স্পোর্টস ডেস্ক : ২০০৯ সালে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ছয়টি শিরোপা জেতার পরই বার্সা হয়ে উঠেছিল দুর্দমনীয়। কেউ বলত, বার্সা খেলে ভিনগ্রহের ফুটবল। আর মেসি সেই ভিন গ্রহের ফুটবলার। সময়ের তালে তালে মেসির নামের পাশে অনেক বিশেষণই জমা হয়ে আছে। সাফল্যের পার্থক্যে তা ব্যবহৃত হয় হরহামেশাই। এই যেমন মেসির জাতীয় দলের সতীর্থ কার্লোস তেভেজ আবারও বলেছেন, ‘মেসি ভিনগ্রহের খেলোয়াড়’। হঠাৎ করে মেসির প্রশংসায় তেভেজ, কারণ ভিন্ন জায়গায়।
আগামী ছয় জুন বার্লিনে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা ও জুভেন্টাস। ফলে মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন মেসি ও তেভেজও। জাতীয় দলে এক সঙ্গে মাঠে নামলেও এদিন দুজনেই হবে তীব্র প্রতিপক্ষ। তারপরও মাঠে নামার আগে মেসির প্রশংসাই গাইছেন তেভেজ।
‘মেসি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে তা প্রমাণ করেছে মেসি। সে আসলে ভিনগ্রহের খেলোয়াড়। তার সঙ্গে কোন সমস্যাই নেই’ স্কাই টিভিকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন তেভেজ।
রিয়াল মাদ্রিদের মতো দলকে হারিয়ে ২০০৩ সালের পর প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠে এসেছে জুভেন্টাস। তাদের সামনে ১৯ বছর পর শিরোপা জেতার সুযোগ। সেই সুযোগ অবশ্য হাতছাড়া করতে চান না তেভেজ। বার্সাকে কঠিন প্রতিপক্ষ মেনেই এই আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘আমরা যোগ্য দল হিসাবেই ফাইনালে উঠেছি। এখন বার্লিনে বার্সাকে মোকাবেলা করাই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমাদের টিমও বেশ ভালো। কেউ হয়ত আমাদের হয়ে বাজি ধরবে না। তবে ফাইনাল পর্যন্ত আসতে দুর্দান্ত কিছু নৈপুন্যই দেখিয়েছি আমরা’।
সেমিফাইনালে বায়ার্নকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে এসেছে বার্সা। তবে জুভেন্টাস হারিয়েছে গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন রিয়ালকে। যা সত্যিই বিস্ময়জাগানিয়া। সবার ধারণা ছিল ফিরতি লেগে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে হয়তো রিয়াল ঘুঁড়ে দাঁড়াবে। কিন্তু না। ম্যাচ হয়েছে ১-১ গোলে ড্র। আগের লেগে জুভেন্টাস জিতেছিল ২-১ গোলে। যেখানে তেভেজের ছিল একটি গোল। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ফাইনালের টিকিট পায় জুভেন্টাস।
দারুণ এই সাফল্যে জুভেন্টাস কোচ ম্যাসিমিলিয়ানো অ্যালেগ্রি ভাসছেন প্রশংসায়। কোচের আসলে কি প্লান ছিল সেমিফাইনাল নিয়ে, এমন প্রশ্নের জবাবে তেভেজ বলেছেন, ‘সেমির দুই লেগের ম্যাচ তার কঠোর পরিকল্পনা ছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি সফল। যদিও তিনি এই সাফল্য আমাদের দেন, কিন্তু আসল কারিগর তিনিই।’

