♦ দৈনিক পাঞ্জেরী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন
স্পোর্টস ডেস্ক : কেনিয়া, স্কটল্যান্ড আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড। এবার এই তালিকায় যোগ হলো পাকিস্তানের নামও। বাংলাওয়াশের শুরুটা হয়েছিল কেনিয়াকে দিয়ে। সর্বশেষ চুনকাম হয়ে গেলো পাকিস্তান। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসে সব ক’টিতেই গো-হারা হেরে ৩-০ ব্যবধানে ধবল ধোলাই হলো পাকিস্তান। প্রথম ম্যাচে ৭৯ রান, দ্বিতীয় ম্যাচে ৭ উইকেট এবং শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ৮ উইকেটে হারলো পাকিস্তান।
মিরপুরে গতকাল তৃতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ২৫০ রানে বেধে দিয়ে মাত্র ৩৯.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়েই ঐতিহাসিক জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। অসাধারণ সেঞ্চুরি করেন ওপেনার সৌম্য সরকার এবং ১২৭ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি।
কী অসাধারণ এক ম্যাচ উপহার দিল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। দুর্দান্ত সূচনা করা পাকিস্তানের রান যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়ে সেই পাকিস্তানকে মাত্র ২৫০ রানের মধ্যে বেধে ফেললো টিম মাশরাফি। কোন একক বোলারের কৃতিত্বে নয়, প্রায় সবাই এ ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন চারজন বোলার। মাশরাফি ব্যাবহার করেছিলেন মোট আট বোলার।
হোয়াইট ওয়াশের জন্য ২৫১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে তামিম আর সৌম্য যে অসাধারণ সূচনা এনে দিয়েছিলেন, তা এক কথায় অনন্য। ১৪০ রানের জুটি গড়েন এ দু’জন। পাল্লা দিয়ে রান তোলার প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হন যেন এ দু’জন। একজনের পর আরেকজন পৌঁছে যান হাফ সেঞ্চুরির মাইলফলকে। ৬৪ রানে থাকা তামিম জুনায়েদ খানের সেøায়ারের ফাঁদে পড়ে এলবিডব্লিউ না হলে হয়তো ১০ উইকেটেই জয় পেতে পারতো বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপের সময় থেকেই প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে আসছিলেন সৌম্য সরকাররা। কিন্তু সঠিকভাবে যেন প্রস্ফুটিত হয়ে উঠতে পারছিলেন না। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজে ব্যাটিং অর্ডারে উন্নতি পেয়ে উঠলেন ওপেনিংয়ে। প্রথম দুই ম্যাচে বাজে সূচনার পর শেষ পর্যন্ত তৃতীয় ম্যাচে এসে দেখা পেলেন সেঞ্চুরির। শুধু সেঞ্চুরিই নয়, ১১০ বলে ১২৭ রান করে ছিলেন অপরাজিত। ৪৩ বল খেলে ৪৯ রান করে অপরাজিত থাকেন মুশফিকুর রহিমও।
৪০তম ওভারের তৃতীয় বলে এসে জুনায়েদ খানকে বাউন্ডারি মেরে বিজয়ের উল্লাসে মেতে উঠলেন মুশফিকুর রহিম। দৌঁড়ে এসে জড়িয়ে ধরলেন সৌম্য সরকারকে। সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে উঠে পুরো গ্যালারি। মিরপুরের গ্যালারি থেকে সেই উল্লাসের ঢেউ উঠলো পুরো বাংলাদেশে।
২৫০ রানের লক্ষ্য। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সামনে এটা খুব বড় হওয়ার কথা নয়। বড় হিসেবে দেখাতে চানও না সৌম্য আর তামিম ইকবালরা। সে কারণেই হয়তো মোহাম্মদ হাফিজকে এক রান নিয়ে পুনরায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিংয়ে অভ্যর্থনা জানালেও, উমর গুলকে স্বাগত জানানো হলো বাউন্ডারি দিয়ে। দুই ওপেনারের ব্যাটে ভর করে বলা যায় দারুন সূচনাই হলো বাংলাদেশের।
স্পিনারদের কাছেই নাকাল হতে হয়েছে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের। এ কারণেই হয়তো স্পিন দিয়ে শুরু করতে চাইলেন পাকিস্তান অধিনায়ক আজহার আলি। অবৈধ অ্যাকশনের কারণে নিষিদ্ধ হওয়া মোহাম্মদ হাফিজ আগেরদিনই আইসিসি থেকে ক্লিয়ারেন্স পেলেন এবং আজ তাকে দিয়েই বোলিং ওপেন করানো হলো। তার প্রথম ওভার থেকে ৬ রান নিলেন তামিম-সৌম্য। দ্বিতীয় ওভার থেকেও নিলেন ৬ রান। চতুর্থ ওভারে গিয়ে উমর গুলকে পর পর দু’বার বাউন্ডারি ছাড়া করলেন সৌম্য সরকার।
সেই যে শুরু, এরপর একে একে পাকিস্তানি বোলারদের শুধু বাউন্ডারি ছাড়া করছিলেন তামিম আর সৌম্য সরকার। হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলেন দু’জনই। প্রথমে হাফ সেঞ্চুরি করেন সৌম্য। ৬৩ বলে ৬ বাউন্ডারি আর ১ ছক্কায় ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি করেন তিনি। এরপর হাফ সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছান তামিম।
ওপেনিং উইকেটে ১৪০ রান করার পর অবশেষে বিচ্ছিন্ন হয় তামিম-সৌম্য জুটি। ৭৬ বলে ৬৪ রান করে জুনায়েদ খানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান তামিম ইকবাল। ৮টি বাউন্ডারি আর ১টি ছক্কায় সাজান তার ইনিংস। তামিম অবশ্য রিভিউ নিয়েছিলেন। কিন্তু সে রিভিউ আর সফল হয়নি।
বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরমার ছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজে এসে নিজের নামের প্রতি সুবিচারই করতে পারেননি তিনি। প্রথম দুই ম্যাচের মত আজও তৃতীয় ম্যাচে আউট হয়ে গেলেন মাত্র ৪ রানে। ১০ বলে জুনায়েদ খানের বলে বোল্ড হন তিনি। প্রথম ম্যাচে করেছিলেন ৫, দ্বিতীয় ম্যাচে ১৭ রান এবং সর্বশেষ তৃতীয় ম্যাচে আউট হলেন ৪ রান করে।
শেষ পর্যন্ত সৌম্য সরকার ১২৭ রানে থাকলেন অপরাজিত। মুশফিকের জন্য আফসোস। মাত্র এক রানের জন্য হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেলেন না। তবে ৪৩ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থেকে বিজয়ের স্বারক তৈরি করলেন তিনিই।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
বাংলাদেশ : ২৫১/২, ৩৯.৩ ওভার (সৌম্য ১২৭*, তামিম ৬৪, মুশফিক ৪৯*, মাহমুদুল্লাহ ৪; জুনায়েদ খান ২/৬৭ )।
পাকিস্তান : ২৫০/১০, ৪৯ ওভার (আজহার ১০১, হারিস সোহেল ৫২, সামি আসলাম ৪৫, সাদ নাসিম ২২, সাকিব ২/৩৪, আরাফাত ২/৪৩, রুবেল ২/৪৩, মাশরাফি ২/৪৪, নাসির ১/৩৭ )।
ফল : বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : সৌম্য সরকার। সিরিজ সেরা : তামিম ইকবাল।
সিরিজ : ৩-০ ব্যবধানে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করলো বাংলাদেশ। টস : পাকিস্তান।

