ঢাকাSunday , 17 May 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্যানসার চিকিৎসা সেবায় যুগোপযোগী পেশা শিক্ষা
গণবিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স

Link Copied!

gonoনিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩ লাখের মতো মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ উপযুক্ত চিকিৎসা, সময়মতো ডাক্তরের কাছে যাওয়া এবং অর্থের অভাবে মারা যায়। তাছাড়া ক্যানসার এখনো আমাদের সমাজে মরণব্যাধি বলে পরিচিত। আর সেকারণে ক্যানসার ধরা পড়লে অবহেলায়ও মারা যায় অনেক প্রাণ।
ক্যানসার চিকিৎসায় তিনটি পদ্ধতি রয়েছে-সার্জারি, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি। সার্জারি হলো ক্যানসার আক্রান্ত অঙ্গ অপসারণ করা। কেমোথেরাপি হলো ওষুধের সাহায্যে ক্যানসারকে নিয়ন্ত্রণে আনা আর রেডিওথেরাপি হলো উচ্চশক্তির আয়নাইজ রশ্মি দ্বারা ক্যানসার কোষ ধ্বংস করা।
এক্ষেত্রে হরমোন নিয়ন্ত্রিত অঙ্গে ক্যানসার হলে হরমোন থেরাপি দেয়া হয়। ক্যানসারের আকার, অবস্থান, পর্যায় ও কোষের রকমভেদে এ পদ্ধতিগুলো একক বা যৌথভাবে প্রয়োগ করা হয়। এ তিনটি পদ্ধতির মধ্যে রেডিওথেরাপিতে  তুলনামূলক কম খরচ পড়ে। মোট রোগীর ৬০ ভাগ এই চিকিৎসার আওতায় থাকে।
রেডিওথেরাপির খরচ ধরা হয় কেমোথেরাপির তিন ভাগের এক ভাগ। তাই রেডিওথেরাপি চিকিৎসা পদ্ধতি দিন দিন উন্নয়নশীল বিশ্বে গুরুত্ব লাভ করছে। অন্য দুটি পদ্ধতির মত শুধু ডাক্তার দিয়ে রেডিওথেরাপির মাধ্যমে ক্যানসার চিকিৎসা সম্ভব নয়।
আধুনিক সব যন্ত্র সংবলিত চিকিৎসায় ডাক্তার, চিকিৎসা পদার্থবিদ ও টেকনিশিয়ানের একটি টিম অতি প্রয়োজনীয় ও বাধ্যতামূলক। রশ্মি দিয়ে একদিকে যেমন ক্যানসার কোষ মেরে ফেলা যায় তেমনি আবার সুস্থ কোষে রশ্মি পড়লে ক্যানসার হওয়ারও আশংকা থাকে। কনফরমাল নামের পদ্ধতিতে ক্যানসার কোষ প্রয়োজন অনুযায়ী রশ্মি পায়। কনফরমাল রেডিওথেরাপি চিকিৎসা পদার্থবিদ ছাড়া সম্ভব নয়।
উন্নত বিশ্বে চিকিৎসা পদার্থবিদ ছাড়া রেডিওথেরাপি প্রয়োগ হয়না। এদেশে সরকারী হাসপাতাগুলোর মধ্যে (মহাখালী ক্যানসার ইনস্টিটিউট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালও ইন্সটিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স) রেডিওথেরাপী বিভাগে চিকিৎসা পদার্থবিদ পদ সৃষ্টি হয়েছে। সেই পদগুলো স্থায়ী ভাবে নিয়োগ দেয়ার জন্য সরকারী পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।
বাংলাদেশ ক্যানসার চিকিৎসা প্রদানের জন্য আধুনিক মেশিন সরকারীভাবে ক্রয় করছেন। তাছাড়া মেশিন প্রদানকারী কোম্পানির মাধ্যমে মেডিকেল ফিজিসিস্টদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য যে বাংলাদেশে যে সকল বেসরকারী হাসপাতাল যেমন (স্কয়ার হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল, আহসানিয়া মিশন ক্যানসার হাসপাতাল ও খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) রেডিওথেরাপি চিকিৎসা মেডিকেল ফিজিসিস্টরা অনকোজিস্টদের পাশাপাশি চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ সপ্রতি চিকিৎসা পদার্থবিদ নিয়োগ দিয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতও নেপালে  চিকিৎসা পদার্থবিদ ছাড়া রেডিওথেরাপি চিকিৎসা হয় না।
পৃথিবীর সকল দেশে বিশেষত উন্নত দেশগুলোতে এ পেশার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে একজন চিকিৎসা পদার্থবিদ বাংলাদেশী টাকায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা মাসে আয় করে থাকে। আমেরিকা, ইউরোপের মত দেশগুলোতে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা মাসে আয় সম্ভব। পৃথিবীর প্রায় সব দেশে এ সেক্টরে পর্যাপ্ত জনবলের ঘাটতি রয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশেও চিকিৎসা পদার্থবিদ পেশার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে ক্যানসার সচেতনা যেভাবে বাড়ছে এবং সহজে ক্যানসার ধরা পড়ছে সে তুলনায় চিকিৎসা পদার্থবিদের সংখ্যা এখানে অনেক কম। বাংলাদেশে হাতে গোনা অল্প কয়েকজন চিকিৎসা পদার্থবিদ বিভিন্ন স্থানে কাজ করছেন। জনসংখ্যার অনুপাতে আমাদের দেশে যেখানে বর্তমানে ৩২০টি লিনিয়ার অ্যাকসিলেটর, ১৬০টি রেডিওথেরাপি কেন্দ্র, ৫০০ জন চিকিৎসা পদার্থবিদ, ১০০০ জন রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট এবং ৮০০ জন টেকনিশিয়ান থাকা প্রয়োজন সেখানে বর্তমানে মাত্র ১২টি লিনিয়ার অ্যাকসিলেটর, ১৮টি রেডিওথেরাপি কেন্দ্রে সরকারী ৩০ জন মেডিক্যাল ফিজিসিস্ট, ১২০ জন রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট এবং ১০০ জন টেকনিশিয়ান রয়েছেন। তাই একজন চিকিৎসা পদার্থবিদের জন্য চাকরির দুয়ার বাংলাদেশসহ সারা দুনিয়ায় খোলা।
দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়, রিসার্চ সেন্টার, পরমাণু শক্তি কমিশন, রেডিওথেরাপি সেন্টার, চিকিৎসা উপকরণ প্রস্তুতকারী কোম্পানীতে এ পদের কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সরকারী চাকুরিতে এ পদ প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশে ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ার সঙ্গে এ বিষয়ে পেশাদার জনবলের চাহিদা বাড়ছে। বিষয়টি খেয়াল রেখে জার্মান প্রবাসী প্রখ্যাত চিকিৎসা পদার্থবিদ অধ্যাপক ড. গোলাম আবু জাকারিয়ার পরামর্শ ও সহযোগিতায় গণ বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আওতাধীনে ২০০০ সালে মাস্টার্স এবং ২০০৫ সালে অনার্স কোর্স চালু হয়েছে।
বর্তমানে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে আধুনিক যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ পদার্থবিদ্যা পরীক্ষাগার, চিকিৎসা পদার্থবিদ্যা পরীক্ষাগার, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইলেক্ট্রনিক পরীক্ষাগার রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচেষ্টায় ও জার্মানের সহায়তায় উন্নতমানের পাঠাগার ও গবেষণাগার তৈরি করা হয়েছে। এই বিভাগের ব্যবহারিক ক্লাসগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরীক্ষাগার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে করানো হয়।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে বিএসসি (অনার্স) কোর্স করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক (বিজ্ঞান) পরীক্ষায় গণিতসহ ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ থাকতে হয়। শর্ত সাপেক্ষে ভর্তি হতে পারে পলিটেকনিক ও ডিপ্লোমাধারীরাও। এমএসসি কোর্সে ভর্তির জন্য থাকতে হয় পদার্থ বিজ্ঞান, ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান, গণিত, রসায়ন, প্রাণ রসায়ন বা বায়োলজিতে ন্যূনতম দ্বিতীয় শ্রেণীর অনার্স বা এমএসসি ডিগ্রি। এমবিবিএস, বিডিএস, সিএসই, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেক্ট্রনিক বা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ বিএসসি দ্বিতীয় শ্রেণী পাওয়া ডিগ্রীধারীরাও ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারে।
এই বিভাগে রয়েছে বেশ কিছু অভিজ্ঞ নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক। বিভাগটি সরাসরি তত্বাবধান করছেন জার্মান প্রবাসী প্রখ্যাত চিকিৎসা পদার্থবিদ ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. গোলাম আবু জাকারিয়া। তিনি ১৯৮৬ সাল থেকে জামার্নির কোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুমারেসবা হাসপাতালে চিকিৎসা পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল ফিজিক্স এন্ড বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে এ পর্যন্ত ৩৬ জন অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেছে। তাদের মধ্যে প্রায় সবাই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কর্মরত রয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে এ বিভাগটি তথা গণ বিশ্ববিদ্যালয় সদা সচেষ্ট।