স্পোর্টস ডেস্ক : এক দিক দিয়ে মাঠে নামছেন রোনাল্দো, গ্যারেথ বেল, হামেস , রামোস …। অন্য দিক দিয়ে পিরলো, তেবেজ, ইয়োরেন্তে , বিদাল …। ইতালির মাঠে সরাসরি ফুটবল দেখার আবহ একেবারে অন্যরকম। অপলক তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎই আবিষ্কার করতে হবে, আজ যেন বিশ্বকাপ বা ইউরো কাপে স্পেন বনাম ইতালি।
তার আগেই ব্যাপারটা টের পেয়ে যেতে পারেন দর্শকরা। কিক অফের বাঁশি বাজার আগেই টস করতে হাত মেলাতে এগিয়ে আসছেন জিয়ানলুইগি বাফন এবং ইকার ক্যাসিয়াস।
লিওনেল মেসি , ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে অজস্র কাগজে লক্ষ লক্ষ লাইন লেখা হয়ে গেছে। কিন্তু ওই দু’জনের মতোই সাম্প্রতিক বিশ্ব ফুটবলে আরও দু’জন রয়েছেন, যারা সর্বকালের সেরাদের তালিকায় স্থান পাওয়ার যোগ্য। এরাই আজ টস করতে এগিয়ে আসবেন। বাফন এবং ক্যাসিয়াস। আন্তর্জাতিক ফুটবল পরিসংখ্যানকারী প্রতিষ্ঠান ‘অপটার’ হিসেবে, গত পঁচিশ বছরের ইতিহাসে এক নম্বর গোলরক্ষক বাফন। দু’নম্বরে ক্যাসিয়াস। তার পরে রয়েছেন ফন ডার সার, পিটার স্কিমিচেল এবং অলিভার কান।
মেসি -রোনালদোর মধ্যে এত ব্যক্তিত্বের সংঘাত, কথাই হয় না খুব একটা। আর ৩৭ এর বাফন এবং ৩৩ এর ক্যাসিয়াসের মধ্যে সম্পর্ক উল্টো। মধুর সম্পর্ক। রিয়াল মাদ্রিদে সাম্প্রতিক অতীতে ক্যাসিয়াসের হেনস্থার খবরে গর্জে উঠেছিলেন বাফন। অন্যদিকে ইতালির গাজেত্তা দেল্লো স্পোর্টস পত্রিকায় গতকাল ক্যাসিয়াসের মন্তব্য, ‘আমি কী বলতে পারি বাফন সম্পর্কে? যখন থেকে গোলরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, তখন থেকে আমার আদর্শ। যারা কিপিং করে, তারা বাফনকে ভেবেই এগোয়।
তাহলে বাফন না ক্যাসিয়াস? আজ কার গলায় উঠবে বিজয় মাল্য! জুভেন্তাসের ঘরের মাঠে রিয়াল এবং স্পেন অধিনায়কের মুখোমুখি হবে জুভেন্তাস এবং ইতালির অধিনায়ক। মাঠের খেলা খেলবেন স্ট্রাইকার-ডিফেন্ডার এবং মিডফিল্ডাররা। তারা দু’জন শুধু গোলরক্ষা করবেন। কিন্তু, ম্যাচে যে কখনও কখনও পোস্টের নিচের প্রহরীই হয়ে ওঠেন আসল নায়ক।
কিপারদের দিক থেকে চোখ সরালে এই ম্যাচটায় আবেগ ও ইতিহাসের গুরুত্ব থাকছে অনেক। আন্দ্রে পিরলো যাকে গুরু মানেন, সেই কার্লো আনচেলত্তির সঙ্গে আবার দেখা হবে যুদ্ধক্ষেত্রে। এসি মিলানে পিরলোর পজিশন পাল্টে তাকে ‘ডিপ লাইং মিডফিল্ডার’ করে দিয়েছিলেন আনচেলত্তি। জীবন বদলে গিয়েছিল পিরলোর।
ইতালির সর্বকালের অন্যতম সেরা কোচ ও ফুটবলার আনচেলত্তি ঘরে ফিরছেন শত্রু হয়ে। রিয়াল মাদ্রিদে পাঁচ বছর খেলা স্প্যানিশ আলভারো মোরাতা আবার ইতালিয়ান দলের জার্সিতে। তিনিও এই ম্যাচে ঘরশক্রু। রোনালদোর কাছে তাৎপর্য, বহুদিন পরে ক্লাব ফুটবলে সেরা ডিফেন্সের সামনে তিনি। তেবেজের সামনে দেখানোর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, ইউরোপিয়ান মঞ্চেও তিনি মেসি-রোনালদোর মতো ভয়ংকর।
তবে ফুটবলে এত বর্ণময় চরিত্ররাও বিতর্কহীন ক্যাসিয়াস-বাফনের কাছে পানশে। রোনালদো বা তেবেজ বিশ্বকাপ জেতেননি। ক্যাসিয়াসের হাতে রয়েছে একটা বিশ্বকাপ, দুটো ইউরোসহ ২২ ট্রফি। কোনও কিপার এত ট্রফি জিতেছেন কি না সন্দেহ? বাফনের হাতে একটা বিশ্বকাপ, ইউরোর রানার্সআপ ট্রফি।
আবার ক্যাসিয়াসের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ভাগ্য বাফনের চেয়ে অনেক অনেক ভালো, ৩-০ এগিয়ে। খেলা ছেড়ে দিলে এঁদের রাখতেই হবে লেভ ইয়াসিন, গর্ডন ব্যাঙ্কস, ডিনো জফ, শেপ মেয়ার, স্কিমিচেলদের মতো সর্বকালের সেরা পাঁচের মধ্যে। মেসি -রোনালদোকে যেমন রাখতে হবে।
এই বছরের পরিসংখ্যান দেখলে বিশ্বের সেরা ১০ গোলরক্ষকের মধ্যে কাসিয়াস নেই। বাফন চার নম্বরে। ন্যুয়ার, কুর্তোস, নাভাসের পর। কিন্তু মজা হচ্ছে, আনচেলত্তি এ দিনও বলেছেন, ‘আমি হয়তো রিয়াল মাদ্রিদে থাকব। না থাকলে ক্যাসিয়াসও থাকবে।’ নাভাসকে এখনও ক্যাসিয়াসের উপরে রাখছেন না ধুরন্ধর কোচ। ক্যাসিয়াসের বাজে গোল খাওয়ার ব্যাপারটা নিয়ে যত হইচই হয়েছে, তত হইচই হয়নি তার অবিশ্বাস্য কিছু সেভ নিয়ে। সর্বশেষ সেভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও দেখা গেলো, রোনালদোর হ্যাটট্রিক মূল্যহীন হয়ে যেত ক্যাসিয়াস অসাধারণ কিছু সেভ না করলে।

