ঢাকাWednesday , 8 April 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অজিত দোভালের নৈশভোজে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আস্থার নতুন ভিত্তি গড়ার লক্ষ্য

Link Copied!

ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপড়েন কাটিয়ে নতুন করে সম্পর্ক শুরুর অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে নৈশভোজে আপ্যায়ন করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর কয়েক ঘণ্টা পরই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সফরকে পারস্পরিক আস্থা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে তারেক রহমান সরকারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখছে ভারত।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, জাতিসংঘের এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর প্রথম মন্ত্রী হিসেবে ভারত সফর করেছেন। তার প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, অজিত দোভাল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খলিলুর রহমানের সঙ্গে এই বৈঠকটি ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সৃষ্টি হওয়া তিক্ততা কাটিয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ।
তবে দোভাল ও খলিলুর রহমানের মধ্যে হওয়া প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক এবং নৈশভোজ সম্পর্কে কোনো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হিন্দুস্তান টাইমসের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির দুই দেশের সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নতির লক্ষ্যে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বৈদেশিক বিষয়ক সেলের সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দোভাল ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মতো নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ‘মর্যাদা, পারস্পরিক আস্থা, সম্মান এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়নের’ ওপর জোর দেবে ঢাকা। এই সফর দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরো ফলপ্রসূ ও টেকসই পর্যায়ে উন্নীত করার ক্ষেত্রে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি’ স্থাপন করবে বলে বিবৃতিতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ বুধবার ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ও জ্বালানিমন্ত্রী হারদীপ সিং পুরীর সঙ্গেও খলিলুর রহমানের দেখা করার কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে তৈরি হওয়া জ্বালানিসংকট মোকাবেলায় ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পুরীর সঙ্গে বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈঠকের অন্যান্য প্রধান আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে—পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতের ভিসা বিধি-নিষেধ শিথিল করা, ভারতের স্থল ও সমুদ্রবন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির সুযোগ পুনরায় চালু করা (যা ২০২৫ সালে সম্পর্কের অবনতির সময় সীমিত করা হয়েছিল), আগামী ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং সীমান্তে বিএসএফের আগ্রাসন।

ভারতীয় পক্ষ জোর দিয়ে বলেছে, সীমান্তরক্ষীরা চোরাকারবারি ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের পরিবর্তে তাদের আটক করে আইনের আওতায় আনা উচিত।

এর আগে সোমবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তারা দুই দেশের জাতীয় উন্নয়নের অগ্রাধিকার অনুযায়ী ‘জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা’ নিয়ে আলোচনা করেন। ওই আলোচনায় পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে একটি ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি’ গ্রহণ করে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন ভার্মা।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই আলোচনা বা সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মূলত গত কয়েক মাসে বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় এস জয়শঙ্করের উপস্থিতি এবং ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার অংশগ্রহণ এই দৃষ্টিভঙ্গিরই ধারাবাহিকতা।

এর আগে গত সোমবার হুমায়ুন কবির ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুই পক্ষেরই অতীতের ভুল করা উচিত হবে না। যে অতীতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ছিল শুধু একজন ব্যক্তির। এখন বরং নতুন সম্পর্ক গড়ার জন্য এগিয়ে যাওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘এই সম্পর্ক হওয়া উচিত জনগণে-জনগণে। ভারতও এটি চায় এবং আমরাও এটিই চাই। আমাদের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা ও যোগাযোগ থাকতে হবে… যাতে আমরা চ্যালেঞ্জিং ইস্যুগুলো সমাধান করতে পারি।’

তিনি আরো বলেন, ‘অতীতের তিক্ত সম্পর্কের সুস্পষ্ট সমাপ্তি টানা উচিত। এই সম্পর্ক এখন আর ভারত ও শেখ হাসিনার মধ্যকার সম্পর্ক হতে পারে না। বাংলাদেশে হাসিনার কোনো অস্তিত্ব নেই; রাজনৈতিকভাবে তার মৃত্যু অনেক আগেই হয়েছে। বাংলাদেশে এখন কোনো হাসিনা বা আওয়ামী লীগ নেই।’