ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গাজনা ইউনিয়নে ‘কৃষক বন্ধু এগ্রো ফার্ম’-এর স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল রানা সার ডিলারশিপ পাওয়ার পর তার রাজনৈতিক পরিচয়, আওয়ামী লীগের সঙ্গে অতীত ও বর্তমান সম্পৃক্ততার অভিযোগ এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একটি অংশ। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ। স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোহেল রানা মধুখালী উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং তাঁর বাবা হাজী আহমদ আলী স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বকুর নিকটাত্মীয় পরিবারের সদস্য। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা বকুর আপন ভাগিনা সোহেল রানার রাজনৈতিক পরিচয় ও সক্রিয় সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসার পর সার ডিলার নিয়োগে ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ
অভিযোগকারীদের দাবি, মো. সোহেল রানা অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল। এমন অভিযোগের পরও তিনি কীভাবে সরকারি সার ডিলারশিপের জন্য নির্বাচিত হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি সরবরাহব্যবস্থায় ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা, রাজনৈতিক পরিচয়, প্রযোজ্য নীতিমালা এবং অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ, তদন্তের দাবি
সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের বিরুদ্ধে মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে সোহেল রানাসহ একাধিক আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করতে হবে।
৯ অক্টোবর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর ক্ষোভ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত ৯ অক্টোবর সার ডিলার নিয়োগের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিরা কীভাবে সরকারি সার ডিলারশিপ পেলেন এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ সুপারিশ বা মোটা অংকের অর্থের প্রভাব কাজ করেছে কি না। তাদের একাংশের দাবি, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপের বৈধতা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। একজন স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীর বক্তব্য হিসেবে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে—এমন ব্যক্তিকে বিএনপির নেতাদের সুপারিশে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ার তদন্ত এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।”
বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গাতেও একই ধরনের অভিযোগ
মধুখালীর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলাতেও আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।
তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের দাবি
সার ডিলার নিয়োগ ঘিরে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কাছে নিয়োগপ্রক্রিয়া পর্যালোচনার দাবি উঠেছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, নিয়োগের প্রকৃত ভিত্তি, প্রার্থীদের যোগ্যতা, সুপারিশের ধরন এবং কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে অনুসন্ধান করা উচিত।

