নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপ সামনে রেখে কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছে পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল। চলতি মাসের শেষ দিকে দুবাইয়ে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে ভালো করতে এবার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুরুষ ক্রিকেটারদের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে তারা।
লাহোরের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে (এনসিএ) আয়োজিত প্রস্তুতি ক্যাম্পে আবদুল কাদির ক্রিকেট একাডেমির কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্ক ক্রিকেটারদের নিয়ে গঠিত পুরুষ দলের বিপক্ষে ম্যাচগুলো খেলে পাকিস্তান। এগুলো ছিল কোনো পরিস্থিতিভিত্তিক অনুশীলন নয়; বরং পুরো ২০ ওভারের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চাপ সামলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা বাড়াতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা মনে করেন, এই ম্যাচগুলো এশিয়া কাপের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ছেলেদের বিপক্ষে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তারা চাপের মধ্যে খেলেছেন, যা টুর্নামেন্টে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজে দেবে।
সাম্প্রতিক সময়ে টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের পারফরম্যান্সে ভাটা পড়েছে। চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাঁচ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পেয়েছিল দলটি।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার পাশাপাশি ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফিল্ডিং ও চাপ সামলাতে ব্যর্থতার জন্যও সমালোচিত হয় পাকিস্তান।
বিশ্বকাপে অবশ্য পাকিস্তানের অন্যতম উজ্জ্বল পারফর্মার ছিলেন ফাতিমা সানা। ১১ উইকেট নিয়ে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ফাস্ট বোলার হন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৫ রানের ইনিংসও খেলেন তিনি। বিশ্বকাপে তার ব্যাটিং গড় ছিল ২১.২৫ এবং স্ট্রাইক রেট ১১০.৩৮।
চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকার ওপর এবার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে পাকিস্তান। সানা বলেন, বড় টুর্নামেন্টে চাপ কীভাবে সামলাতে হয়, সেটি বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তুতি ম্যাচগুলো তাদের সেই জায়গায় উন্নতি করতে সাহায্য করেছে। সংকটময় সময়ে আতঙ্কিত না হয়ে নিজেদের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও সামর্থ্যের ওপর আস্থা রেখে খেলার বার্তাই সতীর্থদের দিয়েছেন অধিনায়ক।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জুলাই-আগস্টে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলেননি সানা। দ্য হান্ড্রেডে অংশ নিতে তিনি জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন। বার্মিংহাম ফিনিক্সের হয়ে রিপ্লেসমেন্ট ড্রাফটে সুযোগ পাওয়া এই অলরাউন্ডার এবার এশিয়া কাপের আগে আবারও টি-টোয়েন্টি দলে ফিরেছেন।
দীর্ঘ এক দশক ধরে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠতে পারেনি পাকিস্তান। সর্বশেষ আসরে সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল তারা। এবার সেই হতাশা কাটিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে ফাইনালে ওঠাই পাকিস্তানের লক্ষ্য।

