বাগেরহাটের শরণখোলায় ফাতেমা আক্তার রিয়া মনি (১৫) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের মধ্য রাজৈর গ্রামের হাওলাদার বাড়ির মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানের পাশের রাস্তা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, সকালে ফজরের নামাজ পড়ে বের হবার পরে মসজিদের সামনের কবরস্থানের পাশের ইটের রাস্তায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন মুসল্লিরা। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে শরণখোলা থানা পুলিশ। দুপুরের দিকে বাগেরহাটের সিআইডি ও পিবিআই কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত রিয়া মনির বাবার বাড়ি বাক্ষ্মনবাড়িয়ায়। ওই কিশোরী ছোটবেলা থেকেই খোান্তাকাটা গ্রামে তার খালাতো নানী হালিমা বেগমের কাছে থাকতো। তার মা হনুফা বেগম এবং বাবা আজিম শেখ জীবিকার তাগিদে চট্রগামের থাকেন। আগেরদিন সোমবার রাত থেকেই নিখোঁজ ছিল ওই কিশোরী। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মো. দেলোয়ার ফরাজী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির জানান, ওই কিশোরী প্যান্ট-শার্ট পরে ছেলেদের বেশে বেপরোয়া চলাফেরা করতো। এলাকার উঠতি মাদক কারবারী ও সেবনকারীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। মাদকসংক্রান্ত কারণে হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহতের নানী হালিমা বেগম জানান, তার নাতনী রিয়া মনি সোমবার রাতে বাড়িতে না যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাকে পাওয়া যায়নি। সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি তার নাতনীর বলে শনাক্ত করেন তিনি। তবে কে বা কারা কী কারণে তার নাতনীকে হত্যা করেছে তা বলতে পারছেন না। হত্যাকা-ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন নানী হালিমা বেগম।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামিনুল হক বলেন, মধ্য রাজৈর গ্রামের একটি মসজিদের সমানের রাস্তা থেকে কিশোরীর গলাকাটা মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় সিআইডি ও পিবিআই কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হত্যার কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

