ঢাকাSunday , 19 April 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ব্যাপক ক্ষতি আম ও ফসলের
কালবৈশাখির তাণ্ডবে লন্ডভন্ড মেহেরপুর

Link Copied!

মেহেরপুরে আকস্মিক কালবৈশাখি ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে জেলার বিভিন্ন এলাকা। মাত্র আধা ঘণ্টার দমকা হাওয়ায় ভেঙে পড়েছে শত শত গাছপালা, কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি, এমনকি উপড়ে গেছে বিদ্যুতের বড় বড় খুঁটিও। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শুরু হওয়া এই ঝোড়ো হাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলার তিনটি উপজেলা। অনেক বাড়ির চালা উড়ে গেছে, কোথাও আবার গাছ পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ। জোড়পুকুরিয়া গ্রামের চা দোকানী বলেন, আধা ঘন্টার ঝড়ে আমার একমাত্র সম্বল দোকানটি উড়ে গেছে। এছাড়া জোড়পুকুরিয়া গ্রামের অন্তত ২০/২৫ টি ঘর ভেঙে গেছে। উড়ে গেছে অনেকের ঘরের চাল। ঝড়ের তাণ্ডবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন আমচাষিরা। বাগানজুড়ে মাটিতে পড়ে আছে ঝরে পড়া আম। অনেক আম ফেটে নষ্ট হয়ে গেছে। চাষিদের দাবি, তাদের বাগানের প্রায় অর্ধেক আম ঝড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। চেংগাড়া গ্রামের আমচাষী রহিম বলেন, আমার তিন বিঘা জমিতে আম বাগান আছে। গতকালের কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় ৩০-৩৫ ভাগ আমের গুটি ঝোরে পড়েছে। শুধু আমি না, এলাকার সকল আমচাষী এবং বাগান মালিকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অন্যদিকে মাঠের ভূট্টা ফসলেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক ক্ষতি। ঝোড়ো হাওয়ায় ফসল নুয়ে পড়ে অনেক জায়গায় নষ্ট হয়ে গেছে। ঝড়ের প্রভাবে জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। টানা ১২ঘণ্টা অন্ধকারে আছে পুরো মেহেরপুর। চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস জানায়, রাত সাড়ে ৮ থেকে ১১টার মধ্যে জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। রবিবার সকালে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মেহেরপুর-কুষ্টিয়া ও গাংনী-হাটবোয়ালীয়া সড়কে ভেঙে পড়া গাছ সরাতে কাজ করছেন স্থানীয়রা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক (ডিডি) সঞ্জীব মৃধা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে প্রায় ২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে আমবাগানগুলো অধিকাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে কিছুদিন যাবৎ বৃষ্টিপাত না হওয়াতে আমের গুটিগুলো বোটাগুলো শক্ত হয়ে গেছিল। তিনি আরও জানান, গতকালকের কালবৈশাখী ঝড়ে জেলায় ৬০৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে,ভূট্টা, আম, লিচু ও বিভিন্ন সব্জি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ শুরু করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লোকজন। মোট ক্ষতির পরিমাণ এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে মেহেরপুর পল্লী বিদুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার ( জিএম) স্বদেশ কুমার জানান, কাল বৈশাখী ঝড়ে প্রায় ১৫ টি পোল ভেঙ্গে গেছে, হেলে পড়েছে ১৬ টি পোল ও ক্রসা আর্ম ভেঙ্গে গেছে ১৪ টি খুটি, মিটার ভেঙেছে ৩৫০ টি, এবং তার ছিড়ে গেছে ৫০ টি স্পষ্টে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ নিরাবাচ্ছিন রাখতে কর্মকর্তা, কর্মচারী সকলেই মাঠে কাজ করছি। অল্প কিছু সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ দিতে পারবো বলে আশা করছি। গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরী করে সাধ্যমত দাঁড়ানো হবে।