ক্ষমতার দাপটে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন স্থানীয় এক ভ্যানচালকের ডান চোখে গাড়ির চাবি দিয়ে আঘাত করেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করলে ক্ষতস্থানে চারটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার বিচারের দাবিতে স্থানীয় জনতা ও ভ্যানচালকেরা মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পৌর এলাকার বারইখালী ফেরিঘাট এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। স্থানীয় থানা পুলিশ পুরো বিষয়টি জানলেও অজ্ঞাত কারণে চুপ রয়েছে তারা। মানববন্ধনে স্থানীয়রা জানান, মোড়লগঞ্জ পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে এবং ৯ ভাইয়ের ঐক্যবদ্ধ অপশক্তির ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাধারণ জনতা। তাদের ভয়ে এলাকায় মুখ খুলতে সাহস পায় না কেউ। এদের অপশক্তির কাছে নষ্ট হতে চলেছে ভ্যানচালক রবিউলের চোখ। রাস্তার পাশে ভ্যান রাখাকে কেন্দ্র করে সে যতটা নোংরামি করেছে, তাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। দ্রুত মিলনের বিচার দাবি করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে কান্না জড়িত কন্ঠে আসাদুজ্জামান মিলনের বিচার দাবি করেন ভ্যানচালক রবিউলের জোসনা বেগম। স্থানীয় ভ্যানচালক মিজান হাওলাদার, এনাম ফকির, জাহিদ খান, শিমুল কাজী, রবিউল কাজী, আসলাম হোসেন, সোহেল কাজী, শরিফুল শেখ, এমদাদুল তালুকদার, আলম শেখ, রুস্তম তালুকদার, পলাশ কাজী, শাওন শেখ, সাদ্দাম শেখ, রফিকুল মাতুক্বার, লুতফার হাওলাদার, মিরাজ তালুকদার, চম্পা বেগমসহ মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আসাদুজ্জামান মিলনের বিচার দাবি করেন। তারা আরো বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে রাস্তায় ভ্যান রাখাকে কেন্দ্র করে আসাদুজ্জামান মিলন ভ্যানচালক রবিউলের চোখের মধ্যে গাড়ির চাবি দিয়ে আঘাত করে। ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে পুরো বারইখালী এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। কয়েকজন ভ্যানচালকসহ স্থানীয় কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করে। পুরো দুই ঘন্টা ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে। দাম্ভিকতার সাথে বলতে থাকে, এখানে আমি যা বলব তাই হবে, কাউকে কর দেবো না, কাউকে ছেড়ে দেবো না ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আরো বলেন, তাদের ৯ ভাই ও সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে প্রতিনিয়ত হেনস্থার শিকার হচ্ছে স্থানীয়রা। ভ্যানচালক রবিউলের বিষয়টি এখনো পর্যন্ত মোড়েলগঞ্জ থানা পুলিশ আমলে নেয়নি। মিলনের বিরুদ্ধে দলীয় স্বার্থে সাংগঠনিক ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।

