নারী ও কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় (এসআরএইচআর) স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সেবার মান উন্নয়নে নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। এ প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুর ও নীলফামারী জেলার ১৬টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে সেবাদান প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি অনিয়ম চিহ্নিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সুশাসন জোরদারে কাজ করা হবে।
রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। ‘স্ট্রেনদেনিং ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি ইন সেক্সুয়াল অ্যান্ড রিপ্রোডাকটিভ হেলথ সিস্টেমস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচিতি ও পরামর্শ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিগত সময়ে অপশাসনের কারণে স্বাস্থ্য খাত দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছিল। জনগণের অর্থের অপচয় হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। এ বাস্তবতায় টিআইবির নতুন প্রকল্প সরকারের উদ্যোগ আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায় থেকে নীতিনির্ধারণী পর্যায় পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) ড. সৈয়দা নওশীন পর্ণিনী বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিত করতে এ প্রকল্প সময়োপযোগী উদ্যোগ। পাইলট প্রকল্প হিসেবে নীলফামারী ও লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন যৌক্তিক হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিন্নাত রেহানা বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে চিহ্নিত সমস্যাগুলো সরকারের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হলে শুধু নির্বাচিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র নয়, অন্যান্য কেন্দ্রেও একই ধরনের সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হবে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত পরিসরে বাস্তবায়িত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য খাতে সেবার গুণগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি শুদ্ধতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও এর প্রকৃত সুফল পেতে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যয় নিশ্চিত করা জরুরি।
কর্মশালায় প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রকল্প সমন্বয়ক ড. মুশফিকা মিজান। পরে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম, সেবাগ্রহীতাদের অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে মতবিনিময় হয়। এতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা মনিটরিং পদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বিষয়ে মতামত দেন।
টিআইবি জানায়, প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সেবাগ্রহীতাদের মতামত সংগ্রহ, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে সভা আয়োজন এবং স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক অধিপরামর্শ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সুইডিশ সরকারের অর্থায়নে এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল গ্লোবাল হেলথের সহযোগিতায় পরিচালিত বহুদেশীয় এ প্রকল্প বাংলাদেশ ছাড়াও জাম্বিয়া, ইকুয়েডর ও তিউনিসিয়ায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।

