নোয়াখালীর হাতিয়াতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নেওয়ার পর স্বামী পরিত্যাক্তা এক নারী গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ মার্চ) রাতে এ ঘটনায় ৩ জনকে আসামি করে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার নলচিরা ইউনিয়নের কলাপাড়া এলাকার একটি তরমুজ খেতের পাহারার টংঘরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী তিন সন্তানের জননী এবং তিনি স্বামী পরিত্যাক্তা। এর আগে তার ৩ টি বিয়ে হয়েছিল। প্রথম সংসার প্রায় ১৮ বছর টিকেছিল, দ্বিতীয়টি ৩ বছর এবং সর্বশেষ বিয়েতে প্রায় এক বছর সংসার করেন। বর্তমানে তিনি আবার বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজছিলেন। কিছুদিন আগে ওই নারী তার পরিচিত এক ব্যক্তিকে তার জন্য নতুন করে আরেকটি পাত্র ঠিক করে দিতে বলেন। পরে ওই ব্যক্তি একটি মোবাইল নম্বর দিলে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। যোগাযোগ করলে ওই ব্যক্তি বিয়ের কথা বলে বাইরে দেখা করার প্রস্তাব দেয় এবং জানায় তাকে খালার বাসায় নিয়ে যাবে। বিয়ের প্রলোভনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই ব্যক্তি আফাজিয়া বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে নারীকে নলচিরা ইউনিয়নের কলাপাড়া এলাকার একটি তরমুজ খেতের পাহারার টংঘরে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা আরও ২ জনসহ ৩ জন মিলে তাকে আটকে রেখে গণধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের নাম-পরিচয় পুলিশকে জানিয়েছেন। তবে বাকি ২ জনের পরিচয় তিনি জানাতে পারেননি। এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৩ জনকে আসামি করে মামলা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের নাম-ঠিকানা জানা গেছে। অন্য দুইজনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। নির্যাতনের শিকার নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে।

