মায়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রথমবারের মতো সোমবার পার্লামেন্ট অধিবেশনে বসেছে, যেখানে সেনা সমর্থিত নির্বাচনে জয়ী হওয়া জান্তাপন্থী আইনপ্রণেতারা উপস্থিত ছিলেন বলে এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।
সংসদ সদস্যদের বেশিরভাগই সামরিকপন্থী ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি সদস্যদের অধিকাংশই সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করছেন, যাদের জন্য সংবিধান অনুযায়ী সংসদের এক-চতুর্থাংশ আসন সংরক্ষিত।
পিপলস অ্যাসেম্বলিতে সোমবার সকালে অধিবেশন শুরু হয় এবং ইউএসডিপি নেতা খিন ইকে স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। ২০২০ সালের নির্বাচনে অং সান সু কির দল বিপুল জয় পেলেও সামরিক জান্তা ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিল করে। এরপর নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সু কিকে আটক করা হয়, তার দল ভেঙে দেওয়া হয় এবং দেশটি গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
পাঁচ বছর সামরিক শাসনের পর জান্তা গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ধাপে ধাপে পুনর্নির্বাচনের আয়োজন করে। গণতন্ত্রপন্থী পর্যবেক্ষকরা জানান, নির্বাচনের সমালোচনা নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং ব্যালটে জান্তার বেসামরিক মিত্রদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন
হরমুজ প্রণালি সুরক্ষায় মিত্ররা সাহায্য না করলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ খারাপ হবে : ট্রাম্প
জান্তা-সমর্থিত নির্বাচনে নির্বাচিত এমপিরা সংসদে বসার সময় ২০২০ সালের নির্বাচিত কিছু নির্বাসিত সংসদ সদস্য সমান্তরাল অধিবেশন করে দাবি করেন, তাদের ঘোষিত ‘ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট’ (এনইউজি) এখনো দেশের বৈধ নেতৃত্ব।
ছায়া সরকারের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দুয়া লাশি লা অনলাইন বৈঠকে বলেন, ‘এই ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতারণামূলক প্রতিনিধিত্ব দেখিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা আমরা দেখছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘অভ্যুত্থান কমিশন যেকোনো উপায়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করছে। এটিকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়।’ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশের বড় বড় এলাকায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মূলত সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করছে এবং তাদের মাধ্যমে সামরিক শাসনকে বৈধতার আবরণ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং সামরিক পোশাক ছেড়ে বেসামরিক প্রেসিডেন্টের পদ গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন, যাতে আগামী মাসে নতুন সরকার গঠনের সময় তিনি নেতৃত্ব দিতে পারেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের ভোটে, যেখানে অধিকাংশ সদস্যই হয় সামরিক বাহিনীর সমর্থক, নয়তো সরাসরি বাহিনীর সদস্য। সোমবারের সংক্ষিপ্ত অধিবেশন শেষে স্পিকার খিন ই এএফপিকে বলেন, ‘কে প্রেসিডেন্ট হবেন তা অনুমান করা অসম্ভব।’
সোমবার সকালে হালকা সবুজ সামরিক পোশাক পরা সেনা সদস্যরা সংসদীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে ভিড় করেন, তবে তারা গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।
এএফপির সাংবাদিকরা সংসদ ভবনে মিন অং হ্লাইংকে দেখতে পাননি।

