পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বরাদ্দের অভাবে বন্ধ থাকা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু এবং ১০১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণসহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার বাসিন্দারা।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘রাঙ্গাবালী উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চাই’ ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে রাঙ্গাবালীর প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাঙ্গাবালী উপজেলায় প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস। চারপাশে নদী ও সাগরবেষ্টিত এই উপজেলায় এখনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি হাসপাতাল নেই। গুরুতর অসুস্থ রোগী, প্রসূতি নারী ও দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথ পাড়ি দিয়ে গলাচিপা, পটুয়াখালী সদর কিংবা ঢাকায় যেতে হয়। এতে জরুরি চিকিৎসা পেতে দীর্ঘ সময় লাগে। অনেক সময় পথেই রোগীর মৃত্যু হয়। বক্তারা আরও বলেন, রাঙ্গাবালীর স্বাস্থ্যসেবা দীর্ঘদিন ধরে নাজুক। উপজেলায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক, আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা, অপারেশন থিয়েটার, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও অ্যাম্বুলেন্স বোট নেই। সাগরে দুর্ঘটনার শিকার জেলে কিংবা সাপে কাটা রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগও সীমিত।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুলাই যোদ্ধা ও বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টির সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম বলেন, প্রসূতি নারীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীপথে নিয়ে যেতে হয়। অনেক সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মা ও শিশুর মৃত্যু ঘটে। রাঙ্গাবালীর মানুষও নিরাপদ ও উন্নত চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রাখেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। মানববন্ধনে বক্তারা রাঙ্গাবালীর যোগাযোগব্যবস্থার সংকটও তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়নে পর্যাপ্ত পাকা সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নেই। রাঙ্গাবালী থেকে কলাপাড়া ও গলাচিপার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগও নেই। বড় নদী পারাপারে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝুঁকিপূর্ণ ট্রলার ও ছোট নৌযানের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে জরুরি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো—রাঙ্গাবালীতে দ্রুত ১০১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও অপারেশন থিয়েটারের ব্যবস্থা করা; ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু করা; সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও অ্যাম্বুলেন্স বোট চালু করা; উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাকা সড়ক, সেতু ও নিরাপদ নৌযোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং রাঙ্গাবালীর আওতাধীন সব এলাকায় বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করা। মানববন্ধনে মোহাম্মদ খোকন, মো. লিকন, নুরুল হুদা, মো. আনোয়ার, অ্যাডভোকেট সাহারুল হাওলাদার, মোহাম্মদ নাহিদ হাসান, মারুফ আলম, মাইনুদ্দিন সুমন, মোহাম্মদ সাগর, মো. রাসেল, রাজু মৃধা, মোহাম্মদ সাকন ও মোহাম্মদ ইলিয়াসসহ রাঙ্গাবালীর বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, চিকিৎসা ও যোগাযোগসহ মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে রাঙ্গাবালীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।

