স্পোর্টস ডেস্ক : ওয়ানডে এবং টি২০ সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর বাংলাদেশ দলের সামনে ছিল টেস্ট সিরিজ জয়ের হাতছানি। যদিও প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালি পাকিস্তান। তবে খুলনা টেস্টে তামিম ও ইমরুলের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে অতিথি দলের সঙ্গে প্রথমবারের মতো টেস্টে ড্র করেছিল স্বাগতিকরা। তাই ঢাকা টেস্টে ক্রিকেটপ্রেমীরা প্রত্যাশা করেছিলেন জয় না হোক অন্তত ড্র দিয়ে সিরিজ শেষ করবে টাইগাররা। তবে সিরিজের শেষটাতে ভালো না করায় হতাশ বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম।
ঢাকা টেস্টে পাকিস্তানের কাছে ৩২৮ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। খুলনা টেস্টে পিছিয়ে পড়লেও তামিম ও ইমরুলের ব্যাটিংয়ে ড্র করতে সক্ষম হয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে ঢাকায় প্রতিরোধহীনভাবে শেষ হয়েছে টেস্ট। অধিনায়ক মুশফিক বলেছেন, ‘আমরা সব সময়ই ভালো-মন্দের মধ্য দিয়েই খেলে থাকি। এটা খুবই স্বাভাবিক। তবে আমরা ঢাকায় প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারিনি। সেই জন্য দায়টা আমাদের সবার। আমরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী এই টেস্ট খেলতে পারিনি। খুলনা টেস্টটা এতো ভালো ব্যাট করে আমরা ম্যাচটা বাঁচালাম, এত বড় একটা লিড নিলাম। সেদিক থেকে এই টেস্টে দুই ইনিংসে আমরা ভালো ব্যাট করতে পারিনি। কেউই বড় কোনো ইনিংস খেলতে পারিনি।’
খুলনায় ড্র করার পর বাংলাদেশ আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল জয়ের জন্য। তাই মিরপুরে টসে জিতে প্রথমে বেছে নিয়েছিল ফিল্ডিং। এ বিষয়ে মুশফিক বলেন, ‘টস জিতে আমরা ব্যাটিং না বোলিং কোনটা নেব সেটাও আগে থেকেই ঠিক করা থাকে। উইকেটটা কি রকম হতে পারে আমরা কিউরেটরের সঙ্গে সেভাবেই কথা বলে থাকি। সবার সঙ্গে সব কথা বলেই এবং আমরা যারা সিনিয়র খেলোয়াড়রা থাকি আমরা আরেকজনের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা করি, এই উইকেটে কেমন হতে পারে। সবার সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এখানে একক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয় না।’
মিরপুরের উইকেট খুলনার থেকে একটু ভিন্ন হওয়ায় এখানে খেলার কথা ছিল জুবায়ের হোসেন লিখনের। তবে শেষ মুহূর্তে জুবায়ের ইনজুরিতে পড়ায় একাদশে ঠাঁই হয়েছিল শুভাগত হোমের। এ বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন , ‘লিখন সকাল পর্যন্ত এই টেস্টের দলে ছিল। সকালে এসে ও চোট পাওয়ায় ওর বিকল্প নিতে হয়। শুভাগত দলেই ছিল। আমাদের মনে হয়েছিল ও বেটার অপশন হতে পারে।ওদের ইয়াসির শাহ ভালো বোলিং করেছে। লিখন খেলতে পারলে ওর জন্য হয়তো ভালো বেনিফিট থাকতো এই উইকেটে।’
খুলনাতে ভালো খেলার পর ঢাকায় এমন ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয় প্রসঙ্গে মুশফিকের ভাষ্য, ‘এটা তো অবশ্যই থাকে। ক্রিকেটে তো সব সময় সব ব্যাটসম্যান ফর্মে থাকে না। টপঅর্ডার যেহেতু শেষ ম্যাচে ভালো খেলেছে, একটা প্রত্যাশা তো থাকেই। ওদের যেন সেই ধারাবাহিকতাটা থাকে। যেন মিডলঅর্ডার বা লেট মিডলঅর্ডারের জন্য কাজটা যেন সহজ হয়। ওরা চেষ্টা করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি তারা।’
ঢাকায় টস জেতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানানোয় কিনা ম্যাচটি সাড়ে তিন দিনে শেষ হয়ে গেছে। তবে এটা মানতে নারাজ মুশফিক, ‘আপনারা অনেকেই বলেছেন টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার কথা। উইকেটে অনেক সহায়তা ছিল, টিম ম্যানেজমেন্টের একটাই সিদ্ধান্ত ছিল। আমার মনে হয়, রাজিব যদি সে সময় চোটে না পড়তো তাহলে আমাদের দুই পেসারই প্রথম সেশনে ওদের তিন-চারটা উইকেট নিয়ে নিতে পারতো। প্রথম ইনিংসে ওদের কম রানে অলআউট করে যদি বড় একটা স্কোর গড়া যেত তাহলে টেস্টটা হয়তো অনেক ডিফারেন্ট হয়তো। হয়নি, তার দায় আমাদেরই। ’

