ঢাকাSaturday , 3 October 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

টাঙ্গাইলে পৈতৃক জমি বনাম দখলের লড়াই

Link Copied!

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পৈতৃক জমি দখল ও মারধরের অভিযোগে আজগানা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. বাদল মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই ঘটনায় যুবদল নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে জমির মালিকের ছেলেকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগে মির্জাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগও জমা পড়েছে। মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার কুড়িপাড়া মৌজার আরএস ৮১৩ ও ৮১৪ নম্বর দাগের ১২ শতাংশ জমি নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত। জমির দাবিদার তোফাজ্জল হোসেনের অভিযোগ, জমিটি তার মা ওয়ারিশসূত্রে পেয়েছিলেন এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে এটি ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে গত ১৯ জুন সকালে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বাদল মিয়া, তার দুই ভাই রিপন ও শিপন এবং ছেলে রাকিব হোসেন দলবল নিয়ে ওই জমিতে জোরপূর্বক বেড়া দেওয়ার চেষ্টা চালান। অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে আবু কাউসার বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে তোফাজ্জল হোসেন গত ১৭ আগস্ট টাঙ্গাইল আদালতে মামলা এবং ৩০ আগস্ট মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার পর থেকে বিবাদীরা তাদের লাগাতার হুমকি দিয়ে আসছেন বলেও বাদী পক্ষের দাবি। এদিকে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আদালত নোটিশ জারি করেছেন। নোটিশে বিরোধপূর্ণ জমিতে যার যার দখলাবস্থা বজায় রেখে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কুড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ডালিমন বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগ করছে তোফাজ্জল। জমিটিতে বেড়া দেওয়াতে চলাচল করতে তাদেরও অসুবিধা হচ্ছে। আজগানা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার গোলাম মোস্তফা জানান, তোফাজ্জল জমিটি শুরু থেকেই দখলে আছেন। হঠাৎ করেই বিবাধীরা জমিটি দখল দেওয়ার চেষ্টা করছে। ভুক্তভোগী তোফাজ্জল হোসেন জানান, ১২ শতাংশ জমিটি তারা যুগ যুগ ধরে ভোগদখল করে আসছেন। ১৯৬২ সালে তার মায়ের নামে ওয়ারিশসূত্রে এসএ রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে বিএস রেকর্ডেও জমিটি তাদের নামে চূড়ান্তভাবে প্রচারিত হয়েছে। তারা যথারীতি নাম-খারিজ করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছেন। সম্প্রতি যুবদল নেতা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জমিটি নিজেদের দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন।
তবে জমি দখলের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে অভিযুক্ত যুবদল নেতা মো. বাদল মিয়া জানান, তার বিরুদ্ধে আনা জমি দখলের অভিযোগটি রাজনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রকৃতপক্ষে ওই জমি দলিলমূলে তার দাদার সম্পত্তি এবং তার বাবা এই সম্পত্তির বৈধ ওয়ারিশ। তারা কারও জমি দখল করতে যাননি বরং নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার ও সুরক্ষার জন্যই সেখানে বেড়া দিয়েছেন। টাঙ্গাইল জেলা যুব দলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব জাহিদ হোসেন মালা জানান, জেলা যুব দলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ দেশের বাইরে রয়েছেন। ওই ঘটনায় উভয়পক্ষই তার কাছে এসেছিলেন, কাগজপত্র দিয়ে গেছেন। সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে- জেলা যুব দলের আহ্বায়ক দেশে এলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ওই ঘটনায় তোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে বাদল মিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।