ঢাকাTuesday , 20 October 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৯ মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩, বেশিরভাগ বিএনপির নেতাকর্মী

Link Copied!

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ১ হাজার ১৩টি ঘটনায় ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৪৭৩ জন। নিহতদের বেশিরভাগই বিএনপির। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। ১৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৯৮টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন। কারাগারে মারা গেছেন ৯৫ জন বন্দী; আর নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৫১৮ জন সাংবাদিক। এ সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১ শতাংশ ঘটনায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা দলটির সঙ্গে অন্য রাজনৈতিক দলের সংঘাতের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৯৮টি ঘটনায় ১৮৭ জন নিহত হয়েছেন। কারাগারে মারা গেছেন ৯৫ জন বন্দি। এ ছাড়া নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন ৫১৮ জন সাংবাদিক।

এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহিংসতার ৯১ শতাংশই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সংঘর্ষে ঘটেছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ৩৪২টি ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ২ হাজার ৬৩২ জন আহত হয়েছেন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ৩২১টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১১ জন, আহত ২ হাজার ১৯০ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেন্দ্রিক ৪০২টি সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন, আহত ২ হাজার ৬২৩ জন। নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ছয় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৭৩ জনের মধ্যে বিএনপির ৪৬, জামায়াতের ৮ ও আওয়ামী লীগের ৬ জন। এ ছাড়া ১২ জনের রাজনৈতিক পরিচয় অজানা বা তারা অন্যান্য দলের সদস্য।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ৯ মাসে ২ হাজার ৪০৪ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৫৭ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন; ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৯ জনকে। একই সময়ে ১ হাজার ৮১০ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৪৯৪ জন প্রাণ হারিয়েছে। শ্রমিক নির্যাতনের ৫৮২টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৪৫ জন, আহত ১ হাজার ২৬৩ জন। কর্মক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সুরক্ষাসামগ্রীর অভাবে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৩৯০ জন শ্রমিক। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫৬টি হামলায় ৬২ জন আহত হয়েছেন; ২১টি মন্দির, ২০টি প্রতিমা ও ৪৭টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের হামলায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন, আহত ৩৯ জন। এ ছাড়া নদী, খাল, জঙ্গল ও পরিত্যক্ত স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডের ৪৬৫টি ঘটনায় ৪৯১টি লাশ উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে সংগঠনটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলিবর্ষণ ও কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে অন্তত একটি গুম ও একজনকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানির ২৮৮টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৯৭ জন, লাঞ্ছিত ৮৭ জন এবং হুমকির মুখে পড়েছেন ৭৭ জন। ২০ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সভা-সমাবেশে বাধার ৫৮টি ঘটনায় ৪৩৯ জন আহত ও ৪৬ জন আটক হয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ২৭০টির বেশি মামলায় ৫ হাজার ৮০৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে; অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৩২ হাজার ৪৩৩ জনকে।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়ন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা, মব সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং হেফাজতে ও কারাগারে মৃত্যু প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।