স্পোর্টস ডেস্ক : বাংলাদেশের কাছে একের পর এক হারে বিপর্যস্ত একসময়ের প্রবল পরাক্রমশালী পাকিস্তান। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ‘বাংলাওয়াশ’ হওয়ার পর একমাত্র টি২০তেও হেরেছে বিরানব্বইয়ের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই পরাজয়ে গোটা পাকিস্তানজুড়ে চলছে শোকসভা। পাকিস্তানের সাবেকরা যেন আরও বেশি উত্তেজিত।
নিজের দেশের এমন হার কোনভাবেই তারা মানতে পারছেন না। এই কাতারে আছেন সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরামও। যিনি এখন কলকাতা নাইট রাইডার্সের মেন্টর। কলকাতার ‘এবেলা’ পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন আকরাম। যেখানে রাখঢাক না রেখে বাংলাদেশ বিপর্যয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে (পিসিবি) পরিবর্তণ চেয়েছেন তিনি। পাঠকদের জন্য ওই প্রতিবেদনের একাংশ তুলে ধরা হলো।
‘বাংলাদেশের সামনে তার দেশের বিপর্যস্ত হওয়া দেখে ক্ষিপ্ত ওয়াসিম আকরাম। দাবি তুলেছেন, পাক বোর্ডে ঢালাও বদল হওয়া দরকার। তরুণ রক্ত আনার কথাও বলেছেন তিনি, ‘পাকিস্তান ক্রিকেটের এই অবস্থা দেখে আমি ব্যথিত। এমন নয় যে, আমাদের হাতে বিশাল বিশাল সব প্লেয়ার আছে। যা হাতে আছে তাই আমরা খেলাচ্ছি। এই দিয়েই আমাদের এগুতে হবে। কিন্তু আমাদের ক্রিকেট প্রশাসকদের মনোভাব দেখে অবাক হয়ে যাচ্ছি-’ বলেছেন আকরাম।
এরপরই তিনি নিজের দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে তোপ দাগান। বলে দিলেন, ‘দেশে কোন পরিকাঠামোই নেই। কেউ গড়ে তোলার চেষ্টাও করছে না। গত অক্টোবরে পাকিস্তানে ঘরোয়া টি২০ টুর্নামেন্ট ছিল। আমাদের কর্তারা সকাল আটটায় ম্যাচ আয়োজন করেছিল। সকাল আটটা! ভাবতে পারেন? ইন্তিখাব আলমের হাতে দায়িত্ব ঘরোয়া ক্রিকেট চালানোর। কেউ তাকে প্রশ্ন করারও নেই!’
ক্ষিপ্ত আকরাম বলে চলেন, ‘পিটিভি’র সঙ্গে চুক্তি ছিল। ওরা বলে টি২০ ম্যাচ দেখাব না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ দেখাব। তারপর ওরা বলে, সকাল আটটায় ম্যাচ করে দাও আর বাকি ম্যাচ রাত ন’টার পরে করাও। তাই করা হলো। সকাল আটটায় ম্যাচ হচ্ছে। আবার রাত দুইটাতেও ম্যাচ হচ্ছে। পুরো প্রহসন চলছে।’
ক্রিকেট প্রশাসকদের একহাত নিয়ে আকরাম বলেন, ‘কোনও চিন্তাভাবনা নেই ওদের। টি২০ টুর্নামেন্ট করল করাচিতে। কেউ দেখতেই এল না। এরকম টুর্নামেন্টকে জনপ্রিয় করতে ফয়সালেবাদে যাও। শিয়ালকোটে যাও বা হায়দারাবাদে যাও। টুর্নামেন্টকে নিয়ে ভালো প্রচার কর। যাতে লোকে আকৃষ্ট হয়। কে ভাবে ওসব? সিস্টেম আনার ধার ধারব না অথচ সব ম্যাচই জিততে চাইব, তা তো হয় না, তাই না?
বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়ে জুয়ার আসরে যাওয়ায় নির্বাচক কমিটি থেকে ছেঁটে ফেলা হয় একসময়ের আকরামে সতীর্থ মঈন খানকে। তার জায়গায় বসানো হলো হারুন রশিদকে। এ নিয়ে রীতিমতো উত্তেজিত আকরাম, ‘বিশ বছর ধরে ও (হারুন রশিদ) পাক বোর্ডে আছে। কিছুই করতে পারেনি। আবার ওকেই দায়িত্ব দেওয়া হলো। নতুন লোক না আনলে নতুন ভাবনাই বা আসবে কিভাবে!’
বাংলাদেশে যে নতুন শ্লোগান চালু হয়েছে ‘বাংলাওয়াশ’, তা শুনে সাবেক এই অধিনায়ক বললেন, ‘ওরা ৩-০ জিতেছে। এখন যা খুশি বলতেই পারে।’ জানা গেছে, শুক্রবার টি২০ ম্যাচের আগে শহীদ আফ্রিদি বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় আকরামকে ফোন করেছিলেন পরামর্শ নেওয়ার জন্য। আফ্রিদিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আকরাম তাকে কয়েকটি পরামর্শও দেন।
তবে বাংলাদেশের কাছে লজ্জার পরাজয়ে তিনি খেলোয়াড়দের দোষ দিচ্ছেন না। আকরামের যত অভিযোগ পাক বোর্ডকে ঘিরে। তার ভাষায়, ‘প্লেয়ারদের আর কি বলব! আমাদের আসল গলদটা তো সিস্টেমে। পাক বোর্ডে নতুন লোক দরকার। তরুণ রক্ত দরকার। যারা পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে নিঃস্বার্থভাবে ভাববে।’
একসময়ের আকরামের বোলিং সতীর্থ ছিলেন। এখন পাকিস্তানের কোচ ওয়াকার ইউনিস। তাকে পাল্টে বিদেশী কাউকে আনলে অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে, এমন প্রশ্নে আকরামের মন্তব্য, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, কোচকে অন্তত এক বছর সময় দেওয়া দরকার। সেই সময়টা ওয়াকার ওর এবারের মেয়াদে এখনও পায়নি। ওর ছয়-সাত মাসের মতো হয়েছে। পাশাপাশি এটাও মানতে হবে যে, ওয়াকারের স্টাইলটা মনে হয় পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য কাজ করছে না।’

