ক্যাডেট এএসআই পদে নিয়োগ জালিয়াতি, ভূয়া প্রবেশপত্র প্রস্তুত ও কোটি টাকার অবৈধ অর্থ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ফায়ার সার্ভিসের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিককে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা দিয়ে জেল খাটানোর নেপথ্য কারণ ও সত্যতা বেরিয়ে এসেছে।
গ্রেপ্তারকৃত কর্মকর্তারা হলেন— ফায়ার সার্ভিস রংপুর বিভাগের উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. বাদশা মাসুদ আলম (পিআইএন-১০০১৩১) এবং সাভারের জিরাবো মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. নুরুল ইসলাম।
প্রাপ্ত অফিশিয়াল নথি থেকে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:২৭ মিনিটে রংপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষকে ডিএডি মো. বাদশা মাসুদ আলমকে ডিবি পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি জানান।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স রংপুর বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. আনোয়ারুল হক স্বাক্ষরিত এক বিশেষ চিঠিতে (স্মারক নং: ৫৮.০৩.৫৫০০.০০০.০০২.১৬.০০১.২৬-৮৭৬) বিষয়টি ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, রংপুর বিভাগের চলমান ক্যাডেট এএসআই নিয়োগ পরীক্ষায় অবৈধ আর্থিক লেনদেন এবং লিখিত পরীক্ষায় ভূয়া প্রবেশপত্র প্রদানের মাধ্যমে প্রক্সি পরীক্ষার্থী বসানোর সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকায় ডিএডি বাদশা মাসুদকে ডিবি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকায় সাভারের জিরাবো ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার নুরুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবি পুলিশ সূত্র জানায়, রংপুর বিভাগে ফায়ার সার্ভিসের নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে একটি বড় ধরনের প্রতারক চক্র গড়ে উঠেছিল। চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভুয়া প্রবেশপত্র তৈরি ও পরীক্ষায় জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে প্রাথমিক তদন্তে।
সাংবাদিককে হয়রানি ও সত্যের জয়:
উল্লেখ্য, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের এই নিয়োগ বাণিজ্য ও অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটের দুর্নীতি নিয়ে সম্প্রতি বিস্তারিত অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন দৈনিক ঢাকা প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি হাফিজুর রহমান (এইচ আর শফিক)। সংবাদ প্রকাশের পর দুর্নীতি ঢাকতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দিয়ে এই সাংবাদিককে গ্রেপ্তার ও কারাবন্দী করায়।
ডিবি পুলিশের হাতে দুই কর্মকর্তা সশরীরে গ্রেপ্তার এবং প্রাতিষ্ঠানিক নথিতে জালিয়াতির কথা স্বীকার করার পর সচেতন মহল বলছেন, ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সংবাদকর্মীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে দুর্নীতি সাময়িকভাবে ধামাচাপা দেওয়া গেলেও সত্যকে কখনো রুদ্ধ করা যায় না। সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিকের অনুসন্ধানী রিপোর্ট যে শতভাগ বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য ছিল, তা ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তার নিজের দপ্তর থেকেই ইস্যু করা চিঠিতে প্রমাণিত হলো।
গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজ এই ঘটনায় জড়িত পুরো নিয়োগ বাণিজ্যের নেপথ্য কারিগরদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং সাংবাদিক শফিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

