স্পোর্টস ডেস্ক : তার নামে এখন গ্যালারিতে গর্জন ওঠে। জয়ের পর তার নামে রাস্তায় স্লোগান চলে। অথচ তামিম ইকবালকে নিয়ে কম ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা হয়নি! তাকে কেন খেলানো হচ্ছে, এ নিয়ে বিস্তর আপত্তি আম-জনতার! তামিম খারাপ খেললেই সব রাগ-ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয় তার উপর। তার জন্য বড় লজ্জার এই যে, যখন তামিমের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয়- ‘ও’ তো খেলছে চাচার জোরে!
আশ্চর্যজনক সত্যি এটাই, তামিম বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৯৫ রানের ইনিংস না খেললে বাংলাদেশের ফল উল্টেও যেতে পারতো! আমরা সেটা বেমালুম ভুলে গেলাম এবং তাকে নিয়ে একের পর এক তীর্যক মন্তব্য করতে থাকলাম। এক্ষেত্রে এক কাঠি সরেস- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। পান থেকে চুন খসলেই স্ট্যাটাস, ‘এই বলদকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না, ওকে বাদ দেয়া হচ্ছে না কেন?’ মনে হয় আমাদের ক্রিকেট পন্ডিতি দেখানোর জায়গাটাই ওই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
তারা এখন কী বলবেন? সত্যি কথা বলতে, যারা তামিমকে জানেন, তারা মোটেও অবাক হননি তার অভাবনীয় পারফরম্যান্সে। চ্যাম্পিয়নরা বারবার এভাবেই ফিরে আসে। তবে তা যে এমন রাজসিক হবে, সেটা কী তামিমও ভাবতে পেরেছিলেন? ভাবতে পেরেছিলেন কী সমালোচকদের জবাব এমন দোর্দণ্ড প্রতাপে দিতে পারবেন?
প্রথম ম্যাচে ১৩২ এরপর ১১৬ নট আউট। রাজসিকই তো। উদ্যাপনের ভঙ্গিটাও ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বড় ভক্ত বলেই তিনি ওই উদ্যাপণ করেছেন। একই সঙ্গে বার্তা দিয়েছেন সমালোচকদেরও। ‘যথেষ্ট হয়েছে এবার মুখ বন্ধ কর।’
তো তামিমের মতো ক্লাস ব্যাটসম্যানের আসলে প্রমাণ করার কিছু নেই। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, বাংলাদেশে মোহাম্মদ আশরাফুলের পর তামিমই একমাত্র ব্যাটসম্যান যার ব্যাটিং শৈলি চোখে লেগে থাকে!
পোর্ট অব স্পেনে ২০০৭ বিশ্বকাপে তার ভয়ডরহীন ব্যাটিং সবার মনে থাকার কথা। সবচেয়ে বেশি মনে থাকার কথা জহির খানের। ১৭ বছরের একজন তরুণের কাছে তিনি এমন আছাড় খাবেন, জীবনেও ভাবেননি!
ভক্তদের মনে থাকার কথা, ২০১০ সালে লর্ডসে তামিম বীরত্বের কথাও। স্বপ্ন ছিল লর্ডসে অনার্স বোর্ডে নাম লেখানোর। সেটা তামিম করলেন বলে কয়ে। শুধু ওখানে ক্ষ্যান্ত থাকলে কথা ছিল, পরের টেস্টে ওল্ড ট্রাফোর্ডে গিয়েও দুর্দান্ত সেঞ্চুরি তুলে নিলেন। তখন ইংলিশ মিডিয়ায় ভালোই হইচই ফেলে দেন বাংলাদেশের ড্যাশিং ওপেনার। তখনও তামিম বন্দনায় মেতেছিল গোটা দেশ। ঠিক এখন যেমনটা হচ্ছে। একজন ক্রিকেটারের ফর্মে উত্থান-পতন থাকবেই। তামিমের বেলাও সেটা ব্যতিক্রম নয়।
২০১২ এশিয়া কাপের আগে বাজে ফর্র্মের কারণে প্রায় বাদই পড়তে যাচ্ছিলেন দল থেকে! তখনকার প্রধান নির্বাচক চাচা আকরাম খানকে জড়িয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুনতে হয় তামিমকে। কিন্তু তিনি যে সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন সেটা মাঠে গিয়ে প্রমাণ দিলেন। পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকা এবং ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেন যথাক্রমে ৬৪, ৭০, ৫৯ ও ৬০ রানের ইনিংস।
মুষ্টিবদ্ধ হাত খুলে চার আঙুল একে একে ছুড়ে দেখিয়ে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করেছিলেন। পাকিস্তান সিরিজে টানা দুই সেঞ্চুরি করে তামিম কার্যত ২০১২-ই ফিরিয়ে এনেছেন। তবে বদলেছে উদ্যাপনের ধরণও। অর্থ কিন্তু একই।
সিরিজের শেষ ম্যাচেও নিশ্চয় তামিম চাইবেন আরেকবার তিন অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে! আর সেটা হলে গোটা বাংলাদেশ যে তামিম.. তামিম… নামে প্রকম্পিত হবে সেটা না বললেও চলে।

