স্পোর্টস ডেস্ক : মাস্টার ব্লাস্টার শচীন টেন্ডুলকার আজ শুক্রবার ৪২ বছরে পা দিলেন। ১৯৭৩ সালের ২৪ এপ্রিল মুম্বাইয়ে (পূর্বনাম বোম্বাই) জন্মগ্রহণ করেন এই ক্রিকেট কিংবদন্তী।
প্রায় দেড় বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিটেকে বিদায় জানিয়েছেন শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। ২০১৩ সালে ১৫ নভেম্বর ঘরের মাঠ মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেন এই ক্রিকেট লিজেন্ড। ক্রিকেট মাঠকে বিদায় জানালেও তাকে নিয়ে এখনও আগ্রহ কমেনি দর্শকদের।
ভারতের হয়ে রেকর্ড ছয়বার বিশ্বকাপে অংশ নেয়া শচীন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অসংখ্য রেকর্ড ও বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। তার ৪২ বছরে পা রাখা উপলক্ষ্যে সেসব রেকর্ড থেকে পাঠকদের জন্য ৪২টি রেকর্ড তুলে ধরা হলো।
১. টেস্ট ক্রিকেটে সর্বাধিক রান (১৫ হাজার ৯২১)।
২. একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান (১৮ হাজার ৪২৬)।
৩. সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলা ক্রিকেটার (২০০)। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ম্যাচের ডাবল সেঞ্চুরি করেন তিনি।
৪. সর্বাধিক ৪৬৩টি ওয়ানডে ম্যাচে অংশগ্রহণ করেন।
৫. প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০টি সেঞ্চুরি করার বিরল রেকর্ড।
৬. টেস্টে সর্বোচ্চ ৫১টি সেঞ্চুরি।
৭. টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও সর্বাধিক ৪৯টি সেঞ্চুরি করেন শচীন।
৮. ওয়ানডেতে সেঞ্চুরির মতো হাফ সেঞ্চুরিতেও (৯৬) সবার ওপরে রয়েছেন এই ক্রিকেট কিংবদন্তী।
৯. প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে রঞ্জি ট্রফি, দুলীপ ট্রফি ও ইরানি ট্রফিতে অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন।
১০. বিশ্বকাপে সর্বাধিক ২ হাজার ২৭৮ রান করে শচীন। পাকিস্তানের কিংবদন্তী ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াঁদাদের সঙ্গে যৌথ সর্বোচ্চ ৬ বার বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড গড়েন সাবেক এই ভারতীয় ক্রিকেটার।
১১. বিশ্বকাপে সর্বাধিক ৬টি সেঞ্চুরি করেছেন শচীন।
১২. ইংল্যান্ডের ঘরোয়া লিগে ইয়র্কশায়ারের হয়ে খেলা প্রথম বিদেশি ক্রিকেটার।
১৩. টেস্টে সর্বোচ্চ ১০টি নার্ভাস নাইনটিজ (৯০-৯৯) স্কোর রয়েছে শচীনের। এই তালিকায় তার সঙ্গে রয়েছেন রাহুল দ্রাবিড় ও স্টিভ ওয়াহ।
১৪. টেস্টে সর্বাধিক ৬৮টি হাফ সেঞ্চুরি। ফিফটি প্লাস ইনিংসেও (১১৯) সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন এই কিংবদন্তী।
১৫. টেস্ট ক্রিকেটে সর্বাধিক চার মারেন শচীন টেন্ডুলকার। তার চার সংখ্যা ২ হাজার ৫৮টির বেশি। ওয়ানডেতেও সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৬টি চার মারেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রেকর্ড ৪ হাজার ৭৪টির বেশি চার মারেন এই কিংবদন্তী ক্রিকেটার।
১৬. টেস্ট ক্রিকেট দ্রুততম সময়ে (যৌথ) ১০ হাজার রান পূর্ণ করেন শচীন। ১০ হাজার রান পূর্ণ করতে ১৯৫ ইনিংস লাগে শচীনের। তার সমান ইনিংস লেগেছে লারা ও সাঙ্গাকারারও।
১৭. দ্রুততম সময়ে টেস্টে ১৪ হাজার রান পূর্ণ করেন শচীন। ১৪ হাজারের মাইলফলকে পৌঁছতে ২৭৯ ইনিংস লাগে তার।
১৮. টেস্ট ক্রিকেটে দ্রুততম সময়ে ১৫ হাজার রান পূর্ণ করেন এই কিংবদন্তী ক্রিকেটার।
১৯. এক বছরে ওয়ানডেতে সর্বাধিক ১ হাজার ৮৯৪ রান করার রেকর্ড রয়েছে শচীন টেন্ডুলকারের। ৯টি সেঞ্চুরি ও ৭টি ফিফটিতে তিনি এই রান করেন।
২০. এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ৬৭৩ রান করার রেকর্ডও তার দখলে।
২১. ওয়ানডেতে এক বছরে সর্বোচ্চ ৯টি সেঞ্চুরি করেন এই ব্যটিং লিজেন্ড।
২২. নির্দিষ্ট কোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি করার রেকর্ড শচীনের। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রেকর্ড সর্বোচ্চ ৯টি সেঞ্চুরি করেন এই কিংবদন্তী তারকা।
২৩. ওয়ানডেতে রেকর্ড ১৮ বার নার্ভাস নাইনটিজের (৯০-৯৯) রেকর্ডও তার দখলে।
২৪. ওয়ানডেতে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০ হাজার রান পূর্ণ করেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।
২৫. দ্রুততম সময়ে ওয়ানডেতে ১০ হাজার রান পূর্ণ করেন শচীন। ১০ হাজারের মাইলফলকে পৌঁছতে ২৫৯ ইনিংস লাগে তার।
২৬. দ্রুততম সময়ে ওয়ানডেতে ১১ হাজার রান পূর্ণ করেন টেন্ডুলকার। ১১ হাজারের মাইলফলকে পৌঁছতে ২৭৬ ইনিংস লাগে তার।
২৭. দ্রুততম সময়ে ওয়ানডেতে ১২ হাজার রান পূর্ণ করেন সাবেক এই ক্রিকেটার। ১২ হাজারের মাইলফলকে পৌঁছতে ৩০০ ইনিংস লাগে তার।
২৮. দ্রুততম সময়ে ওয়ানডেতে ১৩ হাজার রান পূর্ণ করার রেকর্ডও তার দখলে। ১৩ হাজারের মাইলফলকে পৌঁছতে ৩২১ ইনিংস লাগে তার।
২৯. দ্রুততম সময়ে ওয়ানডেতে ১৪ হাজার রান পূর্ণ করেন এই মাস্টার ব্লাস্টার ব্যাটসম্যান। ১০ হাজারের মাইলফলকে পৌঁছতে ৩৫০ ইনিংস লাগে তার।
৩০. দ্রুততম সময়ে ওয়ানডেতে ১৫ হাজার রান পূর্ণ করেন ক্রিকেটের এই রাজপুত্র। ১০ হাজারের মাইলফলকে পৌঁছতে ৩৭৭ ইনিংস লাগে তার।
৩১. প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডেতে ১৫ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছেন শচীন টেন্ডুলকার। ১৬, ১৭ ও ১৮ হাজার রানের পাহাড়েও শচীন ছাড়া আর কারও উঠার সাধ্য হয়নি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাঙ্গাকারা ১৪ হাজার ২৩৪ রান নিয়ে বিশ্বকাপ শেষে অবসরে গেছেন।
৩২. ভারতের পক্ষে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ ৩৩১ রানের জুটি গড়েন শচীন। ১৯৯৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্রাবিড়কে নিয়ে তিনি এই রেকর্ড জুটি গড়েন। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি যেকোনো উইকেট জুটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
৩৩. জুটিতে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ২২৭ রান করেন শচীন টেন্ডুলকার। ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে ১৭৯ ইনিংসে এই রান করেন তিনি। তাদের জুটিতে ২৬টি শতক ও ২৯টি ফিফটি হয়েছে। এই জুটি সর্বোচ্চ ২৫৮ রান করে।
৩৪. জুটিতে সর্বোচ্চ ২৬টি সেঞ্চুরি। সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে শচীন রেকর্ড ২৬টি সেঞ্চুরি জুটি গড়েন।
৩৫. ওপেনিং জুটিতে সৌরভ গাঙ্গুলিকে নিয়ে রেকর্ড সংখ্যক রান করেন শচীন। একদিনের ক্রিকেট শচীন-সৌরভ জুটি রেকর্ড ৬ হাজার ৬০৯ রান করে।
৩৬. টেস্টেও জুটিতে সর্বোচ্চ রান করার তালিকায় নাম রয়েছে শচীনের। সাবেক ক্রিকেটার রাহুল দ্রাবিড়কে নিয়ে জুটিতে রেকর্ড ৬ হাজার ৯২০ রান করেন।
৩৭. টেস্টে রাহুল দ্রাবিড়কে নিয়ে সর্বোচ্চ ২০টি সেঞ্চুরি জুটি গড়েন শচীন। টেস্ট ক্রিকেটে আর কোনো জুটি এতো সেঞ্চুরি করতে পারেনি।
৩৮. টানা সর্বাধিক ১৮৫টি ওয়ানডে খেলার রেকর্ড রয়েছে শচীনের দখলে।
৩৯. ভারতের সর্বকনিষ্ঠ অধিনায়ক হওয়ার রেকর্ড শচীনের দখলে। ১৯৯৬ সালে মাত্র ২৩ বছর ১২৬ দিন বয়সে ভারতের নেতৃত্ব পান এই কিংবদন্তী ক্রিকেটার।
৪০. ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ৬২ বার ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয় করেন শচীন টেন্ডুলকার।
৪১. ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ১৫ বার সিরিজ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও উঠে এই কিংবদন্তী ক্রিকেটারের হাতে।
৪২. সবচেয়ে কম বয়সী ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন শচীন টেন্ডুলকার। ১৬ বছর ২০৫ দিন বয়সে ১৯৮৯ সালের নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় শচীনের। পরের মাসে ১২ বছর ২৩৮ দিনে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় এই কিংবদন্তী তারকা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শচীন টেন্ডুলকারে আরও অসংখ্য রেকর্ড ও কীর্তি রয়েছে। তবে এই কিংবদন্তী ক্রিকেটারের ৪২তম জন্মদিন উপলক্ষে এখানে শুধু গুরুত্বপূর্ণ ৪২টি তুলে ধরা হলো। প্রথম ভারতীয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে ভারতরত্ম পুরস্কার জয় করা শচীন নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে দেশ-বিদেশ থেকে আরও অসংখ্য অ্যাওয়ার্ড জিতেন। বর্তমানে দেশটির রাজ্যসভার একজন সদস্য তিনি।

