বাগেরহাটের মোল্লাহাটে নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুসলিমা নামে ছয় বছরের এক শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোক, আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত মুসলিমা উপজেলার কচুড়িয়া এলাকার ইসলাম শেখের মেয়ে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে মুসলিমা বাড়ির পাশের জাহাঙ্গীর শেখের বাড়িতে তার ছোট মেয়ের সঙ্গে খেলছিল। কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে মুসলিমা নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে রাত আনুমানিক ৭টার দিকে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে জাহাঙ্গীর শেখের পানের বরাজের পাশে কলাগাছ দিয়ে ঢাকা অবস্থায় একটি বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পান। মরদেহটি শিশু মুসলিমার বলে শনাক্ত করেন স্বজনরা। স্থানীয়দের দাবি, শিশুটির গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতার একটি অংশ জাহাঙ্গীর শেখের বাড়ি ও পানের বরাজে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে স্থানীয়রা জানান। খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আইরিন। আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। এ সময় নিহত মুসলিমার মা লায়লি বেগম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন আইরিনকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি তার মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় জনগণও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান। এদিকে শিশুটিকে খোঁজার সময় জাহাঙ্গীর শেখের আচরণ নিয়েও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। নিহত শিশুর বাবা ইসলাম শেখের দাবি, তিনি জাহাঙ্গীর শেখের এলাকায় গিয়ে মেয়েকে খুঁজতে চাইলে জাহাঙ্গীর তাকে সেখানে খোঁজাখুঁজি না করে থানায় যাওয়ার কথা বলেন। ইসলাম শেখের ভাষ্য, “আমি ওখানে খুঁজতে গেলে জাহাঙ্গীর আমাকে বলে—আমি ভাড়া দিচ্ছি, এখানে খোঁজা লাগবে না; তোমরা মোল্লাহাট থানায় যাও।” তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।

