ঢাকাFriday , 24 April 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১৪১ রানে থেমে গেল পাকিস্তান

Link Copied!

Bangladesh9স্পোর্টস ডেস্ক : অভিষিক্ত মোস্তাফিজুর রহমানের হাতেই প্রথমে বল তুলে দিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ওদিকে পাকিস্তানের আরেক তরুন মুক্তার আহমেদ। বাঁ হাতি পেসার মুস্তাফিজুরের আউট সুইঙ্গার বলটি চলে গেলো মুক্তারের পেছন দিয়ে। প্রথম বলেই ওয়াইড।
তবে তাতেই হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই। টস জিতে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানের ইনিংসের লাগাম শুরু থেকেই টেনে ধরেছেন মুস্তাফিজুর এবং সাকিব আল হাসান।
চতুর্থ ওভারেই বল হাতে তুলে নিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। এ ওভারের তৃতীয় বলে এসেই প্রথম বাউন্ডারি পেলো পাকিস্তান। তাও একবার নয়। পরপর দু’বার মাশরাফিকে বাউন্ডারিছাড়া করেন মুক্তার আহমেদ।
পরের ওভারে আরাফাত সানিকে নিয়ে আসেন অধিনায়ক। এবারও আরও মারমুখি শেহজাদ এবং মুক্তার। দু’জন মিলে আরাফাত সানিকে ৩টি বাউন্ডারি মেরে অভ্যর্থনা জানান। তার প্রথম ওভার থেকেই নেন ১৩ রান।
৬ষ্ঠ ওভারে আবারও সাকিব আল হাসানকে বোলিংয়ে ফিরিয়ে আনেন মাশরাফি। বল হাতে আবারও রান নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হন সাকিব। এই ওভারের ৫ম বলেই নিশ্চিত স্ট্যাম্পিং মিস করেন মুশফিকুর রহিম। শেষ পর্যন্ত এ ওভার থেকে মাত্র ২ রান দিয়েছেন সাকিব। ৭ম ওভারে গিয়ে তাসকিন আহমেদকে আনা হয় বোলিংয়ে। আউটের কোন সুযোগ তৈরী করতে না পারলেও রান দিয়েছেন মাত্র চারটি।
৮ম ওভারে আবারও বোলিংয়ে ফিরে আসেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। মাশরাফিকে পেয়ে দুই ওভার গ্যাপ দিয়ে আবারও বাউন্ডারি বের করে নেন। এই ওভার থেকে মাশরাফি দেন মোট ৮ রান। ৯ম ওভার করতে আসেন তাসকিন আহমেদ। প্রথম বল ডট দিলেও তার দ্বিতীয় বল থেকেই ইনিংসের প্রথম ছক্কা মারেন মুক্তার আহমেদ। তবে ছক্কা দিলেও এই ওভারেই পাকিস্তানের প্রথম উইকেট তুলে নিলেন তাসকিন।
ওভারের ৬ষ্ঠ বলেই তাসকিনের লেগ সাইডের বলকে আকাশে তুলে মারেন আহমেদ শেহজাদ। লং অনে অনেক দুর দৌড়ে এসে অসম্ভব দক্ষতায় ক্যাচ তালুবন্দী করেন মাশরাফি। এরপরই অনেক দুর দৌড়ে এসে মাশরাফি-তাসকিন লাফিয়ে উঠে বুকে বুক মিলিয়ে উদ্যাপন করেন। যেটা দেখা গিয়েছিল বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের সময়।
ওয়ান ডাউনে ব্যাট করতে নামার কথা মোহাম্মদ হাফিজের। কিন্তু, নামলেন আফ্রিদি। দশম ওভার বল করতে আসেন মাশরাফি। এবার আরও কৃপণ তিনি। দিলেন মাত্র ৩ রান। মাশরাফির কাছ থেকে মাত্র ২ রান নিতে পারলেন আফ্রিদি।
১১তম ওভারে ফিরিয়ে আনা হলো অভিষিক্ত মুস্তাফিজুরকে। অভিজ্ঞ আফ্রিদির সামনে মুস্তাফিজুর কেমন যেন একটু ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলেন। প্রথম দুই বল থেকে ২, ২ করে চার রান নেওয়ার পর তৃতীয় বলেই নিলেন ছক্কা। পরের বলটাই দিলেন ওয়াইড। তিন বল থেকে ১১ রান দেওয়ার পরের বলেই আসল কাজটি করে দিলেন মুস্তাফিজুর। তার আউটসুইঙ্গার বলটি আফ্রিদির ব্যাটের কানায় লেগে বেরিয়ে যাওয়ার পথেই গ্লাভসবন্দী হলো মুশফিকুর রহিমের। আবেদনের সঙ্গে সঙ্গেই আঙ্গুল তুলে দিলেন আম্পায়ার।
১২তম ওভারে বোলিং করতে নিয়ে আসা হয় নাসির হোসেনকে। একটি বাউন্ডারিসহ নাসিরের কাছ থেকে ১১ রান তুলে নেন মুক্তার আহমেদ আর হারিস সোহেল। ১৩তম ওভারে বল করতে আসেন আরাফাত সানি। প্রথম ওভারে মার খেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারে ফিরেই তুলে নিলেন বিপজ্জনক হয়ে ওঠা মুক্তার আহমেদের উইকেট। ডাউন দ্য উইকেটে এসে আরাফাত সানির ঘূর্ণি বল কভারের ওপর দিয়ে খেলতে যান মুক্তার। কিন্তু মিস করেন। বল ধরেই স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দেন মুশফিক। শেষ পর্যন্ত থার্ড আম্পায়ারের কাছে রেফার করে আউটই হলেন মুক্তার আহমেদ। শেষ পর্যন্ত এই ওভারে ১০ রান দিলেন আরাফাত। ৩০ বলে ৩৭ রান করে ফিরলেন মুক্তার।
১৪তম ওভারে বল করতে আসেন নাসির হোসেন। এবারও রান নিয়ন্ত্রণে রাখলেন এ স্পিনার। মোহাম্মদ হাফিজ এবং হারিস সোহেল রান নিয়েছেন মাত্র ৫টি। ১৫তম ওভারে বল করতে আসলেন মাশরাফি। তার প্রথম বল থেকেই বাউন্ডারি নিলেন হাফিজ। পরের বলে ২ রান। শেষ পর্যন্ত এ ওভার থেকে ১০ রান নিলো পাকিস্তান। মাশরাফিও নিজের চার ওভারের কোটা পূর্ণ করে ফেললেন ২৯ রান দিয়ে এবং কোন উইকেট না নিয়ে।
১৬তম ওভারে বল করতে আসেন তাসকিন আহমেদ। এ ওভারটা হলো বেশ ব্যায়বহুল। ১৩ রান দিলেন তাসকিন। তার কাছ থেকে একটি ছক্কা এবং একটি বাউন্ডারি আদায় করে নেন হাফিজ এবং হারিস সোহেল। ১৭ম ওভার করতে সাকিব আল হাসান। পথম ৫ বল থেকে সাকিব দিলেন ৫ রান। এরপর শেষ বলেই তাকে বাউন্ডারিছাড়া করেন হাফিজ।
১৮তম ওভার করার জন্য মুস্তাফিজুরের হাতে বল তুলে দেন মাশরাফি। এবার প্রথম বলেই ২ রান দিলেন মুস্তাফিজুর। দ্বিতীয় বলে ১ রান। তৃতীয় এবং চতুর্থ বলে হাফিজ ব্যাটেই বল লাগাতে পারলেন না। পঞ্চম বলে গিয়ে হলেন পুরোপুরি পরাস্ত। এলবির জোরালো আবেদন। আম্পায়ার আঙ্গুল তুলে জানিয়ে দিলেন আবেদন সঠিক। ১৮ বলে ২৬ রান নিয়ে আউট হয়ে গেলেন হাফিজ। সব মিলিয়ে চার রান দিলেন মুস্তাফিজ।
১৯তম ওভার করতে আসেন সাকিব আল হাসান। এই ওভারটায় ৭ রান দিলেন সাকিব। রান নিয়ন্ত্রণে রাখার চূড়ান্ত চেষ্টা সাকিবের। ৪ ওভার বল করে কোন উইকেট না পেলেও মাত্র ১৭ রান দিয়েছেন তিনি।
শেষ ওভার করার জন্য মাশরাফি বল তুলে দিলেন তাসকিনের হাতে। শেষ ওভারেও দারুন কৃপণ তাসকিন। টি২০ হিসেবে শেষ ওভারে দিলেন মাত্র ৭ রান। কৃপনই বটে। শেষ বলে তাসকিনের কাছ থেকে দুই রান নিতে গিয়ে রানআউট হয়ে গেলেন সোহেল তানভির।
শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রানেই থেমে গেল পাকিস্তানের ইনিংস। পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ সংগ্রাহক মুক্তার আহমেদ, ৩০ বলে ৩৭ রান। হারিস সোহেল শেষ পর্যন্ত ২৪ বলে অপরাজিত ছিলেন ৩০ রানে। অভিষিক্ত মুস্তাফিজুর রহমান নিলেন ২০ রানে সর্বোচ্চ ২ উইকেট। ১টি করে আরাফাত সানি এবং তাসকিন আহমেদ। সবচেয়ে কৃপণ সাকিব আল হাসান। ৪ ওভারে দিলেন মাত্র ১৭ রান।