স্পোর্টস ডেস্ক : রেকর্ড বইয়ে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ততটা উজ্জ্বল নয়, যতটা ওয়ানডে ক্রিকেটে। এ নিয়ে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজারও বিস্তর অভিযোগ। কারণ টি-২০ যে বাংলাদেশ কদাচিৎ খেলে। এমন হলে তো আর ভাল দলে পরিণত হওয়া যায় না।
অধিনায়ক যথার্থই বলেছেন। কিন্তু শুক্রবার মিরপুর শের-ইবাংলা স্টেডিয়ামে যে বাংলাদেশ দলের দেখা মিলল তাতে মনে হলো না ফরম্যাট পাল্টে খুব অসুবিধা হয়েছে!
বরং সাকিব আল হাসান-সাব্বির রহমানরা ২২ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের বড় জয় এনে দিয়েছে বাংলাদেশকে। এটাকে বড় জয় বলতেই হবে। কারণ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২২ বল হাতে রেখে জয় পাওয়া মানে বিশাল ব্যাপার! অধিকাংশ টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই দেখা যায় ম্যাচের ফল নির্ধারণ হয় একেবারে শেষ ওভারে গিয়ে। সেটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা আইপিএলেই হোক।
তা বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই উত্থান আসলে বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। একসময় যে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের হারাই ছিল নিয়তি, এখন উল্টোটা হয়েছে। মাশরাফির দল হেলায় হারিয়ে দিচ্ছে ৯২’র বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
বাংলাদেশের এই নজরকাড়া সাফল্যে অনেকে তো আফসোসে পুড়ছেন, ইস! বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচে যদি আম্পায়াররা ওরকম বাজে সিদ্ধান্ত না দিত, তাহলে বাংলাদেশ জিতেও যেতে পারতো! তাহলেই তো সেমিফাইনাল। সেখানে অন্যরকম কিছুও ঘটতে পারতো! আসলে এগুলো ক্রিকেটের ব্যাকরণের বাইরের কথা!
তবে হ্যাঁ, মাশরাফির দল যেরকমভাবে পাকিস্তানকে দাঁড়ানোর আগেই কোমড় ভেঙে দিচ্ছেন তাতে বিশ্বকাপ নিয়ে আফসোস হওয়াই স্বাভাবিক। সেই আফসোস বোধহয় এদেশের ক্রিকেট পাগল মানুষদের বেশিদিন বয়ে নিয়ে বেড়াতে হবে না। আসছে জুনেই বাংলাদেশ সফরে আসছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। তখনই না হয়, সবকিছু সুদে-আসলে বুঝে নেয়া যাবে!
তার আগে পাকিস্তান সিরিজে যা হলো সেটা বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। ওয়ানডেতে ১৬ বছর পর জয়। শুধু জয়ই নয়, রীতিমতো ‘বাংলাওয়াশ’ হতে হয়েছে একসময়ের পরাক্রমশালী দলটিকে।
ওয়ানডে সিরিজের পর শহিদ আফ্রিদি উচ্চস্বরেই বলেছিলেন, ওয়ানডের চেয়ে পাকিস্তানের টি-২০ দল অনেক শক্তিশালী। কিন্তু বাস্তবে তাদের দুই ফরম্যাটে কোন পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সবচেয়ে বড় কথা, এই সিরিজে মাশরাফিদের শরীরী ভাষায় একবারও মনে হয়নি বাংলাদেশ দল হারতে পারে। সেটা কী ওয়ানডে আর টি২০! দ্রুত দুই ওপেনার ফিরে গেলেও বাকিরা তা বুঝতেই দিচ্ছেন না। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দুই ম্যাচে ব্যাট ধরারই সুযোগ পাননি সাব্বির। যেই না টি-২০ তে সুযোগ পেলেন আর অমনি প্রমাণ করে দিলেন তিনি ভবিষ্যতে মাশরাফির বড় ভরসা হয়ে উঠতে যাচ্ছেন। ৩২ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতলেন। কম যাননি অভিজ্ঞ সাকিবও। ৪১ বলে ৫৭ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন তিনি।
আসলে এই বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস অনেক উপরে উঠে গেছে। একটি-দুটি উইকেট হারিয়ে মাশরাফির দল জড়োসড়ো হয়ে যায় না। এই সিরিজে দেখুন, নাসির হোসেন সেভাবে ব্যাটিংই করার সুযোগ পাননি। বল হাতে দু’ একবার যাদু দেখিয়েছেন। অথচ তার স্পেশালিটি কিন্তু ব্যাটিং। তাকে যদি উইকেটেই যেতে না হয় তিনি নিজেকে প্রমাণ করবেন কিভাবে? এখানেই আসলে বদলে গেছে বাংলাদেশ!

