পরিবারের স্বপ্ন বুকে নিয়ে, দুই কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় মাত্র এক বছর আগে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন শাফিউল ইসলাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ পরিণত হয়েছে গভীর শোকের এক নিঃশব্দ গল্পে। একটি দুর্ঘটনায় নিভে গেছে তার জীবনের আলো। মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের আবুল ফজলের ছেলে শাফিউল কাজ করতেন সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ শহরের একটি বহুতল ভবনে। কর্মস্থলে অসাবধানতাবশত উপর থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কিং খালেদ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। জীবন-মৃত্যুর লড়াই শেষে গত ২৩ মার্চ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রবাসী শ্রমিক। তার মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছাতেই কসবা গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। স্ত্রী, দুই কন্যা, বাবা-মা ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দীর্ঘ ২৫ দিন পর, শুক্রবার দিবাগত রাতে তার মরদেহ পৌঁছায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখান থেকে শনিবার ভোরে তাকে নিয়ে আসা হয় নিজ গ্রাম কসবায়। প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো দেখতে ছুটে আসেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। বুকফাটা কান্নায় চারপাশ যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। শনিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে কসবা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, শাফিউল ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ। দেশে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। সংসারের অভাব ঘোচাতে, দুই মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রবাসে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিণতিতে তাকে ফিরতে হলো নিথর দেহ হয়ে। প্রতিবেশী আবু রাইহান বলেন, “শাফিউল খুব ভালো মানুষ ছিল। বড় মেয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে, ছোটটি প্রথম শ্রেণিতে। মেয়েদের মানুষ করতেই সে বিদেশে গিয়েছিল।” বাবা আবুল ফজলের কণ্ঠে শুধু হাহাকার। তিনি বলেন, “আমাদের স্বপ্ন ছিল, ছেলে আমাদের ভালো রাখবে। সে কষ্ট করে বিদেশে গেল, কিন্তু আমরা ভাবিনি সে এভাবে ফিরে আসবে। এখন তার দুইটা ছোট মেয়ে নিয়ে কীভাবে চলবো, বুঝতে পারছি না।” গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পরিবার চাইলে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

