ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সোমবার (১২ অক্টোবর) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা। একই দাবিতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করেন।
মিছিলে রাহুলের সঙ্গে ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র ও অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বোরা। তারা জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং তার পদত্যাগের দাবি জানান। সুপ্রিম কোর্টে আবেদনকারীদের মধ্যে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের তেজস্বী প্রসাদ যাদব।
আবেদনে বলা হয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়ম ঘটেছে।
তবে মিছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। তিলক মার্গ দিয়ে এগোতে থাকা মিছিলকারীদের ভগবান দাস রোডে পুলিশ বাধা দেয়। হাজারো মানুষ সেখানেই অবস্থান নেন। মিছিল শুরুর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে রাহুল গান্ধী বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর জন্য আলাদা কোনো আন্দোলন হচ্ছে না। একটিই প্রতিবাদ চলছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী ও অমিত শাহের পালা। আমরা থামব না।
রাহুল অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের চাপে কাজ করছেন।
এদিকে গতকাল রোববার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লি পুলিশের কাছে চিঠি দিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের নতুন তারিখ চেয়েছিলেন। পুলিশ বিকল্প হিসেবে তিনটি স্থান নির্ধারণ করেছে। রামলীলা ময়দান, বুরারি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড।
আজকের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লির ছয়টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার গেট বিকেল চারটা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়। স্টেশনগুলো হলো জনপথ, মান্ডি হাউস, বারাখাম্বা রোড, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক ও প্যাটেল চক। দিল্লি মেট্রো জানিয়েছে, এসব স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা চালু ছিল। পরিস্থিতি দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গতকাল সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির মেট্রো পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে এবং ইন্টারনেট সংযোগ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে। আদালত বলেছেন, কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

