স্পোর্টস ডেস্ক : দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানকে ব্যাট করতেই দিলেন না মুশফিকুর রহিম। ঢাকা টেস্টের জন্য নিজেরাই ব্যাটিং প্র্যাকটিসটা করে নিলেন।দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ৫৫৫ রান করেই ৫ম দিনের খেলা শেষ করে দিলো বাংলাদেশের টাইগাররা। ফলে হাই স্কোরিং একটি টেস্ট শেষ পর্যন্ত নিষ্প্রান ড্রই মেনে নিল। সাকিব আল হাসান ৭৬ এবং শুভাগত হোম অপরাজিত ছিলেন ২০ রানে।
দিনের খেলা তখনও প্রায় ১৭/১৮ ওভার বাকি। দুপুরে বৃষ্টি হওয়ায় এমনিতেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন।
টেস্ট তো ড্র নয় যেন, পাকিস্তানসহ বাকি ক্রিকেট বিশ্বকে মুশফিকদের জানিয়ে দেওয়া জরুরী ছিল যে, ‘দেখ তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটেই আমরা কতটা পরিবর্তন হয়ে গেছি। কোন এক ইনিংস হয়তো খারাপ খেলতে পারি। কিন্তু ঘুরে দাঁড়াতে হয় কিভাবে আমরা সেটাও জেনে গেছি। ওয়ানডে, টি২০’র পর এবার আমরা টেস্ট ক্রিকেটেও ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচকে পুরোপুরি নিজেদের পকেটে নিয়ে নিতে পারি।’
তামিম ইকবালের প্রথম টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরির পাশাপাশি ইমরুল কায়েসের ১৫০ রানের ইনিংসের সুবাদে খুলনা টেস্টে বাংলাদেশের লিড ১৫০ পেরিয়েছে। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এদিন ডাবল সেঞ্চুরি করেন তামিম। এর আগে ২০১৩ সালে মুশফিকুর রহিম শ্রীলংকার বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করেন।
৩৯৯ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে তামিম ইকবাল সাজঘরে ফেরার পর চতুর্থ উইকেটে সাকিবকে নিয়ে ৬৪ রানের জুটি গড়ে দলকে বিপদমুক্ত করেন মাহমুদুল্লাহ। তবে দ্রুত মাহমুদুল্লাহ ও মুশফিককে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
দলীয় ৩৬৩ রানের সময় ব্যক্তিগত ৪০ রান করে জুনায়েদ খানের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল্লাহ। আম্পায়ারের দেয়া এলবিডব্লিউ’র সিদ্ধান্তের বিপক্ষে রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। এর আগে প্রথম ইনিংসে ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি-বঞ্চিত হন মাহমুদুল্লাহ।
একটু পর অধিনায়ক মুশফিক কোনো রান না করে সাজঘরে ফিরলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। হাফিজের বলে লেগ বিফোরের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন টাইগার অধিনায়ক। আউটটি নিয়ে সন্দেহ থাকায় রিভিউ নেয়ার ব্যাপারে সাকিবের সঙ্গে পরামর্শ করেন মুশফিক। তবে সাকিব ‘না’ করায় রিভিউ নেননি বাংলাদেশের অধিনায়ক।
মুশফিকের পর সৌম্য সরকারকে নিয়ে ৬০ রানের জুটি গড়েন সাকিব আল হাসান। এরই মাঝে ক্যারিয়ারে ১৮তম ফিফটির দেখা পেয়ে যান বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। সৌম্য সরকারও চেষ্টা করেছিলেন টেস্টে নিজের প্রথম ফিফটিটা তোলা যায় কি না। কিন্তু আসাদ সফিকের একটি বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে প্রায় বাউন্ডারি লাইনে মোহাম্মদ হাফিজের হাতে ধরা পড়েন তিনি। প্রথম ইনিংসের মত দ্বিতীয় ইনিংসেও সৌম্য আউট হলেন ৩৩ রান করে।
প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের চেয়ে ২৯৬ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের ইনিংস ৪৫০ পেরিয়েছে। ফলে স্বাগতিকদের লিড ১৫০ ছাড়িয়েছে। ডাবল সেঞ্চুরির পর অবশ্য সাজঘরে ফিরে গেছেন তামিম। ব্যক্তিগত ২০৬ রান করে হাফিজের বলে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পরে দীর্ঘ ৭ ঘণ্টার লড়াই শেষে সাজঘরে ফেরেন এই বাঁ-হাতি ওপেনার। তামিমের আগে ১৫০ রান করে ফিরে যান ইমরুল।
শনিবার খুলনা টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিন লাঞ্চের পর দ্বিতীয় দফা বৃষ্টির কারণে বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। লাঞ্চের বিরতি শেষে খেলা শুরু হওয়ার ২৫ মিনিটের মাথায় দ্বিতীয় দফা ম্যাচে বৃষ্টি হানা দেয়। তবে ১৫ মিনিটের মধ্যেই বৃষ্টি শেষে ফের খেলা শুরু হয়। দ্বিতীয় দফা বৃষ্টির পর খেলা শুরু হওয়ার একটু পর মুমিনুলের উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
দলীয় ৩৪৫ রানের মাথায় জুনায়েদ খানের সুয়ং বলে বোল্ড আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন মুমিনুল। ফুটওয়ার্ক ঠিক না থাকায় মিডল ও লেগ স্ট্যাম্পের বেল উড়ে যায় মুমিনুলের। আউট হওয়ার আগে ৫১ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
এর আগে ১১.৪৮ টায় বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের ১২ মিনিট আগে আম্পায়াররা লাঞ্চের বিরতি দেন। ২০ মিনিট পর বৃষ্টি থামলে লাঞ্চ বিরতি শেষে ফের খেলা শুরু হলেও আকাশ মেঘলা থাকায় ফের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর সেই শঙ্কা সত্যিকারে রূপ নেয়।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নেমে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের অসাধারণ, দুর্দান্ত জুটির ওপর ভর করে সফরকারী দলকে পাল্টা জবাব দিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এই দুজনের জুটিতে পাকিস্তানের লিড পেরিয়ে স্বাগতিকরা লিড নিয়েছে।
টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ১৫০ রানের ইনিংস খেলে ইনিংসকে আর বড় করতে পারেননি ইমরুল কায়েস। ব্যক্তিগত ১৫০ রান করে জুলফিকার বাবরকে ডাউন দ্য ট্রাকে এসে তুলে মারতে গিয়ে লং অফে বদলি খেলোয়াড় বাবর আজমের হাতে ধরা পড়েন তিনি। তার ২৪০ বলে ১৫০ রানের ইনিংসটি ১৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো ছিল।

