব ট্রেনিং ও জব প্লেসমেন্ট বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘বি. এ বা এম. এ পাস করে বেকারত্বের ঘানি টানার চেয়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ নিয়ে কর্মমূখী সচ্ছল জীবন কাটানো অতীব উত্তম। কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, জাপান, চীনসহ ইউরোপীয় দেশগুলোতে কারিগরি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০ শতাংশের ওপরে। পরিকল্পিত মানবসম্পদ দ্রুত দেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যেতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার সময়ে দেশে কারিগরি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ শতাংশ। বর্তমানে তা ৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। দেশের ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক ও বেসরকারি ৫০০ কারিগরি প্রতিষ্ঠানকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। এগুলোর কোর্স-কারিকুলাম যুগোপযোগী করা হয়েছে। দেশে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, বিজিএমএ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়েছে। কারিগরি খাতে কোনো প্রকল্প ছিল না। এখন ৫টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কারিগরি বৃত্তিমূলক শিক্ষার উন্নয়নে সরকার সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।’
জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালের উপাচার্য মেজর জেনারেল শেখ মামুন খালেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মুনাজ আহমেদ নূর, স্টেপ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. ইমরান, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজাহান মিঞা, আইএসটিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম কায়কোবাদ, মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও গবেষক ড. গাজী মাহবুবুল আলম, আইএসটিটির অধ্যক্ষ প্রফেসর গাজী এম এ সালাম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

