ঢাকাSunday , 26 July 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অলিম্পিক প্রস্তুতি শুরু নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস থেকেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

Link Copied!

দেশের তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে এনে অলিম্পিক পদক জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, এই প্রস্তুতির ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস।

রোববার (২৬ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার নিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কয়েক দিন আগে তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, বাংলাদেশ অলিম্পিকে কবে পদক পাবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ শুরু করেছে। রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। পাঁচ, ১০ বছর কিংবা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। তবে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের অলিম্পিয়ান তৈরি করা হবে।

তিনি জানান, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আটটি ইভেন্ট থেকে বাছাই হওয়া প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সরকারি খরচে বিকেএসপিতে পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। সাভারের বিকেএসপির পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ের শাখাগুলোও শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে এসব খেলোয়াড়কে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়।

আমিনুল হক বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে, যারা সুযোগের অভাবে নিজেদের বিকাশ ঘটাতে পারেনি। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে তারা জাতীয় স্টেডিয়াম, জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্স ও আন্তর্জাতিক মানের ইনডোর স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে।

তিনি জানান, গত ২ মে সিলেট থেকে একযোগে ৬৪ জেলায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় শেষে এখন জাতীয় পর্ব চলছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন। প্রথম আসরের ফাইনাল শেষ হওয়ার আগেই দ্বিতীয় আসরের জন্য ১ জুলাই থেকে অনলাইন নিবন্ধন শুরু হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এশিয়ান গেমসের পর আর্চারি, শুটিং, সাঁতার ও বক্সিংয়ের মতো সম্ভাবনাময় ইভেন্টগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। টুর্নামেন্টের আগে নয়, সারা বছর প্রশিক্ষণের মধ্যেই খেলোয়াড়দের রাখা হবে, যাতে ভবিষ্যতে অলিম্পিকের মতো আসরে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।

তিনি বলেন, খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও ডিভাইস আসক্তি থেকে দূরে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি দেশের চার হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণ এবং জেলা শহরের মাঠগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার কোনো সরকারি অর্থ ব্যয় ছাড়াই এবং দুর্নীতিমুক্তভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বিগত সরকার যেভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচারকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিল, আমরা সেই দুর্নীতি দমন করে বিনা খরচে ও দুর্নীতিমুক্তভাবে বিশ্বকাপ বাংলাদেশের মানুষের কাছে উপহার দিতে পেরেছি।’

বাংলাদেশ কবে ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট কোনো সময় বলা সম্ভব নয়। তবে পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু হয়েছে এবং একদিন বাংলাদেশও বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে খেলবে, সেই স্বপ্ন তিনি নিজেও দেখেন।

বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচারের জন্য তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে তথ্যমন্ত্রীর কাছে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই এবার বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচার সম্ভব হয়েছে। এ সাফল্যের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফল।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ সম্প্রচার শুধু বিনা খরচেই নয়, বিজ্ঞাপন বাজার থেকে সরকারের আয় করার মতো লাভজনক উদ্যোগে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসসহ বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নেতৃত্বে খেলাধুলায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এসময় উপস্থিত ছিলেন।