ঢাকাMonday , 9 March 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলে বাড়ছে চা চাষের পরিধি
উৎপাদনে টানা দ্বিতীয় অবস্থানে সমতল অঞ্চল

Link Copied!

পঞ্চগড়সহ দেশের উত্তরাঞ্চলে ক্রমাগত বাড়ছে চা চাষের পরিধি। গত দুই বছর ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পেছনে ফেলে উন্নতমানের চা উৎপাদনে টানা দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে এই অঞ্চল। গত চা মৌসুমে ২০২৪ সালের তুলনায় ৫৮ দশমিক ০১ লাখ কেজি বেশি চা উৎপাদন হয়েছে। পাশাপাশি চায়ের মান ভালো হওয়ায় নিলাম বাজারেও প্রতিযোগিতা বেড়েছে। লাভজনক হওয়ায় গত কয়েক বছরে পঞ্চগড়ের পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট জেলাতেও চা চাষের প্রসার ঘটেছে। বাংলাদেশ চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের সমতল ভূমিতে মোট দুই কোটি দুই লাখ ৪২ হাজার ৫২ কেজি তৈরি চা (মেড টি) উৎপাদিত হয়েছে। এ সময় পঞ্চগড় জেলার ৩০টি এবং ঠাকুরগাঁও জেলার একটি চা কারখানায় উৎপাদিত ৯ কোটি ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ৬১১ কেজি সবুজ চা পাতা প্রক্রিয়াজাত করে এই চা তৈরি করা হয়। চা সংশ্লিষ্টদের মতে, শুরুতে সবুজ চা পাতার দাম ভালো থাকায় জেলার সমতলের কৃষকেরা অধিক লাভের আশায় অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে চা চাষ শুরু করেন। তবে এক সময় চা কারখানা মালিকদের একটি সিন্ডিকেট কাঁচা চা পাতার দাম কমিয়ে ৭ টাকা কেজিতে নামিয়ে দেয়। এতে বহু চাষি দীর্ঘদিন লোকসানের মুখে পড়েন এবং অনেকেই চা বাগান তুলে আগের কৃষিকাজে ফিরে যান। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে সিন্ডিকেট ভেঙে গেলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। চা পাতার দাম বাড়তে শুরু করে এবং চাষিরা আবার নতুন করে চা চাষে আগ্রহী হন। বর্তমানে কারখানাগুলো কাঁচা চা পাতা ৩২ থেকে ৩৭ টাকা কেজি দরে কিনছে। চলতি মৌসুমের শুরুতে দাম ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাজারে তা ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা চাষিদের জন্য লাভজনক হয়ে উঠেছে। চা বোর্ডের তথ্যমতে, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলায় চা চাষের পরিধি বাড়ছে। চলতি মৌসুমে এই অঞ্চল থেকে প্রায় আড়াই কোটি কেজি উন্নতমানের চা উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৩০ হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এদিকে গত বছর রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদনের পর পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের সমতল ভূমিতে নতুন মৌসুমে চা পাতা উত্তোলন শুরু হয়েছে। শীতের কারণে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে চা পাতা আহরণ বন্ধ ছিল। মার্চের শুরু থেকে আবার বাগানগুলোতে নতুন পাতা তোলার কাজ শুরু হওয়ায় ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। একই সঙ্গে প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হয়েছে স্থানীয় চা কারখানাগুলো। তবে পূর্ণাঙ্গভাবে মৌসুম শুরু হতে মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ড অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ মৌসুম পর্যন্ত পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলায় মোট ১১ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৮৯ একর জমিতে চা চাষ হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৭৩ দশমিক ২ একর বেশি। এর মধ্যে পঞ্চগড় জেলার পাঁচ উপজেলায় চা আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ৮১৯ দশমিক ৭৩ একর জমিতে। এসব বাগান থেকে গত বছর আট কোটি ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ৪৪০ কেজি সবুজ চা পাতা উৎপাদিত হয়, যা থেকে এক কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৬ কেজি তৈরি চা উৎপাদন করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও জেলায় এক হাজার ৪৫৭ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। সেখানে গত বছর এক কোটি ২৩ লাখ ৬০ হাজার ৩৫৭ কেজি সবুজ চা পাতা থেকে ২৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৬৪ কেজি তৈরি চা উৎপাদিত হয়েছে। এছাড়া লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৩২২ দশমিক ৮৭ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। এসব এলাকা থেকে উৎপাদিত ২০ লাখ ৯৭ হাজার ৮১৩ কেজি সবুজ চা পাতা পঞ্চগড়ের কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করে চার লাখ ৩৪ হাজার ৪২২ কেজি তৈরি চা উৎপাদন করা হয়েছে। চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৪৮টি চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পঞ্চগড়ে ৩০টি এবং ঠাকুরগাঁওয়ে একটি কারখানা চালু রয়েছে। এসব কারখানা চাষিদের কাছ থেকে সবুজ চা পাতা কিনে তা প্রক্রিয়াজাত করে তৈরি চা উৎপাদন করে। পরে সেই চা পঞ্চগড়, চট্টগ্রাম ও শ্রীমঙ্গলের নিলাম বাজারে বিক্রি করা হয়। চা বোর্ডের পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আমির হোসেন বলেন, “পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলের সমতল ভূমিতে চা চাষ এক ধরনের নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে এই চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে।” তিনি আরও বলেন, “লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই চা চাষের পরিধি বাড়ছে। পাশাপাশি উন্নতমানের চা পাতা উৎপাদনের কারণে নিলাম বাজারেও এখানকার চায়ের চাহিদা বাড়ছে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে চলতি মৌসুমে উত্তরাঞ্চল থেকে প্রায় আড়াই কোটি কেজি তৈরি চা উৎপাদন সম্ভব হবে।