মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের প্রায় নয় কোটি টাকার চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়ের ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া হ্যাকিংয়ের কবলে পড়েছে। এর ফলে কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই এই অনলাইন দরপত্রে অংশ নিতে পারছে না। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কৌশলে পুরো প্রক্রিয়াটি জিম্মি করে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেটটি কাজটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য নানামুখী পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের চিকিৎসা সামগ্রী কেনার জন্য প্রথম দফায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর অনলাইনে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু দরপত্র প্রকাশের পরপরই দুর্বৃত্তরা ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হ্যাক করে। এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথম দরপত্র বাতিল করে গত ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আবারও ই-টেন্ডার আহ্বান করে। তবে দ্বিতীয় দফায়ও একই কায়দায় সাইট হ্যাক করা হয়, যার ফলে সাধারণ ঠিকাদাররা দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
নিয়মিত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধের মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে। গত বছরের জুন পর্যন্ত কেনা সামগ্রীর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, জরুরি ভিত্তিতে এই সমস্যার সমাধান না হলে স্বাস্থ্যসেবা মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি পদক্ষেপ বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়নি। এমনকি এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার মধ্যেই সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফুল আবেদীন কমল ১৫ দিনের ছুটিতে চলে গেছেন। ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. খলিলুজ্জামান জানিয়েছেন, তিনি হ্যাকিংয়ের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকলেও এর নেপথ্য নায়কদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছেন না। মূল সিভিল সার্জন কর্মস্থলে ফেরার পরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

